চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আবার সেই অনুমোদনহীন কারখানা, আবারও প্রাণহানি

কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের মধ্যে অনেকের অবস্থাও বেশ খারাপ বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ।

দগ্ধদের খোঁজখবর নিতে পরিদর্শনে এসেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। দগ্ধদের দেখে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দগ্ধদের সবার অবস্থাই খুব ক্রিটিক্যাল। দুয়েকজন ছাড়া সবারই ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। ইতোমধ্যে ঢামেকের বার্ন ইউনিট থেকে ১১ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। দরকার হলে আরও রোগী সেখানে স্থানান্তর করা হবে।’ মন্ত্রীর কথায় ধারণা করা যায় যে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

বুধবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায় আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনায় এতো প্রাণহানির পরে সবাই নড়েচড়ে বসেছে। খোঁজ পড়েছে কারখানার আদ্যপ্রান্ত নিয়ে। জানা গেছে, আগুন লাগা কারখানাটির সরকারি অনুমোদন ছিল না। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

দেশে যেনো এ বিষয়টি নিয়ম হয়ে গেছে। কোনো বড় ঘটনা ও প্রাণহানির পরে আমরা জানতে পারি চলমান অনিয়ম ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।

বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, গ্যাস লিকেজ নয়তো সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো কারণগুলোই ঘুরেফিরে দেখা দেয় এসব অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে। নিমতলী, চকবাজার অগ্নিকাণ্ড, এফআর টাওয়ারে আগুনের পর নানা সাবধানতা আর নিয়মকানুনের কথা শোনা গিয়েছিল বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। কিন্তু সেগুলোর কার্যকারিতা, প্রয়োগ ও নিয়মিত নজরদারি যে খুব একটা ফলাফল নিয়ে আসতে পারেনি, তা কেরানীগঞ্জের ঘটনায় কিছুটা হলেও বুঝিয়ে দিচ্ছে।

অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার কারণে এভাবে প্রাণহানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়গুলোকে প্রশাসনসহ সকলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে আমাদের আশাবাদ।

শেয়ার করুন: