চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আমি একবার এক হিজড়ার প্রেমে পড়েছিলাম’

গতানুগতিক, প্রচলিত, গৎবাঁধা প্রশ্ন আর আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে এই সাক্ষাতকারে প্রথমবারের মতো হেলাল হাফিজ মন প্রাণ খুলে বলেছেন তাঁর ফেলে আসা জীবনের অনেক সাহসী কথা। যে কথা তিনি অতীতে কখনো কোথাও বলেননি।

তাকে দুই বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি হিসেবে জ্ঞান করা হয়। প্রচার বিমুখ, আলস্য আর নিঃসঙ্গ প্রিয়তায় জগতসংসারের সেরা মানুষের তকমাটি তিনি নিজ গুণে অর্জন করে নিয়েছেন। সংসার না করেও আজন্ম সংসারী।

বিজ্ঞাপন

গত পাঁচ দশকেরও অধিক সময় ধরে নিজের মতো করে এক অপার্থিব জীবন কাটাচ্ছেন- যে জীবন ফড়িঙের, যে জীবন দোয়েলের। শামুকের মতো সবকিছু থেকে গুটিয়ে রাখেন নিজেকে। অন্যদের মতো খুব যে বেশি লেখেন তাও না তবে যা লেখেন তা হয়ে ওঠে সেরারও সেরা।

আজ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’র কবি একাত্তর পেরিয়ে বাহাত্তরে পা দিলেন। জন্মদিনের অনেক শুভাশিস।

এক
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়গুলোতে মাঝে মাঝে অভাব এতটাই ফুলেফেঁপে তীব্র হয়ে উঠত যে তখন অনেক কিছুই করে ফেলতাম। একবার আমি আমার সেরকম অভাবগ্রস্ত দিনে আমাদের দেশের একজন নাম করা এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষক, প্রাবন্ধিকের একটা প্রবন্ধকে কায়দা করে নিজের নামে আরেক পত্রিকায় ছাপিয়ে পাক্কা পচাত্তুর টাকা পারিশ্রমিক বাগিয়ে নিয়েছিলাম। এটা ’৬৭/৬৮ সালের কথা।  তখন একটা কবিতা লিখে আমরা দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশ থেকে পনেরো-বিশ টাকা সম্মানী পেতাম।  তখন শরীফ মিয়ার দোকানে পঞ্চাশ পয়সায় ভরপেটের এক প্লেট বিরিয়ানি পাওয়া যেত। এবার চিন্তা করে দেখো সেই আমলে এই টাকা কত টাকা!

এতকাল ধরে কবিতার রাজপুত্র হেলাল হাফিজকে আদ্যোপান্ত কবি হিসেবেই চিনি, জানি, মানি। সকালবেলা প্রেস ক্লাবে নাস্তা খেতে খেতে তাঁর কথা শুনে মনে হলো, ‘একি শুনি আজি মন্থরার মুখে!’ প্রথমটায় ঘাবড়ে গেলেও পরে ধাতস্ত হওয়ার চেষ্টা করি। তা আর পারি কই! অগত্যা জিজ্ঞেস করে বসলাম, বলেন কি! ‘যে জলে আগুন জ্বলে’র আপনি আরেকজনের প্রবন্ধ চালিয়ে দিলেন নিজের নামে!

হ্যাঁ, তাহলে আর কি বলছি! আমি খুব খেটেখুটে মানে সুন্দর করে প্রবন্ধটা চালিয়ে দিলাম- কথাটা বলে হেলাল হাফিজ তাঁর স্বভাবজাত সরলতায় মোড়ানো হাসি মুখে ধরে রেখেই বললেন, শোন, ঘটনাটা তোমাকে খুলে বলি। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, কবিতা লিখি- আর কবিতার বিল তো চাহিবা মাত্র সাহিত্য সম্পাদক আমার পকেটে গুঁজে দেবেন না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়া, খানাপিনা করার পাশাপাশি কাপ্তান বাজারের নিজামের দোকান কিংবা নারিন্দার মেথর পট্টির হাক্কা’র দোকানে বাংলা চোলাই খাওয়া, চা সিগারেট, এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ানো আর রথখোলা- ইংলিশ রোড- মালিটোলা- ফুলবাড়িয়ার আশেপাশে জমে থাকা বেদনার মতো সুন্দর সুন্দর মেয়েমানুষের কাছে যাওয়ার লোভের ব্যয় নির্বাহ করার সামর্থ্য কুলিয়ে ওঠার হ্যাপা সাধ্যে কুলোত না।

