চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমানতের সুদহার কমানোর দাবি নাকচ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আমানতের সর্বনিম্ন সুদহার কমাতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার ব্যাংকগুলোর এমডিদের সঙ্গে ব্যাংকার্স সভায় এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এমডিরা সভায় যোগ দেন।

সভায় ঋণের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, মেয়াদি আমানতে মূল্যস্ফীতির কম সুদ না দেয়ার নির্দেশনা প্রত্যাহার বা পরিমার্জন, ঋণ ও আমানত উভয়ক্ষেত্রে সুদহারের সীমা তুলে দেয়ার দাবিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এর আগে গত রোববার আমানতের সর্বনিম্ন সুদহার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বর্তমান ব্যাংকগুলো গড়ে চার শতাংশের কিছু বেশি হারে সুদ বা মুনাফা দিয়ে থাকে। সুদের হার অতিমাত্রায় কমে গেলে ভবিষ্যতে ব্যাংকে আমানতের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমানতের সুদ বা মুনাফা নির্ধারণে আগের তিন মাসের গড় মূল্যস্ফীতি হারকে বিবেচনায় নিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশে। যা জুন মাসে ছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সেই হিসাবে আমানতের উপর সুদ প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আমানতের সুদ হার কমানোর জন্য কয়েকটি ব্যাংকের এমডি অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংককে। কিন্তু সুদহার না কমানোর যুক্তি তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এ সময় এই দাবি নাকচ করা হয়।

এছাড়া মোবাইল-ল্যাপটপ কেনার জন্য ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। এ খাতটিকে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে এ যাবত দেখলেও এখন থেকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে দেখতে বলেছেন গভর্নর। এছাড়া প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ শতভাগ বাস্তবায়ন করায় ১৫টি ব্যাংককে প্রশংসাপত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা আমানতের সুদ কামানোর জন্য অনুরোধ করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতের সুদ বহাল রাখতে যুক্তি উপস্থাপন করে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি দেয়া নির্দেশনাই বহাল রাখে।

সভায় করোনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোর বিশেষ সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) নিয়ে আলোচনা রয়েছে। প্রণোদনার আওতায় দ্বিতীয় বছরে বড় শিল্পে ৩৩ হাজার কোটি টাকা এবং সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

একইসঙ্গে সিএমএসএমই খাতে প্রথম বছর ১৫ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৭৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এক্ষেত্রে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকারী ১৬টি ব্যাংক ও ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশংসাপত্র দেয়া হবে। আর ৪০ শতাংশের কম বিতরণ করা ব্যাংকগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে।

সভায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্ব-কর্মসংস্থান উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দুটি স্টার্টআপ তহবিল গঠন নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মাত্র ৪ শতাংশ সুদ বা মুনাফায় জামানতবিহীন ‘স্টার্ট আপ’ অর্থায়নের উদ্দেশ্যে দুটি ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ গঠন করবে।

এছাড়া প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণসহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রেখে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি টাকার তিন বছর মেয়াদি আবর্তনযোগ্য তহবিল গঠন করতে আলোচনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন