চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নতুন তথ্য বলছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন ৭৪% কার্যকর

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভ্যাকসিন লক্ষণযুক্ত রোগ প্রতিরোধে ৭৪ শতাংশ কার্যকর। তবে এই মাত্রা ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ৮৩.৫ শতাংশে বৃদ্ধি পায়।

বুধবার প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানটির ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্টে নতুন এ তথ্য উঠে আসে।

এর আগে মার্চে ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারক এই প্রতিষ্ঠানের করা গবেষণায় বলা হয়েছিলো, রোগ প্রতিরোধে তা ৭৯ শতাংশ কার্যকর।

তখন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে তিরস্কার করে বলেছিলেন, এই পরিসংখ্যান ‘পুরানো তথ্যের উপর ভিত্তি করে’ দেওয়া।

পরে ওই ফল পুনর্বিবেচনা করে অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছিলো, সঠিক তথ্য হবে ৭৬ শতাংশ। তারপরেই আবার নতুন করে ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালায় প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাষ্ট্র, চিলি এবং পেরুতে ২৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের উপর পরীক্ষা চালিয়ে এই নতুন তথ্য জানানো হয়। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত ফলাফলে বলা হয়, এসব স্বেচ্ছাসেবক একমাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ভ্যাকসিন গ্রহীতা ১৭ হাজার ৬০০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে তীব্র ও সংকটপূর্ণ লক্ষণযুক্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়নি। পাশাপাশি যারা মন ভালো রাখার জন্য ওষুধ নিয়েছিলো (প্লেসবো) সেরকম সাড়ে ৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে তীব্র সংক্রমণ দেখা দেয়। এই প্লেসবো দলে দুজন মৃত্যুবরণও করেন- এমন কোনো ঘটনা ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের মধ্যে দেখা যায়নি।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিন গবেষক এবং এই গবেষণার একজন তদন্তকারী ড. আন্না ডারবিন বলেন,  আমি আনন্দের সঙ্গে অবাক হলাম। ভ্যাকসিনটি তীব্র অসুস্থতা এবং হাসপাতালে ভর্তির হাত থেকেও রক্ষা করে।

দুর্লভ কিন্তু ভয়াবহ রক্ত জমাট বাঁধার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বানানো অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের মধ্যে।

জুলাইয়ের শেষের দিকে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনে পূর্ণ অনুমোদনের আবেদন করেছিলো অ্যাস্ট্রাজেনেকা। সেখানকার চিফ এক্সিকিউটিভ প্যাসক্যাল সরিয়ট সেই সময়ে জানান, তার আশা এই ভ্যাকসিন এখনও যুক্তরাষ্ট্রে ভূমিকা পালন করতে পারে। যদিও তা প্রত্যাশার থেকে বেশি সময় নিচ্ছে।

যারা এরই মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা এমআরএনএ কেন্দ্রিক ফাইজার/বায়োএনটেক এবং মডার্নার ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি তাদের জন্য ভ্যাক্সজেভরিয়া নামে বুস্টার ডোজ তৈরি করছে। ১৭০টিরও বেশি দেশে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে ভ্যাক্সজেভরিয়া। আগামী বছরে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারের অনুমোদন চাইবে।

ডারবিন বলেন, তিনি আশা করছেন না যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাক্সজেভরিয়া খুব বেশি পরিমাণে ব্যবহার হবে কিন্তু এফডিএ অনুমোদন তাকে বড় মর্যাদা এনে দিবে।

বিজ্ঞাপন