চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমার জীবনে অপ্রাপ্তির কিছুই নেই: আনিস

স্ত্রী কুলসুম আরা বেগমের মৃত্যুর পর চলচ্চিত্রকে বিদায় জানিয়েছিলেন কৌতুক অভিনেতা আনিস

তাকে বলা হয় ‘হাসির রাজা’। প্রায় এক হাজার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হাসির খোরাক যুগিয়েছেন। তিনি এমন একজন অভিনেতা যিনি জীবনভর সবাইকে শুধু হাসিয়েছেন। বলছি, চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি দিনের তারকা কৌতুক অভিনেতা আনিসের কথা।

স্ত্রী কুলসুম আরা বেগম মারা যাওয়ার পর ২০১৪ সালে অভিনয়কে ‘গুড বাই’ জানান আনিস। এরপর থেকে গেছেন আড়ালে।

দেশ বরেণ্য এই অভিনেতার খোঁজ রাখে না কেউ। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আনিসের সঙ্গে যখন মুঠোফোনে কথা হচ্ছিল, তখন আনিস তার বাসায় ছিলেন। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘আমি সারাদিন বাসায় থাকি। টিকাটুলির অভয়দাশ লেনের একটি বাড়ীতে আমার তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একটিতে আমি থাকি, বাকি দুটো ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া। আমার দুই মেয়ে। একজন আমেরিকা থাকে, আরেকজন থাকে কুমিল্লা। ওদের স্বামী, সন্তান, সংসার নিয়ে ওরা সুখে আছে। সারাদিন আমি একাই বাসায় থাকি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। মর্নিং ওয়াক করি। শতভাগ ঠিক আছি।

Advertisement

বয়স ৮০-এর কাছাকাছি হলেও শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ আছেন বলে জানান আনিস। তবে মাঝেমধ্যে তিনি তার স্ত্রীকে ভীষণ মিস করেন। আনিস বলেন, ‘বউ মারা যাওয়ার পর সংসারটা এলোমেলো হয়ে গেছে। আমি বড় একা হয়ে গেছি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে সে আমাকে প্রচণ্ড রকমের হেল্প করতো। ওর অনুপ্রেরণাতেই অভিনেতা আনিস এবং সফল স্বামী ও বাবা হতে পেরেছি। যে আমাকে পথ দেখিয়ে আজকের এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে সে-ই যখন রইল না তখন আর অভিনয় করে কি হবে? এটা আমাকে মাঝেমধ্যে ভাবায়। সবমিলিয়ে আমার জীবনে অপ্রাপ্তি কিছুই নেই, আমি সুখী মানুষ।

আনিস বলেন, ১৯৬৪ সাল থেকে সিনেমায় কাজ শুরু করি। সারাজীবন কাজ নিয়ে এতো ব্যস্ততা গেছে বলে বোঝাতে পারবো না। এখন পূর্ণ বিশ্রাম নিচ্ছি। এফডিসির মানুষজনের সঙ্গে এখনও আমার যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু আমি এফডিসি যাইনা। ইন্ডাস্ট্রি তো এখন মরে গেছে। এফডিসি গেলে শুটিংয়ের মানুষজন পাওয়া যায় না। নতুন কিছু ছেলে মেয়ে আসছে তারা যদি পরিশ্রম করে আবার হয়তো চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে। ডিজিটাল যুগে ডিজিটালভাবে কাজ করতে হবে। এই দায়িত্ব পরিচালকদের। এছাড়া কোনো উপায় দেখি না। সিনেমা না করে সিনেমার নাম ভাঙিয়ে যদি অসৎ পন্থায় কেউ রোজগার করে তাহলে কয়েক বছর পর ইন্ডাস্ট্রি পুরোপুরি মরুভূমি হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, টেলিভিশন খুললে বিভিন্ন চ্যানেলে সিনেমা দেখি। ঘুরে ফিরেই একজনের সিনেমা বেশী দেখা যায়। গত একযুগ ধরে তাই হয়ে আসছে। তার বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ দেখি না। আরও একটা বিষয় দেখে মজা পাই, এখনও দেখি আমার ছবি চলে। আমাকে এখনও অনেকেই কাজে ডাকে। কিন্তু আমি যাইনা। ‘ইত্যাদি’ ম্যাগাজিন থেকেও ডেকেছিল। আমি না করে দিয়েছি। আর কাজও করবো না। যে কটা দিন বাঁচবো এভাবে নিজের মতো একা একা থাকবো। শেষ বয়সে আমি এভাবেই ভালো আছি।