চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অস্থিরতার ইঙ্গিতে অস্থিতিশীলতার আশংকা

টানা তিন মাসের সহিংসতা এবং অস্থিতিশীল অবস্থার পর সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বস্তির সুবাতাস বইলেও ওই নির্বাচনকে ঘিরেই আবারো অস্থিরতার ইঙ্গিত। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার  গাড়িবহরে হামলা, হামলাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলা এবং কথার যুদ্ধে আবারো সংকটের আশংকা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তারা বলেছেন, সিটি নির্বাচনকে ঘিরে দেশে এক ধরণের স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর তার সদ্ব্যবহার করা উচিত। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেশের অর্থনীতির জন্য সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার লোকসানের মতো ক্ষতি এড়াতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সেজন্য সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স স্টাডিজ এর চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. সুলতান হাফিজ রহমান বলেন, গাড়িবহরে হামলার মতো ঘটনা আরো ঘটলে তা দেশকে কঠিন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ অবশ্য অতো বেশি আশংকিত নন। কোনো হামলাই সমর্থনেযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনকে ঘিরে দেশের পরিস্থিতি কিছুটা হলেও শান্ত হয়ে এসেছে। অনেকদিন পরে পাওয়া শান্ত রাজনৈতিক পরিবেশ খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় কিছুটা বিঘ্নিত হলেও তা আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না।

Advertisement

কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতিতে এখনই মনযোগী না হলে কঠিন পরিস্থিতির আশংকা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক নূরুল আমিন বেপারী। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনকে ঘিরে দেশে স্বস্তি ফিরে এসেছিলো। আশা করা হচ্ছিলো এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো আবারো সুস্থ রাজনীতির চর্চায় ফিরে আসবে। কিন্তু গতকাল যা ঘটেছে তা গণতন্ত্র পরিপন্থি। এ ধরণের আচরণ প্রমাণ করে বর্তমান সরকার একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক তা চায় না।

নুরুল আমিন বেপারী মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সরকার সমর্থিত প্রার্থীর হেরে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্যই তারা চাচ্ছে এই নির্বাচন বিএনপি বয়কট করুক। তিনি বলেন, সরকার যদি সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ সিটি নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়, তা হলে জাতীয় নির্বাচনের পর যে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো তা আবারো ফিরে আসবে।

পরিস্থিতি পরে যাই হোক, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ড. সুলতান হাফিজ রহমান মনে করছেন, অবাধ এবং সুষ্ঠু সিটি নির্বাচন না হলে সরকারের সমালোচকরা আবারো কথা বলার সুযোগ পাবে। তবে তার মতে, দু’ দলের সামনেই দায়িত্ব অনেক। তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক যে প্রক্রিয়াটা বজায় আছে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার যে চেষ্টা, তা ধরে রাখতে দু’ দলকেই ভূমিকা রাখতে হবে।

এজন্য সিটি নির্বাচনকে শতভাগ সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ করাকে খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন ড. সুলতান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. বশির আহমেদও মনে করেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য নির্বাচনটা সুষ্ঠু হওয়া খুব জরুরি।