চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তারুণ্য ঘেরা যৌবন ও জীবনমুখী গানে বব ডিলান থেকে অঞ্জন দত্ত

অঞ্জন দত্তের জনপ্রিয় গানের একটি কলি ‘বেলা বোস তুমি শুনতে পাচ্ছ কি’ নিয়ে ভাবছিলাম, গানটি হতাশাবাদী মানুষের কাছে বড় আশাবাদীতার গান। মানুষের অন্তরকে ভিতর থেকে নাড়া দিতে পারে এমন একটি গান। বেকার আশাহীন প্রেমিকের স্বপ্নময় জীবনের অপার তুলি এই গানের কথা। হতাশা ঘেরা মানুষের জীবনের গতিময় আশাবাদীতার গান এটি। খাদের কিনারা হতে বেঁচে আসা, মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া মানুষের গান এটি। ডুবতে ডুবতে, মরতে মরতে জীবনযুদ্ধে জয়ী মানুষের এই গানকেই জীবনমুখী গান বলে চিহ্নিত অনেকে।

মানবতাবাদী সুর, ভালোবাসা নিয়ে জীবন-সংগ্রামের গানকে এমনভাবে শ্রেণিকরণ করতে চান অনেকেই। এই গানটির মতো অঞ্জন দত্তের অনেক জনপ্রিয় আছে। জীবনমুখী গানের এই ধারার সাথে শুধু অঞ্জন দত্ত নয়, আছেন সুমন চট্টোপাধ্যায়, আছেন নচিকেতা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সুমন চট্টোপাধ্যায়
সুমন চট্টোপাধ্যায়

যাইহোক, গানের কলিটি মনে পড়তেই ফিরে গেলাম আমাদের যৌবনদীপ্ত তারুণ্যের ছাত্রজীবনে। যখন আমরা প্রতিনিয়ত অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায়ের গানের সাথে ঠোঁট মিলাই। তারুণ্য, উদ্যামতা থেকে বুক টান টান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কিলোমিটার সড়ক, শহরে কিংবা চা বাগানের নির্জন রাস্তায় হাটি আর বেসুরো গলায় ‘চাকুরীটা আমি পেয়ে গেছি বেলা সত্যি’ ‘রঞ্জনা আমি আর আসবোনা/ পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাং খোঁড়া করে দেবে/ বলেছে পাড়ার দাদারা/ অন্য পাড়া দিয়ে যাচ্ছি তাই’ ‘এই তো তোমার শহর/ এইতো আমার ঢাকা/ আমায় নিয়ে উড়ছে এখন এরোপ্লেন এর পাখা’ গাই। কিছুটা বিপ্লবী, কিছুটা রোমান্স। একই সাথে অনেকটা হতাশার, অনেকটা আশাবাদীতার।

অনেকের কন্ঠে অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায় আর হাতে সিগারেট, মার্কস-এঙ্গেলসের কমিউনিষ্ট ইস্তেহার। ব্যক্তিগতভাবে যদিও আমি সিগারেটের অমৃত স্বাদ উপভোগ করে কখনও গান, কবিতা কিংবা বিপ্লবের অগ্নি মিছিলে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। তবু সেই সময়ে অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতা আমাদের অনেককে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। জীবনবাদী ও মানবতাবাদী গায়ক, কবি ও অভিনেতা হিসেবে অঞ্জন দত্ত অসাধারণ। একইরকম গুনী ও আশাবাদী মানুষ ও গায়ক সুমন চট্টোপাধ্যায় এবং নচিকেতা। ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক গানের স্বতন্ত্র একটি ধারা তৈরি করেন অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতা মানবতাবাদী ও জীবনবাদী আধুনিক গান।

