চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

আদালতের পর্যবেক্ষণ উপেক্ষার উপায় নেই

বিজ্ঞাপন

দুই বছর আগে জ্যামে আটকে থাকা বাস থেকে নেমে আবার সেই বাসে উঠতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েল। কিন্তু চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে উল্টো তার মুখমণ্ডল নির্মমভাবে ইট দিয়ে থেতলে বিকৃত করে তাকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছিল হানিফ পরিবহনের একটি বাসের কয়েকজন স্টাফ।

শিউরে উঠা সেই ঘটনায় করা মামলায় ওই বাসের চালক, চালকের সহকারী এবং সুপারভাইজারকে রোববার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। তবে রায়ের পর্যবেক্ষণ হিসেবে দেয়া তার কথাগুলো আমাদের মনকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে, হৃদয়কে স্পর্শ করে গেছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন হত্যার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, যা বলা বোধ হয় ভুল নয়।’

pap-punno

এর কারণ ব্যাখ্যা করে বিচারক উল্লেখ করেছেন, ‘অদক্ষ গাড়িচালক, বেপরোয়াভাবে বাস চালানো, গাড়ি চলাচলের অযোগ্য রাস্তা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে এই দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। সড়কে প্রতিদিন এত মানুষের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, নাকি হত্যা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বসাধারণের মনে।’

‘‘প্রতিটি সড়ক যেন হয়ে উঠেছে মৃত্যুফাঁদ। সড়ক দুর্ঘটনা তো ঘটছেই, মারা যাচ্ছে সব বয়সী মানুষ। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীও রেহাই পাচ্ছে না বেপরোয়া বাসচালকদের হাতে। সড়ক যোগাযোগমাধ্যম এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে।’’

Bkash May Banner

এই মামলার রায়ে তিনি যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন; সম্ভব হলে আজই তার উত্তর খুঁজে সমাধানের পথে যাওয়া আমাদের অবশ্য কর্তব্য। সারাদেশে প্রতিদিন যেসব দুর্ঘটনা ঘটে; বলতে গেলে তার পেছনের সব মূল কারণই তুলে ধরেছেন বিচারক। এখন সেগুলোর সমাধানটাই জরুরি।

আমরা জানি, সড়ককে নিরাপদ করা নিয়ে গত কয়েক বছর প্রচুর কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে টানা আন্দোলন করেছেন। এমন কি আইন পরির্বতন করে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের সাজাও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তাতে কি সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে?

বাস্তবে আমরা তার সুফল দেখিনি। কেননা অদক্ষ গাড়িচালক, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, গাড়ি চলার অযোগ্য রাস্তা আর ফিটনেসবিহীন গাড়ির পছনে শক্তিশালী এক গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িয়ে আছে। সেখানে ক্ষমতাসীন দল থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাই সরাসরি আর্থিকভাবে লাভবান। তাই আইন করার চেয়ে তার বাস্তবায়ন করাটা জরুরি।

আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি, বিদ্যমান আইন দিয়েই সড়ক নিরাপদ করা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য চাই সদিচ্ছা আর দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের প্রতি আস্থা। তাহলেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল মিলবে। আমরা মনেকরি আজকে বিচারক তার পর্যবেক্ষণে যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন; তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View
Bkash May offer