চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গানেই জীবন, গানেই যাপন

‘একান্ত ব্যক্তিগত জিনিষই সবচেয়ে সৃষ্টিশীল, এবং তা প্রচুর মানুষকে ছুঁয়ে যায়’-এমন কথার সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত যেন সংগীতশিল্পী আদনান আশিফের জনপ্রিয় গান ‘দেবী’। তবে ‘দেবী’ গানটি হয়ে উঠার পেছনে রয়েছে করুণ ইতিহাস, হৃদয় ভাঙার ইতিহাস। এক প্রেমিকের আর্তচিৎকার।

প্রেম। যে যাপনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছিলেন আদনান, সেই যাপনে হঠাৎ একদিন ঝড় বয়ে যায়। ছয় বছর প্রেম করার পর হঠাৎ ‘ব্রেক-আপ’ মেনে নিতে পারেননি আদনান। হোঁচট খান তিনি। দুমড়ে মুচরে যায় তার স্বাভাবিক জীবন। প্রায় দুই বছর যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে ছিলেন। অন্য ঘোরে ছিলেন। যে গান তার আপন ছিলো, সেই গানের সাথেও ছিলো না কোনো সংস্রব!

নিজের প্রেমিকার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিচ্ছেদের অব্যক্ত অনুভূতি শব্দে শব্দে রূপ পায় গানের কথায়। শুধু তাই নয়, নিজেই সুর দেন তাতে। শিল্পী বলে কণ্ঠ দিতে কাউকে আর ডাকতে হয়নি! তবে এর মিউজিক করেছেন আমজাদ হোসাইন। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ‘দেবী’ নামে গানটি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করেন। এরপরের ঘটনা রীতিমত ইতিহাস!

‘এই রাস্তাগুলো লাগে বড় অচেনা/আকাশটার সাথে নেই জানাশোনা/ আমি তোর প্রেমেতে অন্ধ, ছিল চোখ কান সব বন্ধ/ থেমে গেছে জীবনের লেনাদেনা’-এরকম লিরিকে ‘দেবী’ শুধু আর আদনানের একার থাকে না। হয়ে উঠে অসংখ্য প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার হৃদয়ের কথা। আর এই গানটিই তার সামনে নতুন দরোজা খুলে দেয়।

‘দেবী’র মধ্য দিয়েই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা ও নিজেকে গুটিয়ে নেয়া আদনানের মুক্তি ঘটে। নতুন উদ্যোমে জীবনের কাছে ফিরে আসেন তিনি। যে গানে নিজের কষ্টের অনুভূতিগুলো গেঁথে দিয়েছেন, সেই গানই হয়ে উঠে তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট! আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার একান্ত ব্যক্তিগত সৃষ্টি ‘দেবী’ (লিরিক্যাল ভিডিও) সম্প্রতি ইউটিউবে স্পর্শ করেছে এক কোটির মাইলফলক!

বিজ্ঞাপন

ছাত্র জীবন থেকেই গানের প্রতি টান ছিলো আদনানের। সেইসময় কয়েকজন বন্ধু মিলে ব্যান্ড দল গঠন করে গানের চর্চাও করতেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে ‘ইন্ট্রা ইউনিভার্সিটি কালচারাল কম্পিটিশন’-এ ব্যান্ড ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তিনি। এরপর যেন সংগীতকেই প্যাশন করে ফেলেন। ২০০৭ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ‘অলিম্পিক ডে’-তে পারফর্ম করে সাড়া ফেলেন।

দেশ সেরা রকস্টার জেমসের মতো কণ্ঠ হওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও ডাক আসতে থাকে তার। প্রবল উচ্ছ্বাসে আদনান সেই কনসার্টে অংশ নিতেন। পেতেন পারিশ্রমিক ও। ধীরে ধীরে গান গাওয়াই যেন তার পেশা হয়ে উঠতে থাকে। গান নিয়ে শহর থেকে শহরে ছুটতে থাকেন আদনান। ২০১৩ সালে হাতিরঝিল উদ্বোধন হয়, এ উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি সন্ধ্যায় সেরা আকর্ষণ হিসেবে গান পরিবেশন করেন তিনি।

নিয়মিত করেছেন কর্পোরেট শো। ঢাকা শহরে তো বটেই, ঢাকা শহরের বাইরেও দৌড়াতে হচ্ছে তাকে। আদনানের ভাষায়, ‘যেহেতু জেমস ভাইয়ের গানগুলো আমিই বেশি করি, যত্ন নিয়ে গাই, তাই ঢাকার বাইরের অপেন এয়ার স্টেজ শোগুলো মাতানোর জন্য ক্লায়েন্ট আমাকে নেন। অন্য শিল্পী থাকলেও চল্লিশ মিনিটের একটা স্লট আমার জন্য থাকেই’।

আদনান বলেন, এখন পর্যন্ত আমি সব মিলিয়ে হাজারের বেশি শোতে অংশ নিয়েছি। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই গান গেয়েছি। এটা আমার জন্য পরম আনন্দের।

শোগুলোতে জেমস কিংবা অন্যের গান বেশি গাইলেও এখন দর্শক-শ্রোতার পক্ষ থেকে ‘দেবী’ গানটি গাওয়ার ও অনুরোধ পান আদনান। যা তাকে একজন শিল্পী হিসেবে বিমোহিত করে। আর এ কারণে আগামিতে মৌলিক গানের দিকেও দৃষ্টি দিতে চান এই শিল্পী। বললেন, দেবী ছাড়াও এরইমধ্যে আমার আরো পাঁচটি মৌলিক গান রয়েছে। এরমধ্যে লুৎফর হাসানের লেখা ‘বাঈজী’ গানটি আমার প্রিয়। গান নিয়ে সামনে আরো বিস্তর পরিকল্পনা আছে বলেও জানান আদনান।

বিজ্ঞাপন