চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমজাদ হোসেনকে দেখতে এফডিসিতে জনতার ঢল

এফডিসি থেকে আমজাদ হোসেনকে নেয়া হচ্ছে চ্যানেল আইয়ে

সেই ষাটের দশক থেকে নিয়মিত এফডিসিতে আসেন অভিনেতা, নির্মাতা ও গীতিকার আমজাদ হোসেন। এখানেই জীবনের বেশীর ভাগ সময় কাটিয়েছেন তিনি। এফডিসির প্রতিটি কোনায় কোনায় স্মৃতি ঝাপ্টে আছে তার। যতোদিন সুস্থ ছিলেন, নিয়মিত এফডিসি আসতেন তিনি। আজও দুপুরে তিনি এলেন। কিন্তু একেবারে নিথর দেহে। নির্বাক আমজাদ হোসেনের প্রবেশে এফডিসিও কেমন নিশ্চুপ আজ!

অথচ নিথর দেহের আমজাদ হোসেনকে দেখতেই লোকে লোকারণ্য এফডিসি। এতো মানুষের উপস্থিতি যে তাদের ধারণে ঠাঁই দেয়া যাচ্ছে না। সবার চোখে মুখে বিষণ্ণতা। আর এখানে কখনো আসবেন না আমজাদ হোসেন। কখনো এসে নিজের কাজের অভিজ্ঞতার কথা নতুনদের শোনাবেন না!

বিজ্ঞাপন

শেষবারের মতো এফডিসিতে নেয়া হয়েছে সদ্য প্রয়াত আমজাদ হোসেন। সকাল সোয়া ১১টা থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছিলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সম্মলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহায়তায় সেখানে সকালে থেকেই তাকে শ্রদ্ধা জানান শিল্প, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের বহু সংগঠন। এরপর সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন-এর সামনে। সেখানে অল্প কিছুক্ষণ রেখে আমজাদ হোসেনের মরদেহ সোয়া ১টার দিকে নেয়া হয় এফডিসিতে।

আমজাদ হোসেনের মরদেহ এফডিসি পৌঁছানোর আগেই সকাল থেকে সাধারণ মানুষ ভিড় করতে থাকে সেখানে। লাশ নিয়ে যাওয়ার পর এফডিসিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির তৈরী হয়। সেখানে অপেক্ষা করছিলেন তার দীর্ঘদিনের সতীর্থরা।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অভিভাবকতুল্য এক নাম আমজাদ হোসেন। সেই ষাটের দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণ, অভিনয়ে দাপটের সঙ্গে বিরাজ করেছেন তিনি। গুণী এই মানুষকে শেষবারের মতো দেখতে জনতার ঢলের মধ্যেও অশ্রুসজল চোখে দেখা গেছে চিত্রনায়ক আলমগীর, ফারুক, ববিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পা, সুচরিতা, এটিএম শামসুজ্জামানদের মতো গুণী শিল্পীরা। আরও ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

এ সময় নায়ক ফারুক বলেন, ‘আমজাদ হোসেন শহুরে গল্পে ছবি নির্মাণ করতেন না। গ্রামীণ গল্প ও চিত্র ফুটে উঠতো তার নির্মাণে। তার চলে যাওয়া চলচ্চিত্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। যতদিন বাংলা চলচ্চিত্র থাকবে, ততদিন আমজাদ হোসেন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’

ববিতা বলেন, ‘আমজাদ হোসেন ইজ দ্য বেস্ট আইকন ইন আওয়ার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। নির্মাতা হিসেবে তিনি যেমন দুর্দান্ত ছিলেন, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অমায়িক। তার ছবিগুলো হল থেকে সহজে নামতো না। তার ছবি গোলাপী এখন ট্রেনে’র মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সম্মাননা পেয়েছি। দেশের বাইরে থেকে আমজাদ ভাইয়ের নির্মাণের প্রশংসা শুনতাম। আমার ক্যারিয়ার উজ্জ্বল করতে তার অনেক অবদান ছিল। আমজাদ ভাইয়ের রূহের মাগরিফাত কামনা করি। তিনি যেন বেহেশতে থাকতে পারেন।’

নায়ক আলমগীর বলেন, ‘যখন ছাত্র ছিলাম তখন থেকে আমজাদ হোসেনকে চিনি। গত কয়েক বছর এফডিসিতে আড্ডা দিতাম। সেখানে আরও কয়েকজন পরিচালক থাকতেন। আমি, জামান সাহেব, ঝন্টু, ইফতেখার সাহেব সপ্তাহে তিন-চার বসে গল্প, আড্ডায় মেতে থাকতাম। ওই আড্ডায় আমাদের শিক্ষক আমজাদ হোসেন। তার থেকে যতটুকু শিক্ষা পেয়েছি, বাকি পথচলায় ওই শিক্ষা কাজে লাগাবো।’

মান্না ডিজিটাল স্টুডিওর সামনে রাখা হয়েছে আমজাদ হোসেনের মরদেহ। যেখানে আরো উপস্থিত আছেন এফডিসির এমডি আমির হোসেন, নির্মাতা গুলজার আহমেদ, সোহানুর রহমান সোহান, বদিউল আলম খোকন, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, আনোয়ারা, পূর্ণিমা, চিত্রনায়ক রিয়াজ, জায়েদ খান, সাইমন ও আরিফিন শুভ, জয় চৌধুরী, আরজু কায়েস, শানসহ এফডিসি কেন্দ্রীক বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-নেত্রীরা।

ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে গত ১৪ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আমজাদ হোসেন। সেখান থেকে গতকাল শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আমজাদ হোসেনের মরদেহ আসে ঢাকায়। আগামীকাল, রবিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় জামালপুর সদর হাইস্কুল মাঠে তার পঞ্চম জানাজা শেষে দাফন করা হবে স্থানীয় গোরস্থানে তার বাবার কবরে।

ছবি : নাহিয়ান ইমন

Bellow Post-Green View