চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক বিপণন ব্যবস্থা চালু থাকলে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এর প্রযোজক পেতেন ৫ কোটি টাকা

একটি মাত্র সিনেমা (ঢাকা অ্যাটাক) বানিয়ে আলোচিত হয়েছেন দীপংকর দীপন। ২০১৭ সালে মুক্তি প্রাপ্ত পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলারে ভরপুর এ সিনেমা বাংলা সিনেমায় অনেকটা নতুন ধারা তৈরি করতে সক্ষম হয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারও লাভ করে ছবিটি।

দীপনের নির্মাণে আরেক সিনেমা ‘অপারেশন সুন্দরবন’ মুক্তির অপেক্ষায়। সুন্দরবনের শ্বাপদসংকুল এলাকায় র‍্যাব কর্তৃক জলদস্যু নিধন অভিযান ও জীববৈচিত্র নিয়ে সিনেমাটি তৈরি করেন দীপংকর দীপন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

‘অপারেশন সুন্দরবন’র পোস্ট প্রোডাকশনের কাজও শেষ। শুধুমাত্র একটি গানের কিছু অংশের কাজ বাকি। দীপন চাইছেন, বিকল্প পন্থা নয় সিনেমাটি তিনি প্রেক্ষাগৃহেই দেখাবেন। তার কথা, র‍্যাব কল্যাণ ট্রাষ্টের উদ্যোগে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ নির্মিত হয়েছে। যারা নেপথ্যে কাজ করছেন তারা সিনেমাটি দেখে খুশি হয়েছেন। তারাও মনে করেন, এটি প্রেক্ষাগৃহে না দেখলে মানুষ ফিলই পাবে না। কোভিড পরিস্থিতি ছবিটি মুক্তির বিষয়টি নিয়ে ভাবাচ্ছে। তবে মুক্তি টার্গেট আসন্ন কোরবানির ঈদ।

দীপংকর দীপন মনে করেন, বর্তমানে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা শোচনীয়। করোনার দুটি ওয়েব সবকিছু কাবু করে দিয়েছে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়েছে প্যান্ডামিক। অনেক প্রেক্ষাগৃহ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন। যদি করোনার তৃতীয় ওয়েব আসে তাহলে আর কিছুই থাকবে না। পেশা পরিবর্তন করতে হতে পারে।

চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে দীপংকর দীপন বলেন, ঢাকা অ্যাটাকের মতো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে ভালো চলার পরেও আশানুরূপ টাকা পাইনি। ১০০ টাকার বিক্রিতে পেয়েছি ১৭ টাকা। পাঁচ ভাগের একভাগ পাই। একটি সিনেমার বাজেট দুই কোটি টাকা হলে কমপক্ষে আড়াই কোটি টাকার ব্যবসা হওয়া উচিত। আড়াই কোটি টাকা তুলতে হলে সাড়ে ১২ কোটি টাকার ব্যবসা করতে হবে। কিন্তু এই হার ইন্ডিয়াতে ৪০ পারসেন্ট (৪০% প্রযোজক, ৪০% সিনেমা হল এবং ২০% সরকার)। আমাদের এখানে প্রযোজক পাচ্ছেন ১৭ পারসেন্ট। সিনেমার ব্যবসা পলিসি থেমে আছে এই সিস্টেমে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ১০০ টাকা থেকে যে ১৭ টাকা পেলেও ঢাকার বাইরে প্রেক্ষাগৃহ থেকে টিকেট বিক্রির সঠিক কোনো তদারকি নেই। আসলেই কটা টিকেট বিক্রি হচ্ছে তা বুঝতে পারি না। একে তো ভাগ পাচ্ছি কম, আবার সেই ভাগটিও স্বচ্ছ নয়। এই কারণে ঢাকা অ্যাটাকের প্রযোজক ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মতো টাকা পেয়েছেন। এই সিস্টেমের হিসেবে টিকেট বিক্রি হয়েছে ১০ কোটি টাকার মত (গ্রস সেল)। হিসেবটা প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা দিয়েছেন। এর বাইরেও অনেক থাকে। ইন্ডিয়া বা অন্যান্য দেশের মত ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু থাকলে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এর প্রযোজক কমপক্ষে পেতেন ৫ কোটি টাকা।

