চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড-২০২০ পাচ্ছেন চার সাহসী সাংবাদিক

আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড-২০২০ পাচ্ছেন বিশ্বের চারটি দেশ রাশিয়া, নাইজেরিয়া, ইরান ও বাংলাদেশের চারজন সাহসী সাংবাদিক।

তারা হলেন, স্বেতলানা প্রকোপাভো (রাশিয়া), দাপো ওলোরুনিয়মি (নাইজেরিয়া), মোহাম্মদ মোসায়েদ (ইরান) এবং বাংলাদেশের শহিদুল আলম।

দ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) এর পক্ষ থেকে ২০২০ সালের জন্য এ চারজন সাহসী সাংবাদিককে  সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

তারা প্রত্যেকে গণমুখি বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের জন্য মামলা, গ্রেপ্তার ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। এ কারণে তাদের প্রতি সম্মান জানাতে এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সিপিজে।

সিপিজে‘র নির্বাহী পরিচালক জোলে সাইমন বলেছেন, এমন কিছু সাহসী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সাংবাদিকদের সিপিজে সম্মানিত করছে, যারা নিজেদের সম্প্রদায়, দেশ ও বিশ্বের জন্য নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। যারা রাষ্ট্রের শক্তিশালী বাহিনী, সত্যের শত্রুদের সাথে লড়াই করে নিজেদের কাজ চালিয়ে নিয়েছেন। এমনকি বিশ্ব মহামারীর বিপজ্জনক সময়ে যখন বিশ্বের বহু শাসক জনস্বাস্থ্য ত্রুটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে ছদ্মবেশে দমন করার চেষ্টা করেছে, তখনও তারা নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি।

সিপিজে অ্যাওয়ার্ড ২০২০ এর জন্য মনোনিত সাংবাদিকদের পরিচয়:

বিজ্ঞাপন

স্বেতলানা প্রকোপাভো: রাশিয়ার রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টির আঞ্চলিক সংবাদদাতা, যেটি স্বোভদা নামে পরিচিত। ২০১৯ এর দিকে রাশিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাংবাদিকতার সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র জব্দ এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

২০১৮ সালে একটি আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করার দায়ে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় এবং তার ব্যাংক একাউন্টও জব্দ করা হয়। প্রসিকিউটর তার ছয় বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলো। পরে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ৫০০,০০০ রুবল বা ৬, ৯৮০ মার্কিন ডলার জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।

দাপো ওলোরুনিয়মি: নাইজেরিয়ার সংবাদপত্র প্রিমিয়াম টাইমসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, সিইও এবং প্রকাশক। সাংবাদিক হিসেবে তার দীর্ঘ কর্মজীবনে নাইজেরিয়ার সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বারবার সরকারি হয়রানির শিকার হয়েছেন। ১৯৯৫ সালে আত্মগোপনে যাওয়ার আগে তিনি দুবার গ্রেপ্তার হন। সম্প্রতি ২০১৭ সালে মানহানির একটি অভিযোগে প্রিমিয়াম টাইমস কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সহকর্মীসহ গ্রেপ্তার হন।

শহিদুল আলম: বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান আলোকচিত্রী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। বাংলাদেশি মাল্টিমিডিয়া প্রশিক্ষণ সংস্থা পাঠশালা মিডিয়া ইনস্টিটিউট এবং দৃক ফটো গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৮ সালের আগস্টে ঢাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করার পর শহিদুল আলম তথ্যপ্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার। রিমান্ডে তিনি নিপীড়নের শিকার হন বলে তার অভিযোগ।

মোহাম্মদ মোসায়েদ: ইরানের একজন স্বাধীন অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, যিনি দুর্নীতি, আত্মসাত, শ্রম ইস্যু, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন জনমুখি বিক্ষোভের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তার সাহসী সাংবাদিকতার জন্য সরকারি চাপের মুখে তাকে একটি সংস্কারবাদী পত্রিকা থেকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে সাংবাদ প্রকাশ করে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।

২০১৯ সালের শেষের দিকে মোসায়েদ একটি টুইটকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হন এবং ২০২০ সালের গোড়ার দিকে মুক্তি পান। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় দুর্বল পদক্ষেপের সমালোচনা করার দায়েও তাকে ফেব্রুারিতে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।

 

শেয়ার করুন: