চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমিরকে ‘চড়’ মেরে পাপ স্বীকার করান আফ্রিদি!

নিজের আত্মজীবনী ‘গেম চেঞ্জার’এ ২০১০ সালে লর্ডস টেস্টের স্পটফিক্সিং নিয়ে একাধিক কথা লিখেছেন শহিদ আফ্রিদি। তা নিয়ে বিশ্বকাপের আগে বিতর্কে টালমাটাল ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট। বিশ্বকাপ চলায় খানিকটা ঝিমিয়ে আসলেও বিতর্ক কমতে দিলেন না আব্দুর রাজ্জাক। পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডারের দাবী, ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথা বের করার জন্য মোহাম্মদ আমিরের গায়ে হাত তুলেছিলেন তখনকার ওয়ানডে অধিনায়ক আফ্রিদি!

পাকিস্তানের জিএনএন নিউজ টিভিকে এক সাক্ষাৎকারে সেই ফিক্সিং নিয়ে বলেছেন রাজ্জাক, ‘আফ্রিদি আমাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেছিল। আমি ঘর হতে বের হতেই চড়ের শব্দ শুনি। এরপরেই আমির সব সত্য জানিয়ে দেয়!’

বিজ্ঞাপন

সেই ঘটনার পরে তাড়াহুড়ো করে স্পট ফিক্সিংয়ের তিন পাপী মোহাম্মদ আমির, সালমান বাট ও মোহাম্মদ আসিফকে দেশে পাঠিয়ে দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সত্যকে ধামাচাপা জন্য বোর্ডের চেষ্টায় বিরক্ত হয়েছিলেন বলে রাজ্জাকের ভাষ্য, ‘আমি ভেবেছিলাম বোর্ড হয়তো আইসিসির কাছে যাবে। কিন্তু তা না করে তিন ক্রিকেটারের পাপকে অস্বীকার করে এবং তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। তাদেরকে হয়তো এক বছর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতো! আসল সত্য স্বীকার না করে বোর্ড শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ক্রিকেটকে দূষিত করেছে।’

বিজ্ঞাপন

এখানেই থামেননি রাজ্জাক। সালমান বাটরা ফিক্সিং করছেন সেটা নাকি বুঝতে পেরেছিলেন তিনিও। বুঝতে পেরে জানিয়ে দিয়েছিলেন আফ্রিদিকে। আফ্রিদি তার কথা পাত্তা দেননি বলে দাবী করেছেন, ‘আমি আফ্রিদিকে বিষয়টা জানিয়েছিলাম। কিন্তু আফ্রিদি বললো এটা নাকি আমার ভ্রান্ত ধারণা। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমি আর সালমান ব্যাট করছিলাম, তখনই বুঝতে পারলাম ও(সালমান) দলটাকে ডুবিয়ে ছাড়বে।’

‘আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম সালমানের খেলা দেখে। যখন আমি বুঝতে পারলাম যে ও কিছু একটা করছে, বললাম আমাকে স্ট্রাইক দিতে। কিন্তু তা না করে দুই-তিনটা বল অহেতুক নষ্ট করে তারপর আমাকে স্ট্রাইক দেয়া হল। আমি রান তোলার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত চাপে পড়লাম আর আউট হয়ে গেলাম!’

রাজ্জাক এমন দিনে কথাটা সামনে আনলেন, যেদিন আমির ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করে অজিদের রানের চাকায় লাগাম দিয়েছেন বিশ্বকাপে। নিয়েছেন ৩০ রানে ৫ উইকেট। পেছনে ফেলে এসেছেন সেইসব পাপ-ভুল! ঘুরে দাঁড়িয়ে দলের আক্রমণের পেস-নেতৃত্ব দিচ্ছেন।