চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আগে চাই পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুই দুইবার পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় শক্তিশালী দুটি রো রো ফেরির ধাক্কা লাগলো! এর প্রথমটি গত মঙ্গলবার, সেদিন পদ্মা সেতুর ১৬ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয় রো রো ফেরি শাহ মখদুম। ঠিক তার তিন দিন পর গতকাল শুক্রবার ১৭ নম্বর পিলারে সজোরে ধাক্কা লাগে আরেকটি রো রো ফেরি শাহ জালালের। এখানেই শেষ নয়, আগেও কয়েকবার ফেরি-সহ বিভিন্ন নৌযান সেতুর পিলারে বারবার আঘাত করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তবে সর্বশেষ এই দুটি ঘটনা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদেরকে বেশি উদ্বিগ্ন করেছে। কেননা দীর্ঘদিন ধরে সেতু কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় নৌযান চলাচলে বার বার সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেছে। তাতে কোনো লাভ হয়নি, বারংবার তা উপেক্ষা করা হয়েছে। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিসি-কেও সেতু এলাকায় ফেরি চলাচলে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছিল। বাস্তব সত্য হলো, তারাও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। যার ফলাফল আমরা সবাই দেখছি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পদ্মা সেতুতে রো রো ফেরির ধাক্কার ঘটনা নিছকই দুর্ঘটনা? নাকি অন্তর্ঘাত? এই প্রশ্নের উত্তর সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে। এরই মধ্যে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ফেরিটির ইনচার্জ (ইনল‍্যান্ড মাস্টার) আব্দুর রহমানকে। শুধু তাই নয়, আরও তথ্য জানতে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। এতে নিশ্চয়ই প্রকৃত সত্য জানা যাবে। যদিও তিনি আগেই দাবি করেছেন, বৈদ্যুতিক সার্কিট পড়ে গিয়ে ফেরির স্টেয়ারিং বন্ধ হয়ে যায়। তাতে নদীর প্রবল স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর পিলারে গিয়ে ধাক্কা খায় ফেরিটি।

রো রো ফেরি শাহ জালালের ধাক্কায় পদ্মা সেতুর কোনো ক্ষতি হয়নি বলে এরই মধ্যে দাবি করেছেন সেতুটির প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তবে আমরা মনে করি, সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে তবেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রকল্প পরিচালকের মতো আমাদেরও প্রত্যাশা- এই ঘটনায় স্বপ্নের এ সেতুর কোনো ক্ষতি যেন না হয়।

আমরা মনে করি, দুর্ঘটনা বা অন্তর্ঘাত- যাই হোক না কেন, সবকিছুর আগে পদ্ম সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাতে যেন কোনো ফাঁক না থাকে। গর্বের এ সেতুতে কোনোভাবেই যেন আঘাত না লাগে।