চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অ্যাপলের সাবেক সফল ২১ কর্মকর্তা

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দামি ব্যান্ড অ্যাপল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে অ্যাপলকে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে। আর আজকে এই পর্যায়ে অ্যাপলকে নিয়ে এসছে একঝাঁক মেধাবী তরুণ। যাদের নিরলস পরিশ্রমের ফসল আজকের বিশ্বের সবচেয়ে দামি ব্যান্ড অ্যাপল।

তারা অনেকেই অ্যাপলে ছিলেন বছর খানেক কেউবা এক দশকেরও বেশি সময় পর্যন্ত। যে যতটুকু সময়ই থাকুক না কেন অ্যাপলকে সবাই তাদের মেধা  ও শ্রম দিয়ে নিয়ে গেছেন সাফল্যের শীর্ষে। সময়ের বিচারে  সফল ২১ জন অ্যালামনাই-এর তালিকা করেছে বিজনেস ইনসাইডার।

টনি ফিদেল
অ্যাপলের আইপড বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত। তার হাত ধরেই আসে ১৮ বছর বয়সী প্রজন্মের জন্য আইপড। সে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা করে নেস্ট ল্যাব যা গুগল ২০১৪ সালে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে কিনে নেয়।

ম্যাট রজার্স
নেস্ট ল্যাবের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাট রজার্স অ্যাপলে ছিলেন ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত। তিনি  সিনিয়র ম্যানেজার ছিলেন আইপডের এবং আইফোনের সফটওয়ার ডেভলপমেন্ট টিমেও ছিলেন। বর্তমানে নেস্ট ল্যাবের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বিল ক্যাম্পবেল
বিল ক্যাম্পবেল অ্যাপলে জয়েন করেন মার্কেটিং বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৮৩ সালে। তার হাত ধরেই আমেরিকাতে প্রযুক্তি পণ্য হিসেবে অ্যাপল র‌্যাংকিং্যে জায়গা করে নেয়। তাকে সিলিকন ভ্যালীর প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের কোচ হিসেবে সম্মোধন করা হয়ে থাকে।

ডেভ মরিন
ডেভ মরিন অ্যাপলে ২০০৪-২০০৬ পর্যন্ত প্রোডাক্ট মার্কেটিং এ কাজ করেছেন। ২০০৬ সালে সে অ্যাপল ছেড়ে চলে আসে ফেসবুকে। ফেসবুকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কাজ করে সেই বছরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য অ্যাপ পাথ তৈরি করে।  

হেইডি রইজেন
বিশ্বব্যাপী অ্যাপলের ডেভলপারের ৩০০ জনের যে বিশাল টিম ছিল তার নেতৃত্বে ছিলেন অ্যাপলের এক সময়ের এই ভাইস-প্রেসিডেন্ট। তিনি ছিলেন ১৯৯৬-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মাত্র এক বছর।  

গাই কাওস্কি
গাই কাওস্কি  ছিলেন ১৯৯৫ সাল থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত অ্যাপলের প্রধান নীতি বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি উইকিমিডিয়ায় কর্মরত।

অ্যান্ডি রুবিন
অ্যান্ডি রুবিন ছিলেন অ্যাপলের সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। অ্যাপল ছেড়ে আসার এক দশকের মধ্যে তিনি অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড প্রতিষ্ঠা করেন তার অন্য সহকর্মীদের সাথে নিয়ে। অ্যান্ড্রয়েডকে গুগল কিনে নেয় ২০০৫ সালে।

Advertisement

ট্রিপ হাউকিন্স
তিনি অ্যাপলের প্রথম দিকের কর্মকর্তা ছিলেন। স্ট্র্যাটেজিক ও মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা ছিলেন। অ্যাপল ছেড়ে আসার পরে তিনি একটি ভিডিও গেম নির্মাণ কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন।

শচীন আগারওয়াল
২০০২ সাল থেকে আগারওয়াল ছিলেন অ্যাপলের সিনিয়র সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। অ্যাপল ছেড়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ব্লগিং প্লাটফর্ম পোষ্টারাস। ২০১২ সালে টুইটার এটা কিনে নিলে আগারওয়াল টুইটারেই প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন।

বাটার্ন্ড সার্লেট
তিনি নব্বই দশকের প্রথম দিকে অ্যাপলে যোগ দেন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে। তার হাত ধরেই ডেভলোপ করে ম্যাক ওএস এক্স  যা পরবর্তীতে রুপ নেয় আইওএস এ। তিনি ২০১১ সালে অ্যাপল ছেড়ে দেন।

মার্ক বেনিয়ফ
যদিও তিনি খুব বেশিদিন ছিলেন না অ্যাপলে তার পরেও তিনি মনে করেন ভালো আইডিয়া দিয়েই ভালো উদ্যেক্তা হওয়া সম্ভব।
 
রেইড হফম্যান
৭ বছর ধরে  তিনি ছিলেন অ্যাপলের ইউজার এক্সপিরিয়েন্স আর্কিটেক্ট। ১৯৯৬ সালে অ্যাপল ছেড়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিঙ্কইনড যার বাজার মূল্য বর্তমানে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ডোনা ডুবিনস্কি রোজ
 তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত অ্যাপলের আন্তর্জাতিক বিপনন বিভাগে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।  

জন রুবিনস্টেইন
তিনি ২০০৬ সাল পর্যন্ত অ্যাপলের আইপড বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার পরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন পাম ইন কর্পোরেশনে।
 
রন জনসন
তিনি অ্যাপলের খুচরা বিপনন শাখার প্রধান ছিলেন ২০০০-২০১১ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে নিজের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন।

অ্যান্ডি হার্টসফিল্ড
আশির দশকের প্রথমদিকে অ্যাপলের প্রথম কম্পিউটার ম্যাকিনটসের সফটওয়ার ইউজার্ডের ডেভলপার ছিলেন তিনি। অ্যাপল ছেড়ে যোগ তিনি দেন গুগলে। গুলল প্লাসের সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেও কাজ করেন তিনি।  
 
ইভান ডল
তিনি ২০০৩ সালে অ্যাপলে ভিডিও ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে আই ফোনের সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেও কাজ করেন।

জ্যাঁ লুইস গ্যাসি
আশির দশকে কাজ করেন তিনি অ্যাপলে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ফ্রান্স শাখার প্রধান ছিলেন। ম্যাকিনটস কম্পিউটারের সফটওয়ার ডেভলপমেন্টের প্রধান ছিলেন তিনি।

ম্যাট ম্যাকনিস

তিনি অ্যাপলে যোগ দেন ২০০২ সালে মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে। পরবর্তীতে ই-বুক প্রকাশনা একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন।

রানী রাইনা আল-আব্দুলাহ্

তিনি জর্ডানে অ্যাপলের মার্কেটিং বিভাগে যোগ দেন। ১৯৯৩ সালে এক ডিনার পার্টিতে পরিচয় হয় জর্ডানের ভবিষ্যৎ রাজা আব্দুলাহ্ এর সাথে। পরবর্তীতে তাদের পরিণয় হয়। তিনি বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করছে।

অ্যালান কে
১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন অ্যাপলের ফেলো। চার বছর আগে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। যার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের ভালো আইডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া।