চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আফগানদের উড়িয়ে শীর্ষে ইংল্যান্ড

রানপাহাড় হয়তো টপকানো সম্ভব ছিল না। তাই বলে স্বপ্ন দেখতে তো বাধা নেই। লড়াকু যোদ্ধার জাত আফগানরা শেষপর্যন্তই লড়ল। ইংল্যান্ডের হিমালয় লক্ষ্যের জবাবে অসম লড়াইয়ের শেষে ম্যাচ হারল ১৫০ রানে। আর আফগানদের উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে ইংলিশরা।

পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ এই জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে ইংল্যান্ড। সমান পয়েন্ট নিয়েও রানরেটে পিছিয়ে দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া। ৭ পয়েন্ট করে নিয়ে রান পার্থক্যে যথাক্রমে তিনে নিউজিল্যান্ড আর চারে ভারত। তবে তারা একটি করে ম্যাচ কম খেলেছে। সেখানে পাঁচ ম্যাচে ৫ পয়েন্টে টেবিলের পাঁচে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

ওল্ড ট্রাফোর্ডে আফগানদের জয়ের জন্য হাতে বল নির্ধারিত ৩০০-ই, সেখানে বলের চেয়ে আরও ৯৮ রান বেশি করতে হত। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড দলে আছেন আবার জফরা আর্চার, মার্ক উডের মতো গতিময় সব অস্ত্র। সব চাপ সামলে নিজেদের সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে ইংলিশদের ৩৯৮ রানের জবাবে ৮ উইকেটে ২৪৭ করে থেমেছে আফগানিস্তান। হাড়টা দেড়শ রানের।

রানের হিসেবে এই বিশ্বকাপে এটাই সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংলিশদের ১০৬ রানের জয়টাই ছিল সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়।

বড় কিছুর স্বপ্ন নিয়ে ব্যাটিং করতে যে নামেনি আফগানিস্তান, সেটা তাদের ব্যাটিংয়ের শুরুতেই স্পষ্ট। দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার নূর আলি জাদরান শূন্যরানে সাজঘরের পথে হাঁটা দিলে হারের ব্যবধানটা সম্মানজনক করার দিকেই বেশি মনোযোগী হয় আফগানরা।

মিডলঅর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে উঠে এসে অধিনায়ক গুলবাদিন নায়েব কিছুটা আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিলেন। ২৮ বলে ৩৭ করার পর মার্ক উডের বলে উইকেটের পেছনে জস বাটলারের গ্লাভসে জমে তার ইনিংস শেষের পর বাকিরা আর আক্রমণের চেষ্টাটুকুও করেননি! যতটুকু চেষ্টা ছিল, তা পুরো ৫০ ওভার খেলে আসা।

বিজ্ঞাপন

সেই লক্ষ্য অনেকখানি সফল হয়েছে সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান ও হাসমতউল্লাহ শাহিদির কল্যাণে। দুজনের ৯৪ রানের জুটি পুরো ইনিংস খেলতে সাহায্য করেছে আফগানদের।

আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৬ করেছেন হাসমতউল্লাহ। ৪৬ করেছেন রহমত শাহ। ৪৪ এসেছে আসগর আফগানের ব্যাট থেকে। ৫২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংলিশদের সেরা বোলার আর্চার। আদিল রশিদও নিয়েছেন ৩ উইকেট। তার রান খরচ হয়েছে ৬৬টি।

অবশ্য পাহাড়সমান লক্ষ্যে এরচেয়ে বেশিকিছু করার সামর্থ্যও ছিল না আফগানদের। মনোবল যা ছিল তা প্রথম ইনিংসের সময়ই শেষ। তার উপর রেকর্ড ২৫ ছক্কা খাওয়ার পরও যে আফগানরা এ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেল, সেটাই তো অনেকখানি!

প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তানকে ৩৯৭ রানের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে ইংলিশরা। এই রানও আলোচনার হালে পানি পায়নি ছক্কার গুণে। এক ম্যাচে ২৫ ছক্কা তুলে নিজেদের ২৪ ছক্কার পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন করে রেকর্ড লিখেছে ইংলিশরা।

সবচেয়ে বেশি ছক্কা মরগানের। ১৭টি। ওয়ানডেতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ছক্কার রেকর্ডে এখন এটিই শীর্ষে। এর আগে এক ইনিংসে তিনবার ১৬টি করে ছক্কাময় ইনিংস দেখেছে বিশ্ব। রোহিত শর্মা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ক্রিস গেইল যৌথভাবে দখলে রেখেছিলেন রেকর্ডটি। ২০১১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৮৫ রানের ইনিংসে ১৫বার বল সীমানার উপর দিয়ে আছরে ফেলেছিলেন শেন ওয়াটসন।

রেকর্ড ছক্কায় ৭১ বলে ১৪৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। তার আগে মাত্র ১০ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি জনি বেয়ারস্টোর। একই আক্ষেপ থাকতে পারে জো রুটেরও। ৮২ বলে ৮৮ করে আউট হয়েছেন ইংলিশদের টেস্ট অধিনায়ক।

সেঞ্চুরি করে রেকর্ড করেছেন রশিদ খানও! বিশ্বকাপে প্রথম স্পিনার হিসেবে রান দেয়ার সেঞ্চুরি করেছেন আফগান লেগি। তাও পুরো ১০ ওভার করতে পারেননি। এক ওভার কম করেই ১১০ রান মুক্তহস্তে ইংলিশদের বিলিয়েছেন। ছক্কা খেয়েছেন ১১টি। ওয়ানডেতে কখনোই এক ইনিংসে এত ছক্কা আগে হজম করতে হয়নি কোনো বোলারকে!