চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আইএসের নৃশংসতা এখনও পোড়ায় ইয়াজিদি শিশুদের: অ্যামনেস্টি

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ইরাকে ইসলামিক স্টেট(আইএস) সদস্যদের হাতে নৃশংস বন্দিদশা থেকে বেঁচে যাওয়া ইয়াজিদি শিশুরা মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে।

২০১৪ সালে আইএস যখন তাদের মাতৃভূমির নিয়ন্ত্রণ নেয় তখন অনেক ইয়াজিদি শিশু প্রাণ হারায়। প্রাণে বেঁচে যাওয়া প্রায় ২ হাজার শিশু মোটেও তাদের প্রয়োজনীয় যত্ন পাচ্ছে না।

অ্যামেনেস্টি বলছে, এসব শিশুরা পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে এবং তাদের সবার দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দরকার।

উত্তর ইরাকে যখন আইএস ঝড় তুলেছে তখন ইয়াজিদিরা পালিয়ে গিয়েছিল সিঞ্জার পর্বতে। সেসময় অনেককে হত্যা করা হয়েছিল এবং প্রায় ৭০০০ নারী ও মেয়েকে আটক করে দাসত্ব বরণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাদের অনেককে ধর্ষণও করা হয়েছিল।

ওই সময়ের সহিংসতায় কিছু ছেলে যুদ্ধে অঙ্গ হারিয়েছিল, আর ধর্ষণের শিকার কিছু মেয়ে কখনোই মা হতে পারবে না। অ্যামনেস্টি আইএস যোদ্ধাদের ধর্ষণের কারণে জন্ম নেওয়া দাসত্বে থাকা ইয়াজিদি নারীদের সন্তানদের বিদেশে পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছে।

উত্তর ইরাকের কয়েক ডজন সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেঁচে থাকা শিশুরা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতের পাশাপাশি আঘাত পরবর্তী স্ট্রেস ডিসঅর্ডার, মেজাজের উঠানামা, ভয়ঙ্কর স্মৃতির সমস্যায় ভুগছে।

এখনও হাজার হাজার ইয়াজিদি আটকে থাকা শরণার্থী শিবিরগুলোতে শিক্ষার হার খুব কম। যেসব ইয়াজিদি নারীদের আইএস যোদ্ধাদের বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে তারাও মানসিক ক্ষত সামলাতে লড়াই করছে।

২২ বছর বয়সী জাহান অ্যামনেস্টিকে বলেন, আমি (আমার সম্প্রদায়) এবং বিশ্বের সবাইকে বলতে চাই, দয়া করে আমাদের গ্রহণ করুন এবং সন্তানদের গ্রহণ করুন। আমি এই লোকদের কাছ থেকে কোনও সন্তান নিতে চাইনি। কিন্তু আমাকে একটি ছেলে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

সিরিয়ায় চূড়ান্ত আইএসের দুর্গ থেকে পালাতে গিয়েও অনেক ইয়াজিদি নারী তাদের সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

২৪ বছর বয়সী ইয়াজিদি নারী হানানের কাছ থেকে তার মেয়েকে কেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, আমরা সবাই নিজেদের মেরে ফেলার কথা ভেবেছি, চেষ্টাও করেছি।

অ্যামনেস্টির মতে মায়েদের সঙ্গে সন্তানদের অবশ্যই আবার স্থায়ীভাবে একত্রিত হওয়া উচিত।

অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের উপপরিচালক ম্যাট ওয়েলস বলেছেন, এসব নারীদের দাস করা হয়েছিল, নির্যাতন করা হয়েছিল এবং যৌন সহিংসতার শিকার করা হয়েছিল। তাদের আর কোনও শাস্তি দেওয়া ঠিক হবে না।

শেয়ার করুন: