চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আবারও জঙ্গি হামলার শঙ্কা!

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ যখন কিছুটা উৎসবমুখর, তখন জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সে হিসেবে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীও জঙ্গি হামলা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্প্রতি এক চিঠিতে এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এর মধ্যেই আরও একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। খোদ রাজধানীর একটি পুলিশ স্টেশনে। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়, মিরপুরের পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে পরে পুলিশ জানিয়েছে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে জঙ্গি হামলার সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টি নিয়ে আরও অধিকতর তদন্ত হবে।  তবু আমাদের অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সতর্কতা অবলম্বন জরুর।

বিজ্ঞাপন

গত শুক্রবার পল্টনে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। একদিন পর একই এলাকা থেকে একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। এর চার দিনের মাথায় থানার ভেতরে বোমা বিস্ফোরিত হলো। এগুলো জনমনে জঙ্গি হামলার শঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, বড় ধরনের হামলার শক্তি জঙ্গিদের নেই। আমরা এই আশ্বাসে ভরসা রাখতে চাই।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তবে জঙ্গিদের দুর্বলতা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় অতীতের মতো আবারও কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। বাংলাদেশ বিগত দিনেও যেভাবে জঙ্গি দমনে রোল মডেল ছিল, সেই ধারাবাহিকতা এখনও বজায় রাখতে পারবে বলে আমরা আশা করি।

জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড, নাশকতা ও ধ্বংসাত্মকমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আদলে গঠিত নব্য জেএমবির সদস্যরা। এমন প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেখানে পুলিশকে টার্গেট করে বা পুলিশ স্থাপনায় হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। তাই জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্সের বিকল্প নেই।

পুলিশের সতর্কবার্তা এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও দপ্তরগুলো জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সফল হবে বলে আমরা আশা করি। এজন্য সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।