চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমার সকল অর্জন মায়ের জন্য: সুবীর নন্দী

সুবীর নন্দী। আধুনিক বাংলা গানের এই জনপ্রিয় শিল্পী এবার পঞ্চমবারের মতো ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ পেয়েছেন। এ ব্যাপারে তার অনুভূতি জানিয়েছেন চ্যানেল আই অনলাইনকে।

কেমন আছেন?

বিজ্ঞাপন

ভালো আছি। ভীষণ ভালো।

এবার পঞ্চমবারের মতো আপনি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ পেলেন। আপনার অনুভূতি কেমন?

অনুভূতি তো অবশ্যই আনন্দের। এই পুরস্কার প্রাপ্তি তো আসলে আমার কাজের স্বীকৃতিকে জানান দেয়। এদিক থেকে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

সবার কাছে থেকে কেমন উইশ পাচ্ছেন?

হ্যাঁ, সবাই উইশ করছে। আর সেটা আমার ভালোলাগাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

‘মহুয়া সুন্দরী’ ছবিতে ‘তোমারে ছাড়িতে বন্ধু সহেনা পড়ানে’ গানের জন্য আপনি পুরস্কৃত হয়েছেন। এই গান নিয়ে যদি কিছু বলতেন।

প্রথমত আমি এই ছবির পরিচালক, প্রযোজক, সংগীত পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবাই সহযোগিতা করেছে এই গানটিতে। তবে আমি বলব, চলচ্চিত্রের গানে শুধু গায়কী নয়, চিত্রায়ণও একটি বড় বিষয়। এখানে সেই দিকটার প্রতিও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেও হয়েছে।

এখন কোনো অ্যালবামের কাজ করছেন?

আমি মনে করি, আমার সংগীত জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ আমি এবার করছি। তা হলো আগামী ২৪ মে নজরুলসংগীতের একটি অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করতে যাচ্ছি। আমার সাথে সহশিল্পী হিসেবে আছেন ছন্দা চক্রবর্তী। গত দেড় বছর যাবৎ এর পেছনে আমরা অনেক শ্রম দিয়েছি। সুর, তাল, লয়, অ্যালবামের কভার সব বিষয় নিয়েই নিঁখুত ভাবে কাজ করেছি।

আপনি তো আধুনিক গানের শিল্পী। হঠাৎ নজরুলসংগীত?

হঠাৎ নয়। আসলে আমার সংগীতজীবনের শুরু নজরুলসংগীত দিয়ে। ১৯৬৭ সাল তখন আমি সিলেটে ছিলাম। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমি আধুনিক গানের দিকে ঝুঁকে যাই।

রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?

অবশ্যই। এরপর আমি রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে কাজ করব। আমি মনে করি, তাদের প্রতি এটা আমাদের এক ধরনের কমিটমেন্ট। আসলে নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত সময়ের শিল্পীদের কন্ঠে ধারণ করতে হবে।

বলা হয়ে থাকে ‘এখন সংগীতের অবস্থা ভালো যাচ্ছে না’। এ ব্যাপারে আপনি কী মনে করেন?

শুধু সংগীত নয়, জীবনের যে কোনো পর্যায়ে চলতে গেলে লক্ষ্যহীনভাবে চললে হবে না। আর সংগীতে যে কেউ ভালো করতে চাইলে সুর, তাল, লয়, সময় সব কিছুকে একত্রে বাঁধতে হবে। অন্যদিকে সবার ক্ষেত্রেই, ভিত্তিটাকে মজবুত করে পাশাপাশি চর্চা চালিয়ে যেতে হবে।

‘ইউটিউবে গানের দর্শক বেশি মানেই জনপ্রিয় শিল্পী’— এমন কথা প্রচলিত আছে। এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন?

বিষয়টি একেক জনের কাছে একেক রকম। আমি বলব, জনপ্রিয়তা তো আসলে কোনো টেকনিক্যাল জিনিস দিয়ে মাপা যায় না। তবে দর্শক–শ্রোতারা যে যার চাহিদা মতো ইউটিউবে দেখতে ও শুনতে পাচ্ছেন, এটা একটা ভালো দিক।

গানে কে আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দান করেছেন?

এক্ষেত্রে আমি বলতে চাই, আমার সকল অর্জন আমার মায়ের জন্য। তবে আমার সংগীতের গুরু থেকে শুরু করে মিউজিশিয়ান, টেকনিশিয়ান সবার প্রতিই আমি কৃতজ্ঞ। তাদের কাছে আমি প্রতিনিয়তই শিখি। শেখার কোন শেষ নেই এবং বয়সও নেই— আমি এই কথাটাকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।

আগামীতে আপনার পরিকল্পনা কী?

আমি আশাবাদী মানুষ। পুরস্কার প্রাপ্তি মানে সামনে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। সংগীত নিয়ে আমার আরও অনেক কাজ বাকি আছে। তাই এখনই থামার কোনো পরিকল্পনা নেই।

ধন্যবাদ আপনাকে।

আপনাকে এবং চ্যানেল আই অনলাইনকেও ধন্যবাদ।

Bellow Post-Green View