চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আগস্টে রপ্তানি আয়ে হোঁচট, কমেছে রপ্তানি আদেশও

চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম মাস জুলাইতে রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়লেও দ্বিতীয় মাসে (আগস্ট) এসে তা বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। এই সময়ে ব্যাপক হারে কমেছে রপ্তানি আদেশও।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, এ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ছিল ৩শ ৮৫ কোটি ৮০ হাজার ডলার। কিন্তু এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২শ ৮৪ কোটি ৪৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ২৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

আর গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কম হয়েছে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সেসময় আয় হয়েছিল ৩শ ২১ কোটি ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

অবশ্য রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগস্ট মাস মূলত রপ্তানির জন্য স্লো মাস। অর্থাৎ এই মাসে সাধারণত রপ্তানি কম হয়। এছাড়াও এই মাসে কোরবানি ঈদ থাকায় উৎপাদন কম হয়েছে।

তবে আশঙ্কার কথা ব্যাপক হারে রপ্তানি আদেশ কমেছে। তাছাড়া প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ডলারের দাম কমেছে। এসব কারণে আগস্টে রপ্তানি আয় কমেছে বলে মনে করেন তারা।

ইপিবির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। কিন্তু এই সময়ে আয় হয়েছে ৬৭৩ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার ডলার।

এই হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই মাসে রপ্তানি কম হয়েছে ৯৫ কোটি ২৯ লাখ কোটি ডলার। অর্থাৎ ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে।

তৈরি পোশাকমূলত তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় কমেছে মোট রপ্তানি আয়ও। তৈরি পোশাক খাতে জুলাই-আগস্ট মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৬৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। বিপরীতে আয় হয়েছে ৫৭১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

এছাড়া গত অর্থবছরের (২০১৮-১৯) একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৫৭৫ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সেই হিসেবে ওই সময়ের তুলনায় বর্তমানে আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ হাজার। এই বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে রপ্তানি হয়েছে ৬৭৩ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার ডলার। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

তবে এবার আলোচনায় থাকা চামড়া ও চামড়াজাতীয় পণ্যের রপ্তানি আয় সামান্য বেড়েছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ১৮ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলারের চামড়া ও চামড়া পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৮ কোটি ৪৬ লাখ ২০ ডলারের।

এই সময় চামড়া ও চামড়ার জুতা জাতীয় পণ্যের রপ্তানি কমেছে। কিন্তু চামড়া জাতীয় পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে।

সব মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চামড়া ও চামড়াপণ্য রপ্তানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ। তবে চামড়ার রপ্তানি কমেছে ২১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পাট ও পাটপণ্য। এর মধ্যে রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কম হয়েছে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর গত অর্থবছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কম হয়েছে শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি  ও এফবিসিসিআইর বর্তমান সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আগস্ট মাস স্লো মাস। এই মাসে কোরবানির ঈদ থাকায় উৎপাদন কম হয়েছে।

“তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো দীর্ঘদিন ধরে আমরা বলে আসছি যে, দিন দিন কারখানাগুলোতে রপ্তানি আদেশ কমে যাচ্ছে। কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কাজ নাই। প্রতিযোগিতায় আমরা টিকতে পারছি না।”

রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার আরো কয়েকটি কারণ তুলে ধরেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

তিনি বলেন, ভারতে ডলারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগী দেশগুলোতে ডলারের দাম কমেছে। আমাদের রপ্তানি হওয়ার মত ডেনিমের আদেশগুলো পাকিস্তানে চলে যাচ্ছে।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৪ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ৪শ কোটি ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানিতে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার ও সেবা রপ্তানিতে ৮৫০ কোটি ডলার। এ ছাড়া পণ্যে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ আর সেবায় ৩৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৪শ কোটি ডলার। সে হিসেবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ বিলিয়ন ডলার বেশি ধরা হয়েছে। ওই অর্থবছর রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫৪ লাখ ডলার।

Bellow Post-Green View