চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগেও কেন হেফাজত মতাদর্শী?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের পক্ষে স্ট্যাটাস দিলো হেফাজতের কয়েকজন কর্মী।এসব স্ট্যাটাসে ছিলও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিরোধী উস্কানি।অতঃপর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করলো তাদের।

এরপর কী ঘটলো?তাদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে এলো ফরিদাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ। হেফাজতে ইসলামের সরকার বিরোধী পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার দিতো মানিক গঞ্জের সিঙ্গাইরের এক আওয়ামী লীগ নেতা।তার বিরুদ্ধে মামলা করলো সেখানকার এক ছাত্রলীগ নেতা।অতঃপর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করলো সিঙ্গাইরের জয়মন্টপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অলি আহমেদ কে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জের ধরম পাশা উপজেলায় হেফাজতের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতাকে লাঞ্ছিত করলো সেখানকার এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।পরে বিষয়টা সংবাদ মাধ্যমে এলে বহিষ্কার করা হয় এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিকে।এরকম অসংখ্য নজীর বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে।করে আওয়ামী লীগ আর আচরণে হেফাজত।কই দলতও পারলোনা তাদের চিহ্নিত করতে?

অনেক বিএনপি জামাত হয়ে গেছে হেফাজত।আবার হেফাজত হয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকাবহ আগস্ট লিখে বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার দেয়।আবার হেফাজতের পক্ষ নিয়ে হেফাজত বিরোধীদের অকথ্য গালাগাল দেয়।দলীয় প্রতীক নৌকা পেতে জানবাজী করে কিন্তু হেফাজত ইস্যুতে তারা নিশ্চুপ থেকে যায়।হেফাজত যে রাষ্ট্রের আদর্শিক অস্তিত্ব,নিরাপত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য হুমকি।এ নিয়ে তাদের কোন ভাবনা নেই।হেফাজত ধর্মীয় ইস্যুতে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চক্রান্তে লিপ্ত ছিল।

এ চক্রান্ত সফল হলে কোথায় থাকতো আওয়ামী লীগ আর কোথায় থাকতো নৌকা?কেন আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা এই চক্রান্তকারীদের পক্ষ নিল?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আসনের সাংসদ ও আওয়ামী লীগ নেতা উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলছেন,ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আমি ছাড়াও মন্ত্রী সহ আওয়ামী লীগের আরও ৫ জন এমপি আছেন কেউ হেফাজতীদের বিরুদ্ধে কথা বলছে না।হেফাজতীদের বিরুদ্ধে শুধু আমি একাই প্রতিদিন ফাইট করছি এবং ফাইট করে যাব ইনশাআল্লাহ।

এ কথা সত্যি হলে অন্যরা কেন নিরব থাকছে?তাদের এই নিরবতার ব্যাখ্যা কী?আগে শুনতাম আওয়ামী লীগে মুশতাক লীগ ঘাপটি মেরে আছে তবে কি এখন বলবো হেফাজত লীগও ঘাপটি মেরে আছে?সরকার ও দেশের জন্য চরম হুমকি হেফাজতে ইসলাম।তবু দেশব্যাপী সরকার পন্থী মূল দল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন গুলোর কেন কোন তৎপরতা দেখা গেলোনা?কেন হেফাজত নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে ঝুমন দাসকে গ্রেফতার হতে হয়?কেন হেফাজতের দাবীর প্রেক্ষিতে পাঠ্যসূচীর পরিবর্তন করতে হয়?

বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,মদন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক কি এখনো হেফাজতেই আছেন নাকি পুনরায় দলে যোগ দিয়েছেন??? হাতে কিন্তু অনেক প্রমাণ!!!এগুলো কিসের ইংগিত বহন করে?একজন হেফাজতী কিভাবে হয়ে যায় আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক।হেফাজতে ইসলাম ইসলামের নামে কোন ধরনের ইসলাম চর্চা করছে তা এর নেতাদের ব্যক্তিগত চরিত্র ও ব্যাংক ব্যালেন্স দেখলেই বুঝা যায়।মসজিদের কথা বলে বাইরের দেশ থেকে টাকা আনে আর বেড়ে যায় নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক ব্যালেন্সের হিসাব।সম্প্রতি চাপের মুখে হেফাজতে ইসলাম তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে।কিন্তু এতো আলোচনা সমালোচনার পরেও তারা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিলোনা।

তারা তাকে পদ থেকে অপসারিত করলোনা,হেফাজতের সদস্যপদ স্থগিত,বাতিল,বহিষ্কার কোনটাই করলোনা।এমন কি তাকে একটি শোকজ নোটিশও পর্যন্ত করলোনা।

কর্মকাণ্ডে ও নিজেদের অবস্থানিক ভূমিকাতেই বুঝা যায় হেফাজত করতে হলে মামুনুল হকের এসব কর্মকাণ্ড কোন সমস্যা না।নবীর ঠোঁট নিয়ে ব্যঙ্গ করা যাবে,মিথ্যা কথা বলা যাবে,ফতোয়া বানানো যাবে,বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ব্যভিচার করা যাবে।কেবল জ্বালাময়ী বক্তৃতা ও মানুষকে ধর্মের নামে উস্কে দিতে পারলেই হবে।

বিভিন্ন দলের নেতারা তাদের দল ও জোটে সুবিধা করতে না পেরে হেফাজতের পোশাক পরেছে।ধর্মকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের ফন্দি খুঁজছে।মসজিদ মাদ্রাসা গুলোকে তারা ব্যবহার করে চলছে লোক সমাগমের জন্য।মানুষ মসজিদে নামাজ পড়তে যায় আর তারা উদ্দেশ্য হাসিল করে।এখান হতেই তারা মিছিল ও বিক্ষোভের কর্মসূচী শুরু করে।মাদ্রাসা গুলোকে তারা গড়ে তুলছে নিজেদের মতো করে।এসব মাদ্রাসায় দেশের জাতীয় সংগীতটি পর্যন্ত পড়ানো হয়না।বরং দেশ সম্পর্কে ও দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করা হয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

সম্প্রতি বলা হচ্ছে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা রাজনীতি করতে পারবেনা।সংগত কারণেই প্রশ্ন জাগে হেফাজতে ইসলাম কী করতে পারবে?কেউ বলতে পারে হেফাজতে ইসলাম কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়।এমনটি হলে তার রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখে কিভাবে?

হেফাজত তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করলো।এখন তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?আগে রাজনৈতিক দল হতে যোগ দিলো হেফাজতে।এবার কি তবে তারা জোরেসোরে শুরু করবে হেফাজত হতে সরকার দলে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগে একটি হেফাজত লীগ তৈরি করতে?আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই সৃষ্টি করতে হেফাজতী মতাদর্শের একটি কর্মী বাহিনী?আর এমনটি হলে তা হবে চরম ভয়াবহ ও বিশৃঙ্খল এক অবস্থা।১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি হয়ে গেল হাতে গোনা কয়েক জনের আহবায়ক কমিটি।

সংগঠনটির রয়েছে মহানগর,জেলা ও উপজেলা কমিটি। এই বিশাল নেতা কর্মী কি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।নিশ্চয়ই তা নয়।তারা নিশ্চয়ই কোন একটা ফন্দী করছে।আওয়ামী লীগে যেহেতু এমন নজীর দেখা যাচ্ছে।দলটির সতর্ক হওয়া উচিত।হেফাজতী মতাদর্শী আরও কেউ থেকে থাকলে তাদেরকে চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ভাবে তাদেরকে ছেঁটে ফেলা উচিত।নইলে একসময় ছেঁটে দেয়ার শক্তিই হারিয়ে ফেলবে।অতএব সময় থাকতে সাধু সাবধান!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)