চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমানত ও ঋণের সুদ হারের ব্যবধান এখন ৪ শতাংশ

ব্যাংকিং খাতে কমে এসেছে আমানত ও ঋণের সুদ হারের পার্থক্য (স্প্রেড)। তবে সার্বিকভাবে আমানত ও ঋণের সুদ হারের পার্থক্য কমলেও নির্ধারিত সীমার উপরেই রয়েছে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের স্প্রেড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং খাতে এখনও আমানতের সংকট বিদ্যমান। তাই আমানত সংগ্রহে বেশি মুনাফা দিতে হচ্ছে। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, স্প্রেড ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে আমানতের সুদ হার বেড়ে গেছে। অন্যদিকে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। স্প্রেড কমে আসার পেছনে এই দুটোর প্রভাব রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে ব্যাংক খাতের গড় ঋণ-আমানত অনুপাত হারের পার্থক্য ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। তবে আগস্ট মাসে এই হার নেমে এসেছে ৪ শতাংশে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর স্প্রেড সবচেয়ে কম হলেও বেশি রয়েছে বিদেশি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের আমানত-ঋণের সুদহারের পার্থক্য ২ দশমিক ১৯ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকের ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকের ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকের ৪ দশমিক ১২ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গড় স্প্রেড হার কমলেও অধিক সুদে আমানত সংগ্রহ করছে অনেক ব্যাংক। ঋণ বিতরণ করছে তুলনামূলক আগের চেয়ে বেশি সুদে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই মুহূর্তে আমানতের বিপরীতে সরকারি ব্যাংকগুলো গড়ে ৪ দশমিক ৩১ টাকা মুনাফা দিচ্ছে। অন্যদিকে ঋণের বিপরীতে সুদ নিচ্ছে গড়ে ৬ দশমিক ৬৮ টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহের সুদ হার ৫ দশমিক ৭১ টাকা এবং ঋণের বিপরীতে সুদ হার ৭ দশমিক ৫৬ টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে আমানত ও ঋণের সুদ হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৪৫ ও ৯ দশমিক ৪৮ টাক।

৪০টি বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ৪ শতাংশ সীমানার বাইরে রয়েছে ২২টি ব্যাংক। সার্বিকভাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর স্প্রেড হার ৪ দশমিক ১২ শতাংশ।

এদের মধ্যে ৫টি ব্যাংক অবস্থান করছে নির্ধারিত স্প্রেড সীমার অনেক উপরে। সেগুলো হলো- ডাচ বাংলা ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড।

ব্যাংকগুলোর স্প্রেড সীমা যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫২, ৫ দশমিক ২৩, ৫ দশমিক শুন্য ৫, ৫ দশমিক ৬২ এবং ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

Bellow Post-Green View