অঞ্জন চৌধুরী
অঞ্জন দত্ত

আলাদাভাবে জীবনমুখী গানের শক্তি হলো গানের অসাধারণ লিরিক, কথা, মেলোডি এবং গায়কী। প্রত্যেকটা গানের কথার মধ্যে একটা কাব্যময়তা আছে। কখনো নাগরিক কবিতা আবার কখনো মিথযুক্ত লোকগীতির সমন্বয় এই গানগুলো। প্রত্যেকটা কথায় আলাদা একটা ছন্দ। লিরিকের মধ্যেই একটা দার্শনিক, মানবতাবাদী কন্ঠস্বর থাকে। ভিন্নতা থাকে তার প্রকাশ ভঙ্গিতে। গান শুনলে মনে হয় দীর্ঘ নিঃশব্দ মাঠ, পাহাড়ের উপত্যকার মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অনুভূতি। সমুদ্রে পা ভেজানো কিংবা জ্যেৎস্না রাতের আকাশে তারা ছোঁয়ার অনুভূতি। গানে ভালোবাসা কিংবা হতাশা মানে গায়কের মতো তার সাথে শ্রোতার অংশীদার হয়ে যাওয়া। সুমন চট্টোপাধ্যায় যখন দরদী কন্ঠ ও মানবিক আবেগ নিয়ে গেয়ে উঠেন ‘কতটা পথ পেরোলে তবে তাকে/ মানুষ বলা যায়’, তখনই এই গানের শক্তি আমাদের সামনে ভেসে উঠে। প্রত্যেকটা গান গাওয়ার পূর্বেই শ্রোতার সামনে গানের ইতিহাস কিংবা প্রেক্ষাপট বলে শুরু করার গায়কীটাই ভিন্ন। ঢংয়ের দিক থেকে ভিন্ন, কম্পোজিশন, মেলোডির দিক থেকে এই গানগুলো ভিন্ন। একজন শিল্পীই তার গীটার, ব্রাঞ্জো, মাউথ অরগ্যান, ফ্ল্যুট নিয়ে গানের লিরিক নিয়ে খেলা করেন। শ্রোতাকে গীটারের তারের সাথে, মাউথ অরগানের করুন সুরের সাথে যুক্ত করে দেন। গানের গায়কীতে কোন উন্মাদনা নেই কিন্তু কথা, লিরিকে ও সুরের মধ্যে একটা মাদকতা কাজ করে। সুরের মাধুরীতে শ্রোতা ভিজে যান, ভেসে বেড়ান মেঘের রাজ্যে, জ্বলে উঠেন আগুনের ফুলকিতে। এই হলো জীবনমুখী গান।

যদিও পাশ্চাত্যে অনেক আগেই বব ডিলান, জোয়ান বায়েজ, পিট সিগার, বিটলস ও জন ডেনভারের মাধ্যমে জীবনমুখী মানবতাবাদী গানের একটি স্বতন্ত্র ধারা ছিল। এই গানের মধ্যে যুক্ত হয়েছে গানের বহুমুখী ধারা। পপ, কান্ট্রিমিউজিক, পাশ্চাত্যের গীতিকাব্য রসসিক্ত সম্পর্কের ছন্দময় রুপ হলো জীবনমুখী গান। গানের কথাগুলো অনেকটা বয়ে চলা গতিময় ঝর্ণা। আমার কথা নয় এটি। বব ডিলানকে যখন সুইডেন থেকে সাহিত্যে নোবেল দেয়া হয় তাদের কথা। পৃথিবীর ইতিহাসে সঙ্গীতের লিরিকের জন্য যাকে নোবেল দেয়া হয়েছিল। নোবেল কমিটি আসলে বব ডিলানের গানকে একেকটি কবিতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। বব ডিলানের বিখ্যাত গানগুলো হলো ‘The Time They Are a Changin Cords’; Blowin’ In The Wind; A Hard Rain’s A-Gonna Fall’. বাস্তবে এই গানগুলোর মধ্যে যখন প্রকাশিত হয় এমন গীতিকবিতা তখন তাকে কবিতা না বলে পারা যায়না! ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড গানের কথা যদি আমরা বিবেচনায় আনি ‘How many roads must a man walk down/ Before you call him a man?… Yes, how many deaths will it take till he knows/ That too many people have died?/ The answer my friend is blowin’ in the wind/ The answer is blowin’ in the wind’. গানটিকে সুমন চট্টোপাধ্যায় অনুবাদ করেছেন এভাবে ‘কতটা পথ পেরোলে তবে তাকে/ মানুষ বলা যায়’। কি অসাধারণ ও সংবেদনশীল এসব গানের অনুভূতি।চিত্তকে ভিতর থেকে নাড়া দেয়।

বিজ্ঞাপন

বব ডিলান

বব ডিলানের মতো পিট সিগারও জীবনমুখী ও মানবতাবাদী গানের প্রকৃত সাধক ও গুরু।তিনি বর্ণবাদরোধী আন্দোলনের মহান নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের সাথে লংমার্চ করেছেন। গান গেয়েছেন অনেক প্রতিবাদী আন্দোলন সংগ্রামের প্ল্যাটফর্মে। পিট সিগারের বিখ্যাত গান ‘উই শেল ওভার কাম’ ‘হোয়ার অল দি ফ্লাওয়ার্স আর গন?’ আমাদের দেশেও পর্যন্ত খুব জনপ্রিয় গান। আমাদের দেশের স্কুল-কলেজের শিশু-কিশোররা প্রথম গানটি গান। ভারতীয় গণনাট্য সংঘের বিখ্যাত শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাস দ্বিতীয় গানটি অনুবাদ করে ‘ফুলগুলো কোথায় গেল’ নামে গেয়েছেন। বামপন্থী আন্দোলনের সাথে জড়িত ছাত্র-তরুণদের কন্ঠে একসময় জনপ্রিয়ে এই গানটি ছিল। আমরাও গাইতাম। জীবনমুখী গানের ক্ষেত্রে খুবই পরিচিত জোয়ান বায়েজকেও আমরা চিনি বাংলাদেশের যুদ্ধবিরোধী কনসার্টে অংশগ্রহণের কারণে।

আসলে জীবনমুখী এই গানের ধারা তৈরি হয় ১৯৬০-৭০ এর দশকে বিশেষ করে ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বর্ণবৈষম্য বিরোধীতার আন্দোলন, মানবমু্ক্তির আন্দোলন, নারীমুক্তি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। যুদ্ধ, বেকারত্ব, সামাজিক অসমতা ও বৈষম্যবিরোধী এসব গান। ফলে পৃথিবীর দেশে দেশে যেখানেই যুদ্ধ, বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য সেখানেই এই গান বিপ্লবী কিংবা বিদ্রোহীদের আন্দোলণে প্রাণ সঞ্চার করেছে।

নচিকেতা
নচিকেতা

স্বভাবতই এসব গান আমাদের জন্য নতুন অনুভূতি, ভিন্নতর জীবনবোধ ও রুচি-সংস্কৃতিকে সামনে নিয়ে এসেছিল। আমরা যেমন ছাত্রজীবনে বব ডিলান, জোয়ান বায়েজ, পিট সিগারের গান শুনে প্রভাবিত হয়েছিলাম তেমনি জীবনমুখী গানের এই ধারা হতে রসদ নিয়েছিলেন অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায় ও নচিকেতা। জীবনমুখী গানের মহান শিল্পীদের প্রভাবে অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায় ও নচিকেতা অনেক গান করেছেন। লিরিক, বিষয়বস্তু, যন্ত্রেব ব্যবহার ও গায়কী দিয়ে তাঁদের গানে বহুমাত্রিক বৈচিত্র্যতাই প্রকাশিত হয়। তাঁদের গানে যে বিষয়বস্তুগুলো আমাদের সামনে উঠে আসে তা মূলত এই সামাজিক অসঙ্গতি (অ্যাম্বিশন, চোখের জল কিংবা পানি, ভোট, কি হবে, ভয়); শিকড়ের সন্ধান (পুরনো দিনের গান); মানবতা মনুষ্যত্ববোধ (ফেলানী খাতুন, কাঁদতে চাই,) প্রেম, ভালোবাস, কষ্ট ও হতাশা, শান্তি ও সৌহার্দের গান (ম্যারিয়ন, অঞ্জনা তুমি আর আসবেনা, তোমাকেই চাই, এই তো তোমার শহর, রাজশ্রী, হাইড্রোজেন); প্রকৃতি (কাঞ্চনঝঙ্গা)।গানের বৈচিত্র্য দেখলে জীবনমুখী এই সব গানের শক্তি উপলব্ধি করা যায়।

যদিও মহান আমেরিকান শিল্পীরা শুধু অঞ্জন দত্ত কিংবা সুমন চট্টোপাধ্যায়কে প্রভাবিত করেনি এখানকার বিপ্লবী আন্দোলনের সাথে যুক্ত মার্কসবাদী সংস্কৃতি কর্মী, শিল্পীদেরও প্রভাবিত করতো। পিট সিগার, বব ডিলানের গান অনুবাদ করে গেয়েছেন বিখ্যাত হেমাঙ্গ বিশ্বাস। খুব জনপ্রিয় হয়েছিল তার ‘ফুলগুলি কোথায় গেল?’। মার্কসবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনমুখী গান গাইতে চেয়েছেন ভূপেন হাজারিকাও। শিল্পীর ‘মানুষ মানুষের জন্য’ ‘বিস্তীর্ণ দু পায়ে অসংখ্য মানুষের’ যাযাবর’ ‘গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা’ ‘দোলা’ গানগুলিও জীবনবাদী-মানবতাবাদী গান হিসেবে সমান জনপ্রিয়। তবে মার্কসবাদী শিল্পীদের মধ্যে এসব গান নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকায় বেশি দূর এগোতে পারেনি। পরবর্তীতে, এদের কিছু গান দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদের স্টাইলে মহীনের ঘোড়াগুলি, ভূমি কিছু গান করতে চেয়েছে। তবে আমি মনে করি তারা ততটা সফল নয়। একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে সিনেমায় ব্যবহৃত ‘কত রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’ গানটিকেও অনেক বোদ্ধারা সিনেমা কিংবা চলচ্চিত্রে প্রথম জীবনমুখী গানের ব্যবহার বলে চিহ্নিত করেন। তবে এপার বাংলায় অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতার বাইরে উল্লেখ করার মতো কোন শিল্পী এসব গান গায়নি। যদিও এখনকার সময়ে বাংলাদেশে শিল্পী হায়দার, নকুল বিশ্বাস ও সায়ানের গানকে জীবনমুখী গান হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করা হয় তবে আমি এদের গানের শিল্পমান নিয়ে সন্দেহগ্রস্থ!

