চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমলাতন্ত্রের প্রশংসা করি, তবে মাথায় তেল দেয়ার জন্য নয়: পরিকল্পনা মন্ত্রী

আমলাতন্ত্রের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, আমলাতন্ত্রের বিকল্প শূন্যতা। আর জীবনে শূন্যতা মানে ভয়ংকর কিছু।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে বিবিএস গ্লোসারি (কনসেপ্টস অ্যান্ড ডেফিশেন) শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। মূল প্রবদ্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল স্ট্রাটেজি ফর ডেভেলপমেন্ট অব স্টাটিসটিকস (এনএসডিএস) প্রকল্পের পরিচালক দিলদার হোসেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বেতন-ভাতাসহ সরকার সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছে। এটা নিয়ে আমরা নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হই বাইরে। আমরা আমলাতন্ত্রের প্রশংসা করি। কিন্তু এটা তাদের মাথায় তেল দেয়ার জন্য নয়। আমলাতন্ত্রের যে কত প্রয়োজন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে সব পর্যায়ে কর্মকর্তাদের উচিত, মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো। ইউএন, ডিসিসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উচিত, স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান এমনকি মেম্বারদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, তথ্য লুকানোর কিছু নেই। ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে সরকারি তথ্য প্রকাশে কোনো সমস্যা নেই। শুধু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে ১ শতাংশ গোপনীয়তা রয়েছে। সেটির প্রতি গণমাধ্যম সম্মান দেখাবে অবশ্যই। আগামীতে হয়তো সেই ১ শতাংশও আর গোপন রাখার প্রয়োজন নাও হতে পারে। সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছ।

এম এ মান্নান বলেন, কোনো তথ্য লুকাবেন না। আপাদের জরিপে যদি কোনো ভয়ংকর কিছু আসে সে ক্ষেত্রে মহাপরিচালক ও সচিবকে জানাবেন। তারা আমাকে জানাবেন। আমি সরকার প্রধানকে জানাবো।

পরিসংখ্যানের বিশুদ্ধতার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার বিবিএস এর ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে মূল তথ্য আসে বিবিএস থেকে। এজন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিশুদ্ধতা দরকার। আমরা জনগণের পক্ষে কাজ করি। আমলাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন জানান, এ প্রকাশনায় কৃষি, শিল্প, পরিবেশ, ব্যবসা, উৎপাদন, সেবা, জিডিপি, মূল্য ও মজুরি, বৈদেশিক বাণিজ্যে, ব্যাংকিং, দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, শ্রমশক্তি, জেন্ডার, রেমিট্যান্স, ডেমোগ্রামি, ফার্টিলিটি, মর্টালিটি, মাইগ্রেশনসহ বিভিন্ন বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক বিষয়ে ২ হাজার ৪১টি কনস্পেট ও ডেফিনেশন স্থান পেয়েছে। গ্রন্থটির বাংলা অনুবাদ ও তিন বছর পরপর এর হালনাগাদ করা প্রয়োজন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এসডিজির অগ্রগতি মনিটরিংয়ের জন্য সঠিক উপাত্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসডিজির ২৩১টি ইন্ডিকেটরের মধ্যে ১০০টির তথ্য বিবিএস সরাসরি প্রণয়ন ও সরবরাহ করে। বিবিএসের বিভিন্ন শুমারি ও জরিপ বা অন্যান্য পরিসংখ্যান কার্যক্রম একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা ব্যবহৃত হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে একটি বিষয়ের তথ্য ভিন্ন ভিন্ন হয়।

এ সমস্যা দূর করার জন্য সব শুমারি ও জরিপ বা অন্যান্য পরিসংখ্যান কার্যক্রম একই বিষয়ে যেন একই ধারণা বা সংজ্ঞা ব্যবহার করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন