চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা। আমরা জানি, জাতির বিবেকের অতন্দ্র প্রহরী এই জ্ঞানতাপস দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর ড. আনিসুজ্জামানের মরদেহ রাতে সিএমএইচেই হিমঘরে রাখা হয়। বিকেলেই জাতীয় এই অধ্যাপকের শরীর থেকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাত ১১ টার পর তার মরদেহে করোনাভাইরাস পজিটিভ ফলাফল পাওয়া যায়।

এই ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশসহ প্রায় পুরো বিশ্ব থমকে আছে। থমকে আছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। মানুষ এখন এক আতংকিত জীবনযাপন করছে। অথচ থেমে নেই মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিনই কেউ না কেউ চলে যাচ্ছেন এই পৃথিবী ছেড়ে। এর মধ্যেই আমরা বিশ্বের বহু বিদগ্ধজনকে হারালাম।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষক আনিসুজ্জামান, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট ডক্টরাল ফেলো এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের কমনওয়েলথ অ্যাকাডেমিক স্টাফ ফেলো ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস, নর্থ ক্যারালাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ব ভারতীর ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি। বাংলা শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মভূষণ পেয়েছেন।

ড. আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের এই প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি প্রত্যক্ষভাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তার গবেষণা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তিনি একজন প্রফেসর ইমেরিটাস। তার বাবার নাম এ টি এম মোয়াজ্জেম ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক। মা সৈয়দা খাতুন গৃহিনী হলেও লেখালেখির অভ্যাস ছিল। পিতামহ শেখ আবদুর রহিম ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক।

গতকাল রাতে কলকাতায় মারা গেছেন বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য লেখক দেবেশ রায়। তিনি বাংলাদেশের পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে এই কথাসাহিত্যিকের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। দেবেশ রায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস যযাতি। তার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে মানুষ খুন করে কেন (১৯৭৬), মফস্বলী বৃত্তান্ত (১৯৮০), সময় অসময়ের বৃত্তান্ত (১৯৯৩), তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্ত (১৯৮৮), লগন গান্ধার (১৯৯৫) ইত্যাদি। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সমাদৃত উপন্যাস তিস্তা পাড়ের বৃত্তান্তের জন্য ১৯৯০ সালে তিনি ভারতে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির দুই দিকপালকে একই সঙ্গে হারিয়ে আমরা শোকাহত। আমাদের ভাষা নেই কারণ এমন এক সময় তারা চলে গেলেন যখন তাদের খুব প্রয়োজন ছিল আমাদের। দুই বিরল প্রতিভার মানুষের অন্তর্ধানে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।