চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আবারও তোপের মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিত বিতর্কিত আচরণ করে সমালোচিত হচ্ছেন। এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেসের নারী সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

রোববার তিনি টুইট বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে কংগ্রেসের কয়েকজন নারী সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: নিজ দেশে ফিরে যাও। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কি করছে সে বিষয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প তাদের নাম উল্লেখ না করলেও যাদেরকে লক্ষ্য করে এমন টুইট করেছেন তাদের অধিকাংশের জন্ম মূলত যুক্তরাষ্ট্রে। তাদের মধ্যে অন্যতম চারজন হলেন নিউইয়র্ক থেকে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেস, মিনেসোটা থেকে রাশিদা তালিব, ম্যাসাসুয়েটস থেকে আইয়ানা প্রেসলি ও মিশিগান থেকে ইলহান ওমর। তারা মূলত ট্রাম্প সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। এদের মধ্যে একমাত্র ওমরই এসেছেন সোমালিয়া থেকে। বাকিদের জন্ম আমেরিকায়।

কংগ্রেসের নারী সদস্যকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি টুইটবার্তায় ট্রাম্প বলেন, এরা এসেছে সম্পূর্ণ ব্যর্থ কিছু সরকারের দেশ থেকে।  যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়া লাগবে না।  তাদের বরং উচিত হবে যার যার দেশে ফিরে গিয়ে নিজেদের সংশোধন করে আসা।  তারপর না হয় তারা এই দেশে এসে কথা বলবে’।

‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার যে, ডেমোক্রেটরা আমাদের দেশকে এতো খারাপভাবে তুলে ধরছে, বাজেভাবে সমালোচনা করছে দেশের অবস্থা নিয়ে। তারা যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে ২০২০ সালে আমরা ব্যালটে তার জবাব দিয়ে দেব’-পরের টুইটে বলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এসব টুইটের কড়া জবাব দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির নারী সদস্যরা সহ উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ট্রাম্পের সমালোচনায় ওকাসিয়া-করতেস বলেন, ‘আপনি (ট্রাম্প) রাগান্বিত। কারণ আপনি এই বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ যে, আমেরিকা একটি দেশ। যার অন্তর্ভুক্ত আমরাও।’

বিজ্ঞাপন

ইলহান ওমর সমালোচনা করে বলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, আমরা এই দেশে এসেছি এবং কংগ্রেস সদস্য হিসেবে আমরা সবাই আমেরিকাকে রক্ষা করার শপথ গ্রহণ করেছি।’

আইয়ানা প্রেসলি আরেক টুইটে লিখেছেন, ‘মি. ট্রাম্পের কথায় বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তার উদ্দেশ্য হলো আমেরিকার অভিবাসীদের মানবেতর প্রমাণ করা এবং তাদের মধ্যে নিষ্ঠুরভাবে বিভক্তির প্রাচীর তৈরি করা।’

ইলিনিয়ের মার্কিন সিনেটর ডিক ডারবিন তার পরিবারের লিথুয়ানিয়ান ঐতিহ্যকে উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি কি রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য ফিট? এটা আমার ভালো লাগছে’  ধন্যবাদ! ওমর উদ্বাস্তু হিসেবে আমেরিকায় মাত্র দুজন মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন। আরেকজন তালিব। এটাই আমেরিকার স্বপ্ন। বহুজাতিকতার স্বপ্ন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটা হ্রাস করতে পারেন না’।

ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব  ট্রাম্পের টুইট তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।

স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ‘ডোনাল্ট ট্রাম্পের বক্তব্য প্রচণ্ড বর্ণবাদী। তার একমাত্র লক্ষ্য আমেরিকাকে বিভক্ত করা। তার কথা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তার লক্ষ্যই ছিলো আমেরিকাকে শ্বেতাঙ্গদের করা, মহান করা নয়। কিন্তু তার বোঝা উচিত যে, আমেরিকার মূল শক্তি তার বহুজাতিকতায় এবং তার বর্ণবৈচিত্র্যে।’

মিশিগান থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ট্রাম্পের বক্তব্যকে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে যে সামান্য বিভক্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো তাতে বাধ সাধার সুযোগ হিসেবে নিচ্ছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দিলো। আমাদের দলের কেউ এই জাতীয় ঘৃণ্য বক্তব্য মেনে নিবে না।’

ডেমোক্রেটিক প্রার্থী বেটো ও রউকে টুইট করে লিখেছেন, ‘তার বক্তব্য বর্ণবাদী। এই কংগ্রেস নারী সদস্যরা আপনার আমেরিকার মতোই মহান এবং আমাদের মূল্যবোধগুলো তারা আপনার চেয়ে আরো ভালোভাবেই ধারণ ও উপস্থাপন করে।’

স্বয়ং রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থেকেও আসছে ট্রাম্পের সমালোচনা। জাস্টিন আমাশ, যিনি ট্রাম্পের অভিভাসন নীতির তীব্র সমালোচক এবং যিনি এই মাসে রিপাবলিকান পার্টি ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনিও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, সেসব আমেরিকান নাগরিকদের ফিরে যেতে বলুন, যারা সত্যি অপরাধী এবং বর্ণবাদী ও ঘৃণ্য। আপনার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়’।

Bellow Post-Green View