তখনকার দিনে হাতখরচার জন্য দেশগ্রাম থেকে আমার বাবা-মা আর ক’টাকাই বা পাঠাতেন! তখন আমি ইকবাল হলের ছাত্র। একদিন হলের লাইব্রেরিতে দেখলাম বাংলা একাডেমীর এক জার্নালে সেসময়ের খ্যাতিমান সাংবাদিক, লেখক মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহর একটা প্রবন্ধ ‘সমকালীন বাংলা কবিতায় পূর্ব পাকিস্তানের প্রকৃতি’ ( প্রবন্ধের নাম সম্ভবত এরকম ছিল)। প্রবন্ধটা দেখেই আমার মনে হলো তিনি বুঝি বাংলা সাহিত্যের কথা না, আমার অভাবগ্রস্ত দিনের কথা চিন্তা করেই এই প্রবন্ধটা লিখেছিলেন। আমার মাথায় তাৎক্ষনিক বুদ্ধি খেলে গেল। তখনকার দিনে সাহিত্যের পাতায় এরকম ভার- ভারিক্কি চালের লেখার চাহিদা ছিল বেশ। আমি নিশ্চিত এধরনের ঢাউস সাইজের লেখা ছাপা হলে সম্মানীর পরিমাণও নিশ্চয়ই অনেক হবে। আর তখন আমি নিজেও কবিতা লিখে সমকালীন কবিতায় আমার নামের গুরুত্ব সাহিত্যমহলে জানান দিতে সমর্থ হয়েছিলাম। প্রবন্ধ লিখে কবিতার চেয়েও বেশি অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাবনা আমাকে সহসাই অতিমাত্রার জ্ঞানি এবং বুদ্ধিমান মানুষে পরিণত করল।

বিজ্ঞাপন

আমি তখন সেই প্রবন্ধ নিষ্ঠার সঙ্গে রুমে নিয়ে গিয়ে স্বীয় মেধার শতভাগ প্রয়োগ করলাম। মানে লেখাটার আগের প্যারা পরে নিয়ে, পরের প্যারাকে আগে এনে চৌর্যবৃত্তির ষোলআনা ঢেলে দিলাম। শুধু কি তাই! আসন্ন অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনাকে হালাল করতে লেখার আগে পিছে একটু আধটু নিজের সাহিত্য জ্ঞানের ছিটেফোঁটা জুড়ে দিলাম যাতে লেখাটা আগের লেখার চাইতে অধিক প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এখনো মনে আছে আমি সেই প্রবন্ধের একটা নতুন শিরোনামও দিয়েছিলাম। পরে সেটা পাকিস্তানী খবর’র সাহিত্য পাতার সম্পাদক (সুষম আনোয়ার আলী)কে দিলে তিনি আমার লেখাটা সযতনে ছেপে দিয়েছিলেন।  পরের মাসে আমি আমার এই প্রায় চুরি করা প্রবন্ধের জন্য পচাত্তুর টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলাম। এই টাকা পেয়ে সেদিন নিজেকে ঢাকা শহরের রাজা বলে মনে হলো। ক্যাম্পাসে এসে যেসব বন্ধুবান্ধব (এদের মধ্যে বান্ধবীদের সংখ্যা নিতান্ত কম ছিল না) সারাবছর আমাকে ভালোবেসে আপ্যায়ন করে খাওয়াতো তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে কে কী খেতে চায়- বলে খাওয়াতে শুরু করলাম।  আমার এই হঠাৎ দিল দরিয়া টাইপের আচরণে তারা যারপর অবাক হয়ে আমাকে দেখতে থাকল।

আপনি, নির্মলেন্দু গুণ, আবুল হাসান, কায়েস আহমেদ, বুলবুল চৌধুরী- আরও অনেকেই তখন সাহিত্য পরিমণ্ডলে পরিচিত ছিলেন। আপনাদের আড্ডার ধরন-ধারণও নাকি সেরকম ছিল। আমার মুখে ‘সেরকম’ শব্দটা শুনে হেলাল হাফিজ আমার দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, হ্যাঁ, সেরকমই তো ছিল।  আমরা ইউনিভার্সিটির ক্লাস শেষ করে চলে যেতাম আমাদের আড্ডায়। তখন ঢাকা শহর বলতে বোঝাত গুলিস্তান, রমনা, সেগুণ বাগিচা, পুরানা পল্টন, নবাবপুর, কাপ্তান বাজার, নারিন্দা, দয়া গঞ্জ, বংশাল, রথখোলা, ইসলামপুর, ইংলিশ রোড, মালিটোলা, ফুলবাড়িয়া, কোর্ট কাচারি। এতটুকু এক শহর ছিল ঢাকা। আমাদের আড্ডা দিতে যেতাম নারিন্দার মেথর পট্টির হাক্কার দোকানে, কাপ্তান বাজারের ওদিকে একটা সরাইখানার মতো ছিল- সেখানেও খুব যেতাম।

