চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আমার গাওয়া গানগুলো বিকৃত না করে যত্নে রাখবেন’

মৃত্যুর আগে গানের মানুষ, ভক্ত অনুরাগীদের কাছে এন্ড্রু কিশোরের অনুরোধ:

সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসবেন, আবার গানের জগতে ভরাট কণ্ঠে আওয়াজ তুলবেন। এমন আশা নিয়েই গেল বছরের সেপ্টেম্বরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। কোটি ভক্ত অনুরাগীরাও এমনটাই মনে করেছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেননি কালজয়ী অসংখ্য গানের এই শিল্পী।

চিকিৎসকরাও আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাই দেশে ফেরার জন্য রীতিমত অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। বার বার বলতে শুরু করেছিলেন, ‘আমি দেশে গিয়ে মরতে চাই। আমাকে নিয়ে চলো।’ মৃত্যুর আগের রাতে দেয়া এন্ড্রু কিশোরের ফেসবুকে এমন নির্মম সত্যই জানালেন তাঁর স্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

সেই পোস্টে কিংবদন্তি শিল্পীর সহধর্মীনি বলেন, ‘ডাক্তার যখন নিশ্চিত করলো যে কিশোরের শরীরে লিম্ফোমা (ক্যানসার) ফিরে এসেছে। তখন কিশোর ডাক্তারকে বলে, ‘তুমি আজই আমাকে রিলিজ করো, আমি আমার দেশে মরতে চাই, এখানে না। আমি কাল দেশে ফিরব। আমাকে বলে, আমি তো মেনে নিয়েছি, সব ঈশ্বরের ইচ্ছা, আমি তো কাঁদছি না তুমি কাঁদছ কেন?’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কিশোর খুব স্বাভাবিক ছিল, মানসিকভাবে আগে থেকে প্রস্তুত ছিল। যেদিন থেকে জ্বর এসেছিল সেদিন থেকে। ওইদিনই কিশোর হাইকমিশনে ফোন করে বলে, ‘কালই আমার ফেরার প্লেন ঠিক করে দেন। আমি মরে গেলে আপনাদের বেশী ঝামেলা হবে, জীবিত অবস্থায় পাঠাতে সহজ হবে।’ ১০ জুন বিকালে হাসপাতাল থেকে ফিরি এবং ১১ জুন রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফিরে আসি আমরা।’

দেশে ফিরে এন্ড্রু কিশোর খুব চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন। খুব একটা কথা বলেননি কারো সঙ্গে।

তবে মৃত্যুর আগে নিজের সহধর্মীনির সহায়তায় নিজের গান নিয়ে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন এন্ড্রু কিশোর। যেখানে তাঁর গান ভবিষ্যতে যেনো বিকৃত করে না গাওয়া হয়, সে অনুরোধ করেন। ২ জুলাইয়ের সেই পোস্টে এন্ড্রু কিশোর বলেন, আমি আমার প্রিয় ভক্ত-শ্রোতাদের অনুরোধ করছি আমার গান ভালবেসে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। আমার গাওয়া গানকে স্বাভাবিক ও সাবলীল রেখে এবং বিকৃত না করে যত্ন করে রাখবেন।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এন্ড্রু কিশোর। তাঁর মৃত্যুতে সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গন শোকগ্রস্ত। জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার বাবার মুখে, আমার সারা দেহ, আমার বুকের মধ্যেখানে, তুমি আমার জীবন, ভেঙ্গেছে পিঞ্জর, ওগো বিদেশিনী তোমার চেরি ফুল দাও, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, আকাশেতে লক্ষ তারা চাঁদ কিন্তু একটারে, তোমায় দেখলে মনে হয়, কিছু কিছু মানুষের জীবনে কি যাদু করিলার মতো অসংখ্য বাংলা গান উপহার দিয়েছেন তিনি। গান গেয়ে জীবনে মোট আটবার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার।

ছবি: দ্য ডেইলিস্টার