চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আইনের যে ধারায় খালেদা জিয়ার মুক্তি

দুর্নীতির অভিযোগের দুই মামলায় দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মানবিক কারণ দেখিয়ে কারামুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন,বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ও অসুস্থতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সিআরপিসি’র ৪০১ (১) ধারাবলে তার সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞ ও দুরদর্শী নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে উদারনৈতিক মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

‘বিএনপি এ বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিকোন দেখে আমরা সকলের অভিন্ন শত্রু  করোনা মোকাবেলায় সরকারের সর্বাত্মক ও সম্মিলিত উদ্যোগে সহযোগি হবে।  বৈশ্বিক ও দেশের ভয়াবহ এ সংকটকালে সকল নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে মানুষকে বাঁচানো অভিন্ন পথ বেছে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আইনের এই ধারার ব্যাপারে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তির জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় আবেদন যায়।  ক্রিমিনাল কেসের ওপর সরকারের একটি বিশেষ পাওয়ার দেয়া আছে। সরকার চাইলে কারও সাজা স্থগিত করে মুক্তি দিতে পারে। একজন আসামি যখন অসুস্থ হয়ে যায়, অন্য কোনো পথ থাকে না তখন মুক্তির জন্য এ ধারায় আবেদন করতে পারে। বেগম জিয়া বর্তমানে অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে সরকার এই ধারায় বিবেচনা করে তার সাজা স্থগিত করে জামিন দেয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

বিজ্ঞাপন

এই মামলায় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে এই মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

মামলার বাকি সব আসামিকেও একই সাজা দেয়া হয় এবং ট্রাস্টের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘোষণা করেন আদালত।

এই মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করলে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এরপর সে খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে জামিন চান খালেদা জিয়া। তবে গত ১২ ডিসেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন। তবে খালদা জিয়া চাইলে তার সম্মতিতে ‘অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট’ দিতে বলা হয়।

এই জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগে ২১০ মিনিটের ‘নজিরবিহীন’ হট্টগোল হয়। ওই হট্টগোলের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতির আদালত কক্ষে পরবর্তীতে ৮টি সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা বসানো হয়।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজার রায় ঘোষণার পর বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়।