চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আগামীকাল বিনিয়োগ বান্ধব মুদ্রানীতির ঘোষণা

মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আগামীকাল উৎপাদনমুখী ও বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ছয় মাসের জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। গত মুদ্রানীতির মত এবারও সতর্কতা অবলম্বন করেই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। তবে ঋণ প্রবাহ কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কিছুটা কঠিন হতে পারে। তাদের মতে, মুদ্রানীতিতে কতগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেমন, বর্তমানে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স কমতির দিকে। চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঋণাত্মক। এসবের প্রেক্ষিতে কিভাবে রপ্তানি ও রেমিটেন্স বাড়ানো যায়- সেদিকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের দিকে নজর দিতে হবে। এছাড়া মুদ্রা বিনিময় হার নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। টাকার অবমূল্যায়ন হবে কি-না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ মুদ্রানীতিতে এসব বিষয়ে নজর দেয়া না হলে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

Reneta June

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এবারের বাজেটে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে ঘাটতি ধরা হয়েছে। তবে ভ্যাট আইন স্থগিত হওয়ার কারণে তা বেড়ে ১ লাখ ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। কিন্তু বাজেট পাশের সময় এই বিশাল ঘাটতি নিয়ে তেমন কিছু জানাননি অর্থমন্ত্রী। তাই এত ঘাটতি কিভাবে পূরণ হবে তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। আবার মুদ্রা সরবরাহের মাধ্যমে যদি ঘাটতি পূরণ করা হয়, তাতেও সংকট দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মুদ্রানীতিকে নমনীয় হতে হবে বলে মন্তব্য করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, এবারের মুদ্রানীতিকে হতে হবে যথেষ্ট নমনীয়। যেটাকে সংকুলানমূলক বলা যেতে পারে। অর্থাৎ যখন যে পরিস্থিতির উদ্ভব হবে, তখন সেটাকে সেভাবে সামাল দিতে হবে।

ইব্রাহিম খালেদ বলেন, মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্যই হলো মূল্যস্ফীতি, ও মুদ্রাস্ফীতি ঠিক রাখা। এবারের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এই হার ধরে রাখা যাবে কি-না বা অতিক্রম হবে কি-না, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে মনে হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাটা কঠিন হয়ে পড়বে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ করাকে নতুন মুদ্রানীতিতে প্রাধান্য দেয়া হবে। এছাড়া সতর্কতামূলক অবস্থান বজায় রেখে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখাকেও বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। আর গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে আটকে রাখার আশা করা হয়েছে।

ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এবারের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কিছুটা বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ করা হতে পারে। যা জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতিতে ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, গত মে পর্যন্ত এ খাতে ঋণ বেড়েছে ১৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়াস থেকে প্রতি ৬ মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে ধারাবাহিকতায় মুদ্রানীতির কৌশল প্রণয়নে চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকেই ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদসহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।