চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আটকে আছে ফল: সাবেক সভাপতি-সম্পাদকদের সাথে বসার সিদ্ধান্ত

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

সম্পাদক পদে ভোট গণনা নিয়ে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে আটকে থাকা সব পদের ফল ঘোষণার জটিলতা কাটাতে সাবেক সভাপতি-সম্পাদকদের সাথে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

আগামি ৭ দিনের মধ্যে সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকগণ একত্রে বসে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করবেন বলে সভা থেকে আসা প্রকাশ করা হয়েছে।

Reneta June

বুধবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি ১৩ তম সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি মো. জালাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভা পরিচালনা করেন সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সহ-সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ, দুই সহ-সম্পাদক ও সাতজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

গত ১৫ এবং ১৬ মার্চ দুই দিনব্যাপী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়। পরেরদিন ১৭ মার্চ বিকেল সাড়ে চারটায় ভোট গণনা শুরু হয়ে চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।

গণনায় বিভিন্ন টেবিল থেকে আসা ভোটের অনানুষ্ঠানিক যোগফলে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী মো. রুহুল কুদ্দুস (বর্তমান সম্পাদক) কিছুটা এগিয়ে ছিলেন। তবে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সম্পাদক পদে পুনরায় ভোট গণনা চেয়ে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়কের কাছে এক পর্যায়ে আবেদন জানান আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাদা প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী আবদুন নূর। এনিয়ে মধ্যরাতে হইচই-হট্টগোল শুরু হয়। অনেকেই সেই সময় নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়কের পদত্যাগ চান। সেই সাথে উপস্থিত কয়েকজন আপত্তিকর কথা বলার পাশাপাশি অসৌজন্যমূলক আচরণও করেন।

সেই রাতের প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আইনজীবী এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘সমিতির দক্ষিণ হলে তখন অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক এ ওয়াই মসিউজ্জামান ও উপ-কমিটির অন্য সদস্যরা।’

এক পর্যায়ে রাত সাড়ে তিনটার দিকে ভোট গণনার স্থান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে এ ওয়াই মসিউজ্জামান জানান সম্পাদক পদে পুনরায় ভোট গণনা চেয়ে করা আবেদন দুই পক্ষের উপস্থিতিতে ১৮ মার্চ বেলা তিনটায় নিষ্পত্তি করা হবে। কিন্তু ১৮ মার্চ এ ওয়াই মসিউজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, ‘স্বাস্থ্যগত কারণে ১৭ মার্চ রাত ১টায় সমিতির বিদায়ী কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে আমি পদত্যাগপত্র দিয়ে দিয়েছি। এরপর আর তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে আসেননি এবং উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এবারের নির্বাচনের কোনো পদের ফলাফলই আর ঘোষণা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সম্পাদক পদে ‘ফ্রেশ কাউন্টিং’ চেয়ে আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গনে প্রতিদিন মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাদা প্যানেলের কিছু আইনজীবী।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৩৩ জন। আর মোট ভোটার ছিল ৮ হাজার ৬২৩ জন। সিনিয়র আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচনী সাব-কমিটি (নির্বাচন কমিশন) নির্বাচন পরিচালনা করেন। কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি, সহ-সভাপতির দুটি এবং সদস্যের তিনটি পদসহ মোট ছয়টি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত (সাদা প্যানেল) প্রার্থীরা ভোটের অনানুষ্ঠানিক যোগফলে এগিয়ে ছিলেন। আর সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সহ-সম্পাদকের দুটি এবং সদস্যের চারটি পদসহ মোট আটটি পদে এগিয়ে ছিলেন বিএনপি সমর্থিত (নীল প্যানেল) প্রার্থীরা।