চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি পেল যেসব প্রতিষ্ঠান

অল্প সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত করতে দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও পিসিআর ল্যাবে অ্যান্টিজেন টেস্ট চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. বিলকিস বেগম স্বাক্ষরিত ১৭ই সেপ্টেম্বরের একটি চিঠিতে এ অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সারাদেশে অ্যান্টিজেন টেস্টের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অতি স্বল্প সময়ে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রস্তাবনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১১ই সেপ্টেম্বর ‘ইনটারিম গাইডেন্স’ অনুসরণপূর্বক দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সরকারি পিসিআর ল্যাব এবং সকল স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে অ্যান্টিজেনভিত্তিক টেস্ট চালুর অনুমতি নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, যাচাই বাছাইয়ের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রক্রিয়াধীন কোভিড-১৯ ল্যাব সম্প্রসারণ নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সর্বশেষ বৈঠক যেটি অনুষ্ঠিত হয় গত ১৭ই সেপ্টেম্বর। সেই বৈঠকে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্তকরণে চালু থাকা পিসিআর পরীক্ষার পাশাপাশি অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্ট কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দেয়া হয়।

কমিটির চেয়ারপারসন প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হচ্ছে যার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ পরীক্ষার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারলে আরো বেশি সংক্রমণ শনাক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ উদ্দেশ্যে জাতীয় পরামর্শক কমিটি অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্টের জন্য একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছে।

অ্যান্টিজেন হচ্ছে ভাইরাসের প্রোটিন, যা শরীরের ভেতর প্রবেশ করে কোষের প্রোটিন তৈরির পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে শুরু করে। শরীরের ভেতর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইটস প্রবেশ করলেই শরীর সেটাকে অ্যান্টিজেন হিসেবে গণ্য করে।

কারো পরীক্ষায় অ্যান্টিজেন পাওয়া গেলে তিনি ভাইরাসে আক্রান্ত বলে ধরে নেয়া হয়।

অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনকে ঠেকাতে কাজ করে। প্লাজমা থেরাপি অথবা টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে আসলে সেই অ্যান্টিবডি তৈরিতে সহায়তা করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় কোনও মেশিনের প্রয়োজন নেই, শুধু কিট দিয়ে দ্রুত সময়ে নির্ণয় সম্ভব। আর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা মূল্য সাশ্রয়ী। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফল পাওয়া সম্ভব।

অ্যান্টিজেন টেস্ট ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তারা।