চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমাজনের ধ্বংস চান ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট!

গোপন নথিতে দাবি

ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো নিজেই বিশ্বের ‘ফুসফুস’ খ্যাত আমাজন বন ধ্বংসের জন্য চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক গোপন নথিতে এমন দাবি করা হয়েছে।

ওই নথিতে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের সরকার বিশ্বের বৃহত্তম বন আমাজন সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করে বনের অভ্যন্তরে মটরওয়ে, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতু নির্মাণ করতে চায়।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক ওয়েবসাইট ‘ওপেন ডেমোক্রেসিতে’ ফাঁস হওয়া এই পরিকল্পনাগুলোই আমাজনে ধ্বংসাত্মক আগুনের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া নথিগুলোর একটি পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডের মাধ্যমে আমাজন জাতীয় উদ্যানে ব্রাজিলিয়ান সরকারী কর্মকর্তা এবং প্যারা রাজ্যের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছিলো। ওপেন ডেমোক্রেসির দাবি, ফেব্রুয়ারির ওই বৈঠকের সময় ব্রাজিলিয়ান মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে  প্রেসিডেন্টের এসব প্রকল্পের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

একটি নথিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করে হলেও আমাজন অববাহিকায় ‘ত্রিপল’-এ (সংরক্ষণ) নামের উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে জাতীয় অঞ্চল সংহত করার চিন্তায় মগ্ন ব্রাজিল সরকার। তা করতে ট্রম্বেটাস নদীর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, আমাজন নদীর ওপর ওবিডোস সেতু এবং সীমান্তে বিআর-১৬৩ মহাসড়ক বাস্তবায়নের কথা বলছে।

এর লক্ষ্য হলো, বিশ্বের বৃহত্তম সুরক্ষিত অঞ্চল, অ্যান্ডেস পর্বতশ্রেণী থেকে অ্যামাজন এবং আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩৫ মিলিয়ন হেক্টর বনাঞ্চলের একটি করিডোর সংরক্ষণ করা।

বিজ্ঞাপন

যদিও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দাবি, এনজিওগুলো আমাজন বন সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে।যেসব বেসরকারি সংগঠনের (এনজিও) তহবিল বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে আমাজনে আগুন দিচ্ছে। তবে এ কথার সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।

গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট অবশ্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার বলেছেন, ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্রাজিলের উচিত আমাজনকে উন্মুক্ত করে দেওয়া। যাতে খনন, কৃষি ও কাঠ ব্যবসায়ীরা এর সম্পদকে কাজে লাগাতে পারে।

আমাজনের আগুনকে ‘আন্তর্জাতিক সঙ্কট’ হিসেবে বর্ণনা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এ বিষয়ে জি-৭ সম্মেলনে আলোচনা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। এক টুইটবার্তায় তিনি লিখেছেন “আমাদের ঘর জ্বলছে।”

‘আমাজন চিরহরিৎ বন পৃথিবীর ফুসফুস, যা গ্রহের অক্সিজেনের ২০% উৎপাদন করে। আমাদের ফুসফুস জ্বলছে, ঘর জ্বলছে। এটি আন্তর্জাতিক সংকট’-বলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) এর হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরে আমাজনে ৭২,৮৪৩ টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৮৪ শতাংশের বেশি।

ইমপের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে আমাজনের ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বনাঞ্চল হারিয়ে গেছে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি।

Bellow Post-Green View