জীবনমুখী গান নিয়ে একটা সময় মার্কসবাদীদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। তাদের মতে অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতার গান যথাযথ প্রগতিশীল কিনা বিচার করা উচিত? তাঁদের গান সত্যিকারের সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদী সংস্কৃতিকে প্রকাশ করে কিনা? এ নিয়ে বিতর্ক এখনো চলমান। কোন সাহিত্য প্রকৃত সমাজতান্ত্রিক সাহিত্য সে প্রশ্নের সমাধান এখনও হয়নি। কোন সঙ্গীত কিংবা শিল্পকলাকে আমরা গ্রহন করব? শিল্প বিচারে মার্কসবাদীদের কাছে মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, স্ট্যালিন, ট্রটস্কি, আনাতুলি লুনাচারস্কির চিন্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। শুধু উপরে উল্লেখিত ব্যাক্তিরাই নয় শিল্প সাহিত্য কিংবা তার নন্দনতাত্ত্বিক মাপকাঠি বিচারের জন্য পরবর্তীকালে এন্তোনিও গ্রামশি, জর্জ লুকাচ, আর্নষ্ট ফিশার, টেরি ঈগলটন, অলিভার কলডওয়েলের হাতে বিভিন্ন নন্দনতত্ত্বের বিভিন্ন স্কুল গড়ে ‍উঠে। ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশে বিনয় ঘোষ, দেবিপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, তানভীর মোকাম্মেলপ্রমুখ মোটাদাগে শিল্পকলা কিংবা বিশেষভাবে সঙ্গীতের নন্দনতত্বের বিচার প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ছিলেন। শিল্পকলা বিচারের এসব তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই বব ডিলান, পিট সিগার কিংবা বলতে পারি অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতার গান গ্রহণযোগ্য কিনা তা নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করতে চেয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন এসব গান একাকিত্বের গান, হতাশাবাদীতার গান। এখানে জীবন কিংবা মানবতাবাদের কথা থাকলেও বিপ্লব নেই, আন্দোলন নেই, স্বপ্ন নেই। ফলে এসব নিয়ে মার্কসবাদী আন্দোলন সংগঠক নেতাদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন কিংবা বলতে পারি সংশয় আছেই।

অনেক সংশয়, অনেক বাধা, অনেক ভিন্নমত, বিরুদ্ধ যুক্তি থাকলেও অঞ্জন দত্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতার গান শুনতে কোনদিন মিস করিনি আমি কিংবা আমার অনেক বিপ্লবীবন্ধু। বিপ্লবী নৈতিকতা ও শুদ্ধতার নামে আশাবাদীতা, স্বপ্ন, হতাশা ও রোমান্টিকতার গানকে কোনদিন মিস করিনি আমি। মিস করিনি ‘কাঞ্চনযঙ্গা’ ‘ম্যারী অ্যান ‘বাশুড়িয়া বাজাও বাঁশি’ ‘ও গানওয়ালা আরেকটা গান গাও’। যেমন আমি কোনদিন মিস করিনি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, দেব্রবত বিশ্বাস, ভূপেন হাজারিকা, প্রতুল মুখোপাধ্যায় ও হেমাঙ্গ বিশ্বাসকে। যদিও আজ বিশেষ করে ভীষণ মিস করছি অঞ্জন দত্ত, নচিকেতা ও সুমন চট্টোপাধ্যায়ের জীবনমুখী গানকে। যেমন মিস করতাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের তারুণ্য ঘেরা যৌবনে!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)