চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অস্বস্তির মেঘ সরিয়ে স্বস্তির আলোয় সাইফউদ্দিন

শেষ ম্যাচে ৫ উইকেট শিকারের আনন্দ মিলিয়ে গেছে দলের হারে। সুযোগ এসেছিল ব্যাট হাতে দলকে জেতানোর। শেষ ওভারে সৌম্য সরকারকে লং অন দিয়ে ছক্কা মেরে জাগিয়েছিলেন আশাও। কিন্তু পরের বলটায় ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে তুলে দিলেন ক্যাচ! টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট (১২) শিকারি মো: সাইফউদ্দিনকে বাড়ির পথ ধরতে হয়েছে আক্ষেপ নিয়েই।

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে তামিম ইকবাল একাদশের অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো হলে, দলকে ফাইনালে টেনে তুলতে পারলে এ অলরাউন্ডারের জন্য স্মরণীয় টুর্নামেন্ট হতে পারত এটি। হয়নি বলে আক্ষেপ আছে এ তরুণ পেস অলরাউন্ডারের মনে।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে সাইফউদ্দিন নিজের পারফরম্যান্স মূল্যয়ন করলেন এভাবে, ‘যদি শেষ ম্যাচটা দলকে জেতাতে পারতাম তাহলে বলতে পারতাম টুর্নামেন্ট আমার জন্য দারুণ গেছে। জেতাতে না পারায় খুব আক্ষেপ হয়েছে। জানতাম আমাকে স্লোয়ার মারবে। বলটাও আমার ফেবারিট জোনেই ছিল কিন্তু টাইমিং হয়নি। কয়েকটা ম্যাচে যদি আরেকটু রান করতে পারতাম তাহলে সব ভালো বলতে পারতাম।’

সাইফউদ্দিন ফাইনাল খেলতে না পারলেও তাকে টপকাতে পারেনি কেউ। চার ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে শেষ করেছিলেন। পাঁচ ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশের পেসার রুবেল হোসেন টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন ১২ উইকেট নিয়েই। করোনা বিরতির পর প্রথম প্রতিযোগিতামূলক আসরে যৌথভাবে সেরা এই দুই বোলার।

ব্যাটিং আরেকটু ভালো হলে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ আজীবন মনে রাখার মতো একটি টুর্নামেন্ট হতে পারত সাইফউদ্দিনের জন্য বোলারদের দুর্গে চার ইনিংসের একটিতে করেছিলেন সর্বোচ্চ ৩৮। শেষ ম্যাচে আউট হন দুই অঙ্ক ছুঁয়ে। আরেকটা ছয় হাঁকাতে পারলে অন্যরকম হতে পারত সব কিছু। ফাইনাল খেলতে পারলে সুযোগ থাকত আরও উইকেট শিকারের, ব্যাট হাতেও রান তোলারও।

সেটি নিয়ে সাইফউদ্দিনের আক্ষেপ এক পাশে রেখে শুধু বোলিং পারফরম্যান্স মূল্যয়ন করলে এক কথায় দুর্দান্ত বলতেই হবে। কেননা দীর্ঘ বিরতির পর বিসিবির অধীনে অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়ে এ অলরাউন্ডার শুনিয়েছিলেন বোলিং স্কিল নিয়ে অস্বস্তি ও চিন্তার কথা।

বিজ্ঞাপন

তার কথায় বোঝা যাচ্ছিল আগের ছন্দ ফিরে পেতে সময় লাগবে। কিন্তু সাইফউদ্দিন সময় নেননি মোটেও। টুর্নামেন্ট খেলতে নেমেই হয়েছেন সফল। প্রতি ম্যাচেই পেয়েছেন উইকেট। কখনো নতুন বলে কখনো পুরনো বলে।

এর পেছনের রহস্য জানতে চাইলে সাইফউদ্দিন বলেন, ‘রহস্য কিছু নেই। বিশেষ কিছু করতে না পারলে জাতীয় দলে টিকে থাকা যাবে না। এই ভাবনা সবসময় কাজ করে। এই টুর্নামেন্টেই দেখেন কত পেসার। কম বেশি সবাই ভালো করেছে। কিছুটা প্রতিযোগিতা তো থাকেই। প্রমাণ করার চেষ্টা ধরে রাখতে হবে। আর উইকেট পেতে তো ভাগ্যও লাগে। ভালো বোলিং করলেও অনেক সময় উইকেট পাওয়া যায় না।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কোয়াডে ছিলেন সাইফউদ্দিন। টি-টুয়েন্টি ওয়ানডের পর লাল বলের ক্রিকেটেও খেলার ডাক আসাই কি সাইফউদ্দিনকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে রঙিন পোশাকে প্রেসিডেন্টস কাপে? ‘আসলে এমন না। যখন জেনেছি সফরটা হচ্ছে না তখনই ওটা মাথা থেকে ঝেরে ফেলেছি। টেস্ট খেলার স্বপ্ন তো থাকেই। অপেক্ষা হয়ত দীর্ঘ হলো। জানি না ওই সময়টায় শ্রীলঙ্কা সফর হলে কেমন হতো পারফরম্যান্স। জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এলে যদি তিন সংস্করণেই খেলার সুযোগ হয় সেটি হবে দুর্দান্ত। তার আগে খেলে নিজেকে প্রস্তুত করার সময় পাচ্ছি।’

করোনা বিরতির সময়টা সাইফউদ্দিন কাটিয়েছেন নিজ জেলা ফেনীতে। সেখানে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় বোলিং নিয়ে খুব বেশি কাজ করতে পারেননি। ঢাকায় ফিরে কিছুদিন ছিলেন আইসোলেশনে। ছয় মাস পর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সুযোগ হয় অনুশীলন করার। তখন জানান বোলিং নিয়ে দুর্ভাবনার কথা।

বল হাতে দুর্দান্ত করার পর এখন কী সেটি কেটেছে? সাইফউদ্দিন জানান, ‘অনুশীলনে নতুন বলে ২ ওভার, পুরণো বলে ২ ওভার করতাম। ম্যাচে শুরুর দিকে কষ্ট হয়েছে মানিয়ে নিতে। পরে তো দশ ওভারও করেছি। সমস্যা বোধ করিনি। ধীরে ধীরে ফিট হয়ে উঠেছি। সর্বশেষ ম্যাচে ৯০ শতাংশ এফোর্ট দিতে পেরেছি। আশা করি আগামী মাসে টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে শতভাগ দিয়ে বোলিং করতে পারব।’