চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আপত্তির মুখে তফসিল ঘোষণা হলেও এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি

প্রধানমন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের পর অবশেষে ঘোষিত হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। আগামী ২৩ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ নভেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ২৯ নভেম্বর।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ স্বাভাবিকভাবেই তফসিলকে স্বাগত জানালেও এতে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি বলে দাবি করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। নির্বাচনের কমিশনের কাছে দেওয়া তাদের দাবিগুলো মানা হয়নি বলেও তারা জানিয়েছে।

এর মধ্যে ইভিএম নিয়ে অনেক আগে থেকেই বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সরকারবিরোধী পক্ষের অবস্থান ছিল। এবারের নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার হবে জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন: ‘পুরাতন পদ্ধতির পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে। শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেওয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।’

Advertisement

ইভিএম ব্যবহার না করা ছাড়াও বেশ কয়েকটি দাবি ছিল, যা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাদের সবচেয়ে বড় দাবি ছিল যে এখনই যেন তফসিল ঘোষণা করা না হয়।

বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট তাৎক্ষণিক কিছু বক্তব্য জানালেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেননি। তিনি শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানা গেছে। ওইদিন বিকেলে রাজশাহীতে তাদের জনসভাও নির্ধারিত হয়ে আছে।

আমরা আগে বলেছিলাম, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরো কথা বলে তফসিল ঘোষণা করা হোক। সেটা হয়নি। এখন আমরা আশা করি, তফসিল যেহেতু ঘোষণা হয়েই গেছে তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সব দল ভেবেচিন্তে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

চিরাচরিত বয়কট বা বর্জনের সিদ্ধান্ত না নিয়ে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া ভালো হবে বলে আমরা মনে করি। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি মানাসহ সব ধরণের গণতান্ত্রিক মানসিকতা দেখানো হবে বলে আমরা আশা করি। পাশাপাশি বিরোধীদের গ্রেপ্তার ও গায়েবী মামলাও বন্ধ রাখতে হবে।

সবার অংশগ্রহণে আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।