চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আঞ্চলিক গানের কিংবদন্তী শেফালী ঘোষের মৃত্যুবার্ষিকী

শেফালী ঘোষ, আঞ্চলিক গানের সম্রাজ্ঞী হিসেবেই যার পরিচিতি। মূলত বৃহত্তর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের শিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম কণ্ঠসৈনিক। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান গেয়ে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সাহায্য সংগ্রহ করেন এই কিংবদন্তী।

এক বিশাল জনপদের মানুষের আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখকে তিনি ধারণ করেছিলেন তার কণ্ঠে। তার গানে প্রতিধ্বনিত হতো দক্ষিণ-পূর্ব জনপদের মানুষের জীবনাচরণ ও সংস্কৃতি। দুরারোগ্য ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে ২০০৬ সালের আজকের দিনে তার প্রয়াণ ঘটে।

বিজ্ঞাপন

১৯৬৩ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক শেফালী ঘোষ ও শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবকে দ্বৈত সঙ্গীত করতে অনুরোধ করেন। সেই থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি এ জুটিকে। তাদের দুজনের জুটি আজও চট্টগ্রাম ও আঞ্চলিক সঙ্গীতের অঙ্গনে সমানভাবে জনপ্রিয়। টানা ৩৭ বছর পর শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণবের মৃত্যুর পর এ জুটির অবসান ঘটে।

চট্টগ্রামে শেফালী দিদি নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। তাকে ছাড়া চট্টগ্রামের কোন সঙ্গীতানুষ্ঠান যেন কল্পনাই করা যেতো না। শুধু চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশেই তার পরিচিতি সীমাবদ্ধ ছিলও না। তার আবেগ ভরা কণ্ঠে গান ও আর সুরের মূর্ছণায় পুরো বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে তুলে ধরেছেন চট্টগ্রামকে। মায়ের ভাষাকে তিনি নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

বিজ্ঞাপন

তার গাওয়া বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে এম এন আখতার মুকুল রচিত এবং সুরারোপিত ‘যদি সুন্দর একখান মুখ পাইতাম’, মোহনলাল দাশ রচিত এবং সুরারোপিত ‘ও রে সাম্পানওয়ালা’, ‘ছোট ছোট ঢেউ তুলি’ ‘আঁরা বেগ্গুন চাঁটাগাইয়া’ প্রভৃতি।

১৯৪১ সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কানুনগো পাড়ায় জন্ম নেয়া শেফালী ঘোষের শৈশব কাটে গ্রামেই। পরিবারের অনুপ্রেরণায় ওস্তাদ তেজেন সেনের হাতেই হয় তার সজ্ঞীতজীবনের হাতেখড়ি। ১৯ বছর বয়সে গানের টানে আসেন চট্টগ্রাম শহরে। গানের টানে চট্টগ্রাম এসে প্রণয় ঘটে সঙ্গীতানুরাগী ননী গোপালের সাথে। সেই প্রণয় থেকে পরিণয়। পরবর্তীতে ওস্তাদ শিবশঙ্কর মিত্র, জগদানন্দ বড়ুয়া, নীরদ বড়ুয়া, মিহির নদী, গোপালকৃষ্ণ চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংগীতজ্ঞের কাছে তিনি দীক্ষাগ্রহণ করেন।

আঞ্চলিক গানের দুইশটি জনপ্রিয় অ্যালবাম বের করার কৃতিত্বের অধিকারী এই কিংবদন্তী ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সঙ্গীতের ফেরিওয়ালা হয়েছে ঘুরে বেড়িয়েছে। তার সুর, তার গানের মূর্ছনা আজও আন্দোলিত করে মানুষকে। আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতির স্বার্থেই তার অস্তিত্ব লালন করা প্রয়োজন।

শিল্পীজীবনের সূচনালগ্নে প্রথমে রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত এবং আধুনিক গান শিখতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বাংলা সঙ্গীতের আকাশে আঞ্চলিক গানের এক তারা হয়েই জ্বলে রইলেন।

Bellow Post-Green View