আমাদের সময়ে আমরা ছিলাম কবিতাময়। এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ (আমার হয়ত ভুলও হতে পারে…) গত দুই দশক ধরে আমি দেখছি কবিতায় অনেক নিম্ন শ্রেণির আলতু ফালতু ‘মাল’ ঢুকে গেছে। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার এই মালে’রা নিজেদেরকে দম্ভ ভরে কবি হিসেবে জাহির করে। পদক-ফদকও কব্জা করছে।
এই সব ‘মাল’দের কি আপনি কবি বলছেন?
না, এদেরকে আমি মোটেও কবি বলি না, এরা হলো উৎকৃষ্ট মানের পোষাপাখি। আরও একটা ব্যাপার, একজন কবি যখন তোষামোদ আর রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ( উচ্ছিষ্টও বলতে পারো…) বাগিয়ে নেয়ার জন্য নির্লজ্জ ধান্ধাবাজিতে নামে তখন তো সে আর কবি থাকে না। আচ্ছা বাদ দাও ওসব হাবিজাবি মালেদের নিয়ে আলোচনা। আমি আমাদের সময়ের কথায় ফিরে যাই। আমাদের সময়ে আমরা কবিতা ছাড়া আর কিছুকেই লালন করিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল জীবনটাকে গভীরভাবে দেখা এবং উপলব্ধি করা। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে একটা অলিখিত চুক্তি ছিল কে কিভাবে কতভাবে বিচিত্রময় জীবনের স্বাদ নিতে পারে। আর এই বিচিত্র ময় জীবনের স্বাদ নিতে গিয়ে সেসময় কত বিচিত্র পরিবেশের আড্ডা, কত অদ্ভুত অদ্ভুত মানুষ, কত আজব আজব চরিত্রের সঙ্গে যে মিশেছি! এখন সেইসব আড্ডা, অভিজ্ঞতা আর মানুষদের কথা মনে হলে নিজেকেই নিজের প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে: ‘হেলাল হাফিজ, সত্যি করে বলো তো তুমিই কি সেই মানুষ!’

দুই
আপনি যখন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে পুরাণ ঢাকায় আড্ডা দিতেন তখন কি আপনার প্রেমে কেউ পড়েনি?
প্রশ্ন শুনে মাথা নাড়ালেন। মাথা নাড়ানোটা প্রশ্নের বিপরীতে সম্মতির কিনা মুহূর্ত খানিক তা বোঝা গেল না। পরে তিনি বললেন, ক্যাম্পাসের কয়েকজন মেয়ে আমার প্রেমে পড়েছিল। আমি একজন মেয়ের প্রেমে পড়ে অন্যান্য মেয়েদের অসন্তুষ্ট রাখার নির্দয় প্রকৃতির প্রেমিক কখনোই ছিলাম না। প্রেমের ক্ষেত্রে আমি ভয়ংকর রকমের সাম্যবাদে বিশ্বাসী। তো সেই আমি একবার অসাধারণ মায়াবতী চেহারার এক হিজড়ার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন ফুলবাড়িয়া রেলষ্টেশনের পাশে এখনকার সুফিয়া কামাল হলের পেছনে কিছু ছাপরা ঘর ছিল। এসব ঘরে দিনভর নানা রঙের, নানা পদের মানুষজনে গমগম করত। জুয়া, বারবনিতা, মদ আর সদাইপাতির বাহারি পসরা ছিল বাড়তি আকর্ষণ।

এখানে দুই তিন ঘরে কয়েকজন হিজড়ার আড্ডাও ছিল। আমি সিরিয়াসলি একজনের প্রেমে পড়ে গেলাম। আমার প্রেমের এই কথাটা কাঊকে বলতেও পারছি না। তখন নিজাম মাস্তান নামে একজন নাম করা মাস্তান ছিল। তখনকার দিনে রংবাজ- মাস্তানদের একমাত্র অস্ত্র ছিল ছুড়ি – চাকু বড় জোর মাছের লেজের মতো প্যাঁচানো ড্যাগার আর সেখানে নিজাম মাস্তানের কোমরে সবসময় পিস্তল গোঁজা থাকত। আমি আমার প্রেমের কথাটা তাকে বলতেই নিজাম মাস্তান রসিকতার হাসি দিয়ে সেই হিজড়াকে ডেকে আমার সম্পর্কে আমি যা না তার চেয়ে অনেক বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলে একখানা সার্টিফিকেট দিলেন যা আমার প্রেমে সহায়ক ভূমিকা রাখল। আমার জীবনে নানা ধরনের বৈচিত্রময় প্রেমের মধ্যে এই প্রেমও ছিল বেশ উপভোগ্য।
তিন
পুরনো দিনের কথা ভাবলে কেমন লাগে?
ভালোই লাগে। একটা ঐশ্বর্যময় জীবন কাটাতে পারার ভাগ্য ক’জনের বরাতে জোটে! আমার জুটেছে। আমি পুরনো দিনের কথা ভাবলে নিজেকে অসীম সৌভাগ্যবান বলে মনে হয়ী। এখন, এই বয়সে এসে আমার আর বলতে দ্বিধা নেই, আমি আসলে আমার নিজের জীবন নিয়ে জেনেশুনে একধরণের জুয়াই খেলেছি যেটা আর আট দশজনের পক্ষে সম্ভব নয়। উপলব্ধিতে বুঝতে পারি, আমার সময়ও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। মৃত্যুর আলামত আশেপাশে ঘুর ঘুর করে। আমি তাদের সঘন নিঃশ্বাস টের পাই। তবে এখনো আমি মাঝে মাঝে পুরনো দিনের আড্ডায় ফিরে যাই। মাঝ রাতে পুকুরে যেমন শোল গজার বোয়াল মাছ শব্দ কোড়ে ঘাই মারে সেরকম করে পুরনো দিনের আড্ডারা, কথামালারা, বন্ধুবান্ধবরা, প্রেমিকারা আমার বুকের গহীনে অনবরত ঘাই মারে।

