চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আকবরদের সঙ্গে আফিফও, অপেক্ষায় বিপ্লব-মুগ্ধ

এইচএসসি পাশ করে বহু আগেই বিকেএসপি ছেড়েছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। আকবর আলী ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ায় এখনো সেখানকার ছাত্র। করোনাকালে অনুশীলনের সুযোগ দিতে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের এক মোহনায় নিয়ে এসেছে ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বজয়ী ছয় টাইগার যুবার সঙ্গে বিকেএসপিতে অনুশীলন শুরু করেছেন অলরাউন্ডার আফিফ। বিসিবির হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য ১১ ক্রিকেটার সেখানে থেকেই নেবেন শ্রীলঙ্কা সফরের প্রস্তুতি।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় দলের সঙ্গে এইচপি দলও শ্রীলঙ্কা সফর করবে এ মাসের শেষ সপ্তাহে। মুশফিক-তামিমরা স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলবে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এইচপি দলের চার দিনের ম্যাচের পাশাপাশি ওয়ানডেও রয়েছে।

দুই সংস্করণে খেলা থাকায় লাল ও সাদা বলে অনুশীলন করছেন আফিফ-আকবররা। অনুশীলন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিকেএসপির কোচরাই। সকাল ও দুপুরে রাখা হয়েছে দুটি সেশন।

এইচপি স্কোয়াডে থাকবেন বিশ্বকাপ জিতে আসা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। যাদের অধিকাংশই আবার বিকেএসপির বর্তমান ও সাবেক ছাত্র। নির্বাচকদের বিবেচনায় যারা রয়েছেন তাদের বিকেএসপিতে রেখে অনুশীলনের সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধ এসেছিল বিসিবির তরফ থেকেই।

বিজ্ঞাপন

যুব বিশ্বকাপে টিম টাইগার্সকে নেতৃত্ব দেয়া আকবর, পারভেজ হোসেন ইমন, হাসান মুরাদ ও মাহমুদুল হাসান জয় করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে সাভার বিকেএসপিতে ওঠেন ২৮ আগস্ট। পরে যোগ দেন শামীম পাটোয়ারি ও শাহীন আলম। রোববার তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন আফিফ।

চলতি সপ্তাহেই সেখানে আরও যোগ হওয়ার কথা আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, সুমন খান ও নোমান চৌধুরীর। কোচদের কাছে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তারা। এখন করোনা নেগেটিভ হলেই খুলে যাবে তাদের বিকেএসপির দরজা। মিলবে সুন্দর পরিবেশ আর পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে নিজেদের প্রস্তুত করার ফুরসত।

বিকেএসপির প্রধান ক্রিকেট কোচ মাসুদ হাসান বললেন, ‘১১ ক্রিকেটারের মধ্যে যারা এইচপি স্কোয়াডে থাকবেন না তারা এখানে অনুশীলন চালিয়ে যাবেন, আর যারা থাকবেন তারা বিসিবির অধীনে চলে যাবেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্যও সুযোগ রয়েছে এখানে অনুশীলন করার। যারা ইচ্ছুক তাদেরই সুযোগ করে দিচ্ছে বিকেএসপি।’

টি-টুয়েন্টি দলের নিয়মিত মুখ আফিফ ও বিপ্লব শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির অধীনে অনুশীলন করেছেন বেশ কিছুদিন। জাতীয় দলের কোচরা তখন যার যার দেশে অবস্থান করায় খুব বেশি ফায়দা তুলতে পারেননি নেট সেশন থেকে। ছোটবেলার কোচদের অধীনে আরেকটু কঠোর অনুশীলনের মানসিকতা নিয়েই তারা ফিরেছেন পুরনো ডেরায়।

আফিফ জানালেন, ‘সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করেই ব্যক্তি উদ্যোগে বিকেএসপি আসা। তাছাড়া এখানকার ছাত্র ছিলাম। কোচদের বলার পর তারাও স্বাগত জানিয়েছে, অনুশীলন পরিকল্পনা সাজিয়েছে। মাঠের সেন্টার উইকেটে ব্যাটিং করার সুযোগ আছে। আসলে করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিলাম, খেলতে পারিনি। সামনে খেলার ব্যস্ততা আছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বা নিজেকে সামনের চ্যালেঞ্জের জন্য একটু ভালোভাবেই প্রস্তুত করতে এখানে এসেছি।’

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষের পথে তাই সাকিব আল হাসান ক্রিকেটে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করেছেন, সেটি এই বিকেএসপিতেই। ২০২২ যুব বিশ্বকাপ সামনে রেখে অনূর্ধ্ব-১৯ দল গঠনের জন্য ৪৫ ক্রিকেটারকে নিয়ে বিসিবির ব্যবস্থাপনায় ক্যাম্পও পরিচালিত হচ্ছে সেখানে।