চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আদর্শিক রাজনীতি থেকে আমরা দূরে সরে এসেছি: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন: আমরা এখন যারা রাজনীতি করি, তারা আদর্শিক রাজনীতি থেকে কিন্তু অনেক দূরে সরে এসেছি। এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাস বা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও আমরা জানি না।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজনে ‘নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : শেখ হাসিনার অবদান’ শীর্ষক সেমিনার তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

হানিফ বলেন: আমাদের সকল সংগঠন, শুধু মহিলা আওয়ামী লীগ না, আমাদের যুবলীগ বলেন, ছাত্রলীগ বলেন, আওয়ামী লীগ বলেন। দল করি আমরা, দলের কর্মী-নেতা, স্লোগান দিচ্ছি জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা এগিয়ে চলো আমার আছি তোমার সাথে, স্লোগান দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যে আর্দশটা ধারণ করে আমাদের রাজনীতি চলার পথ, সেটা কিন্তু আমার অনেকই জানি না। এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাস বা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও আমরা জানি না।

তিনি বলেন: বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে চিন্তাও করা যায় না, কেন এই বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন শব্দ এই ইতিহাস জানা সবার প্রয়োজন। কিন্তু আমার ধরণা আমাদের বেশির ভাগই এটা জানে না। আজকে বাংলাদেশের ইতিহাস জানার প্রয়োজন আছে। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতা দখল করে ছিলো, সেই ৭১ এর পরাজিত শক্তির দোসর। তারা ক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার শুধু বন্ধ করেনি। এই দেশে পাকিস্তানের ভাবধারা শুধু প্রতিষ্ঠিত করে নাই, সবচেয়ে যেই ক্ষতি টা করেছিলো, সেটা হলো সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন: আজকে দেখুন বাংলাদেশর দুটি ধারা৷ একটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। এই ধারা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নেতৃত্বে। আরেকটি ধারার সৃষ্টি হয়েছে এই বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী। মুক্তিযুদ্ধের আর্দশ বিরোধী ধারা সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার নেতৃত্বে। এটার সৃষ্টি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার নেতৃত্ব শুরু হয়েছিল, সেটা উত্তারাধিকার সূত্রে বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে আসছে।

হানিফ বলেন: আজকে আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের জাতির মানুষের মধ্যে নীতি, নৈতিকতা ও সততার সংকট। প্রত্যেকটা সেক্টরে আজকে মানুষের যে অসততা দেখি, অনৈতিকতা দেখি, এরকম অসততা নিয়ে একটা দেশ খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। আজকে বাংলাদেশ দেখেন বাংলাদেশ প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ শারীরিক ভাবে অসুস্থ। এই অসুস্থ মানুষের মধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ কিডনি রোগী। বাকি ২৫ ভাগ মানুষ ক্যান্সারের রোগী। এর একটাই কারণ হচ্ছে আমাদের নীতিহীন, অসততা, অনৈতিকতার মানসিকতা। আমরা খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছি। মাছে ফরমালিন দিচ্ছি। এসব করে একে অপরকে ঠকাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন: আজকের দেখুন নৈতিকতা কোন পর্যায়ে চলে গেছে। বিভিন্ন সময় কথা আসে, দুর্নীতির কথা আসে। বালিশ কিনতে যেয়ে দুর্নীতির কথা আসে। অবাক হতে হয়, যখন দেখি একটি সরকারি দফতরের ক্রয় নিয়ে দুর্নীতির কথা আসে। ইলেকট্রনিকস জিনিস যার দাম ৭’শ থেকে দেড় হাজার টাকা। বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করে। আবার তা উত্তোলনের জন্য ২ হাজার, তিন হাজার টাকা চার্জ কাটা হয়। নৈতিকতার কোন পর্যায়ে গেলে মানুষ এমন কাজ করতে পারে৷

আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি ড. সুলতানা সফির সভাপতিত্বে সেমিনার আরও বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মাতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।