অনেকগুলো স্পন্সর পেয়েছিলাম, স্যাটালাইট রাইটস ছিল। সবমিলিয়ে প্রযোজক অনেক লাভবান হতেন। ঢাকা অ্যাটাকের শুটিং বাজেট ছিল ২ কোটি ৩০ লাখ এবং মুক্তির আগে অন্যান্য কাজে খরচ হয়েছিল ২০ লাখের মত। সবমিলিয়ে আড়াই কোটি। স্পন্সর ছিল বলেই সবমিলিয়ে আমরা খরচটা রি-কভার করতে পেরেছিলাম। তবে মাল্টিপ্লেক্স (স্টার সিনেপ্লেক্স, যমুনা ব্লকবাস্টার, শ্যামলী) এর হিসেবগুলো ঠিকভাবে পেয়েছি। বলছিলেন দীপন।

সিনেমায় সুদিন ফেরাতে কিছু উদ্যোগের কথাও এসময় জানান দীপংকর দীপন। বলেন, তিনটি মাধ্যমে আমাদের সিনেমাগুলো বিক্রি হয়। পরিবেশক ও প্রদর্শক, কিছু কিছু ফিক্সড হিসেবে সিনেমা নেয় (লাভ লস যা হবে তিনি বুঝবেন), শেয়ারেও বিক্রি হয়। কিন্তু শেয়ারে বোঝা যায় না কী হচ্ছে না হচ্ছে! মাল্টিপ্লেক্সগুলো যেভাবে ডিজিটালি সিনেমা বিক্রির হিসেব দিচ্ছে সেই হিসেবটা সবাই দিতে হবে। একটি চেইনের মাধ্যমে সার্ভার, হলের পরিবেশন এবং প্রতিটি জেলার একটি মাল্টিপ্লেক্সে ৩টি স্ক্রিনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিভাগীয় শহরের প্রযোজক অনুযায়ী মাল্টিপ্লেক্স করতে হবে। সারাদেশের ১০০ মাল্টিপ্লেক্স পেলে সিনেমা আবার ঘুরে দাঁড়াবেই। সবমিলিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে কালচারাল বলয় তৈরি করা জরুরী। এজন্য সবার আগে প্রয়োজন সরকারী উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন।

প্রথম সিনেমা মুক্তিতে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে, ‘অপারেশন সুন্দরবন’ মুক্তিতে একই জিনিসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দীপনকে। এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার সিনেমা দেখে প্রচুর স্পন্সর কোম্পানি এগিয়ে আসছেন। আমার প্রতি তাদের আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। ট্রেলার, টিজার দেখে নিশ্চিত হয়েছেন, ভালো কিছু হতে যাচ্ছে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, সিনেমা হল বন্ধ হওয়ায় অনেক কোম্পানি স্পন্সর সরে যাচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, হল বন্ধ হলে সিনেমাটি দেখবে কারা! তবে এটা সত্য সিনেমাতে প্রোডাক্ট রিপ্লেসমেন্টে প্রচুর টাকা উঠে আসে। শুধু প্রয়োজন, কোম্পানিগুলোকে নিশ্চিত করা যে সিনেমাটি অনেক মানুষ দেখবে।

ওটিটি প্লাটফর্ম নয়, যে কোনোভাবে প্রেক্ষাগৃহ ঘুরে দাঁড়াতে হবে বলে মনে করেন দীপঙ্কর দীপন। তিনি বলেন, ওটিটি আমাদের বাঁচাতে পারবে না। সিনেমা হল না থাকলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বলতে যা আমরা বুঝি তা থাকবে না। বিশ্বে দেশ ২০০, প্রতিষ্ঠিত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ৪০ টির মতো। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে দেশের সমৃদ্ধির অন্যতম প্রতীক। জাতি সত্তা শেকড়ের প্রতীক। সার্কভুক্ত দেশের বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ভাল ধারণা আছে। বাকিগুলো সম্পর্কে তেমন কেউই জানি না।

বিজ্ঞাপন