চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আমি বিজয় দেখেছি, আজও দেখছি’

‘আমি বিজয় দেখেছি এবং আজও দেখেছি। এই হিসেবে আমি খুবই সৌভাগ্যবান।’ বিজয় দিবসের ৪৭ বছর পূর্তির প্রথম প্রহরে কথাগুলো বলছিলেন নাট্যজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান।

বিজয়ের ৪৭ বছর পূর্তিতে বরাবরের মতো চ্যানেল আই ভবনের চেতনা চত্বর সাজে লাল-সবুজের রঙে। বর্ণিল মঞ্চ, তোরণ আর ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ।

১১টা ৫ মিনিটে জাঁকজমকপূর্ণ এ মেলা’র উদ্বোধন করেন যুদ্ধাহত ও খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধারা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য, চ্যানেল আই’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ সময় লাল-সবুজ বেলুন ওড়ানো হয়।

Advertisement

আর এখানেই বিজয় দিবস নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে আতাউর রহমান বলেন, আমি বিজয় দেখেছি এবং আজও দেখেছি। এই হিসেবে আমি খুবই সৌভাগ্যবান। আমরা যখন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পাকিস্তানি শাসন দ্বারা নিষ্পেষিত তখন ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পরম্পরায় এক মহামানব এলেন। তিনি জাতিকে নিয়ে গেলেন হিমালয়ের শিখড়ে। তার নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেলাম। তার নেতৃত্বের প্রখরতা দেখলাম স্বচক্ষে। কিন্তু তারপর আবার শকুন পড়লো এই বাংলায়। হায়েনার চোখ পড়লো। শক্ত হাতে তা দমন করলেন তার সুযোগ্য কন্যা। আমরা দেখছি তার নেতৃত্বের প্রবলতা। সামনেও বিজয় দেখছি।

এদিকে স্বাধীন বাংলাদেশের মঞ্চ নাটকের পথিকৃৎ ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের যোদ্ধা অভিনেতা ও নাট্য নির্মাতা মামুনুর রশিদ বলেন,স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সেইসময়ে সারা দেশের মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব প্রেণার সৃষ্টি করেছিলো। যারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন তাদেরকে যেমন প্রেরণা যুগিয়েছে এমনকি যারা গৃহ অভ্যন্তরে ছিলেন তাদেরকেও। সেই প্রেরণা এতোদিনে অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে, আমরা আশা করবো আবার খুব দ্রুত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত হতে পারবো।

এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে দেশের গান পরিবেশন করেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, অরূপ রতন চৌধুরী, ফকির আলমগীর, ফরিদা পারভিন, নীলু বিল্লাহ, দিনাত জাহান মুন্নি, অণিমা রায়, কোনাল, সুর বিহার ও সুরের ধারার শিল্পীরা। গাজী আবদুল হাকিমের বাঁশির সুরে ছিল দেশের গান। রেজানুর রহমানের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধের নাটক ‘পোস্ট মাস্টার’ মঞ্চস্থ হয়। আবৃত্তি করেছেন মাহিদুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেছেন মেলায় আগত বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার বিশিষ্টজনেরা।