কথাগুলো বলতে বলতে হেলাল হাফিজ থেমে গেলেন। চুপ করে থাকলেন অনেকটা সময়। আমাদের মধ্যে অনেকক্ষণ কোন কথা হলো না। কোত্থেকে যেন নেমে এলো এক সহস্র বছরের নীরবতা। একসময় নীরবতা ভাঙলেন তিনিই। বললেন, একবার ফুলবাড়িয়ার ওদিক থেকে আড্ডা শেষ করে অনেকরাতে নিঃসঙ্গ প্রহরীর মতো হেঁটে হেঁটে ইকবাল হলে ফিরে আসছি। অধিক মদ্যপান কিংবা সঙ্গদোষের ফলে অনেক সময়ই এরকম হতো। নিজের চেনাজানা পথ বেমালুম ভুলে গিয়ে ভিনগ্রহের আগন্তুকের মতো রাস্তায় দাড়িয়ে থেকে থেকে নিজের ঠায় ঠিকানা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি- কথাগুলো বলে শিশুর সরলতায় হাসতে থাকলেন তিনি। এভাবে কিছুক্ষণ গেল তারপর হাসিটাকে নিয়ন্ত্রণে এনে বললেন, মাহবুব, মাঝে মাঝে আমার কী মনে হয় জানো!
কী মনে হয়?
আমার মনে হয় আমি বুঝি এখনো সেইরকমই আছি। হাঁটতে হাঁটতে পথ ভুল করে কোথায় যে এসে দাড়িয়ে রয়েছি আমি নিজেও তা জানি না…।

ইনসার্ট এক
একবার আমি আমার সেরকম অভাবগ্রস্ত দিনে আমাদের দেশের একজন নাম করা এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষক, প্রাবন্ধিকের একটা প্রবন্ধকে কায়দা করে নিজের নামে আরেক পত্রিকায় ছাপিয়ে পাক্কা পচাত্তুর টাকা পারিশ্রমিক বাগিয়ে নিয়েছিলাম। এটা ’৬৭/৬৮ সালের কথা। তখন একটা কবিতা লিখে আমরা দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশ থেকে পনেরো-বিশ টাকা সম্মানী পেতাম। তখন শরীফ মিয়ার দোকানে পঞ্চাশ পয়সায় ভরপেটের এক প্লেট বিরিয়ানি পাওয়া যেত। এবার চিন্তা করে দেখো সেই আমলে এই টাকা কত টাকা!

ইনসার্ট দুই
একটা ঐশ্বর্যময় জীবন কাটাতে পারার ভাগ্য ক’জনের বরাতে জোটে! আমার জুটেছে। আমি পুরনো দিনের কথা ভাবলে নিজেকে অসীম সৌভাগ্যবান বলে মনে হয়ী। এখন, এই বয়সে এসে আমার আর বলতে দ্বিধা নেই, আমি আসলে আমার নিজের জীবন নিয়ে জেনেশুনে একধরণের জুয়াই খেলেছি যেটা আর আট দশজনের পক্ষে সম্ভব নয়। উপলব্ধিতে বুঝতে পারি, আমার সময়ও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। মৃত্যুর আলামত আশেপাশে ঘুর ঘুর করে। আমি তাদের নিঃশ্বাস টের পাই। তবে এখনো আমি মাঝে মাঝে পুরনো দিনের আড্ডায় ফিরে যাই। মাঝ রাতে পুকুরে যেমন শোল গজার বোয়াল মাছ শব্দ কোড়ে ঘাই মারে সেরকম করে পুরনো দিনের আড্ডারা, কথামালারা, বন্ধুবান্ধবরা, প্রেমিকারা আমার বুকের গহীনে অনবরত ঘাই মারে।

Bellow Post-Green View