চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়া ফেরত নারী ক্রিকেটারদের হালচাল

ঝুঁকিপূর্ণ ১৪ দিন পেরিয়ে যাওয়ায় স্বস্তি

অস্ট্রেলিয়ায় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ঢাকায় ফিরেছে ২ মার্চ। তার আগেই আয়োজক দেশটিতে সনাক্ত হয় করোনা আক্রান্ত রোগী এবং খুব দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়াতে থাকে ভাইরাসটি। টিম টাইগার্স মেলবোর্ন থেকে নিরাপদে দেশে ফিরে এলেও দুশ্চিন্তা কাটছিল না। দুসপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর সবাই সুস্থ থাকায় মিলেছে স্বস্তি।

সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফেরা যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সরকার। নারী দল যখন ফেরে তখন ছিল না কোনো নির্দেশনা, বিমানবন্দরে হয়নি স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি হয়েছে ভয়াবহ, বেড়েছে সতর্কতা। করোনাভাইরাসের উৎপত্তি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে হলেও ক্রমেই ছড়াতে থাকে অন্যান্য দেশে। চীনের বাইরে ছড়ানো দেশের তালিকায় শুরুর দিকেই অস্ট্রেলিয়ার নাম। সেখানে বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই বাড়তে থাকে সংক্রমণ।

করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ দেশের ক্রিকেটসহ সবধরনের খেলাধুলা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কার্যত বেকার খেলোয়াড়রা। নারী ক্রিকেট দলের সদস্যরা চলে গেছেন যার যার গ্রামের বাড়ি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটছে তাদের।

পেসার জাহানারা আলম ও অলরাউন্ডার লতা মণ্ডল (বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ছিলেন) আছেন কেবল ঢাকায়। ভিন্ন দুই সংস্করণের অধিনায়ক সালমা খাতুন (টি-টুয়েন্টি), রুমানা আহমেদ (ওয়ানডে) চলে গেছেন খুলনার নিজ বাড়িতে।

বিজ্ঞাপন

মার্চের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। কবে তারা ফিরেছেন, কী অবস্থায় আছেন, সে খোঁজ-খবর কিছুদিন আগে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বস্তির বিষয় হল, দেশে তারা ২০ দিন কাটিয়ে দিলেও কারো মধ্যে নেই করোনাভাইরাসের উপসর্গ।

জাহানারার বাড়িও খুলনায়। পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার ভাবনা তার মাথায় আসতেই একরকম লকডাউন হয়ে পড়ে দেশ। সেজন্য ঢাকায় অবস্থান করা নিরাপদ মনে করছেন। ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে মাঝেমাঝে আসছেন শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে। মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস পরে ঝরাচ্ছেন ঘাম।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বললেন, ‘সাবধানতা অবলম্বন করেই বিসিবির জিম ব্যবহার করছি। প্রায় সবাই গ্রামে চলে গেছে। আমি মিরপুর ৬ নম্বরের বাসায় আছি। গ্রামে যেতে চাইলে যেহেতু পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে হবে, সে কারণে ঝুঁকি নেইনি। পরিবার থেকেও বলেছে যেখানেই আছ সেখানেই থাক। এ অবস্থায় মুভমেন্টের প্রয়োজন নেই। এখন সচেতন থাকা আর সবাই সবার জন্য দোয়া করা ছাড়া উপায় নেই।’

আরেক ক্রিকেটার লতা আছেন পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুরের বাসায়। রোববারও এসেছিলেন মিরপুরের একাডেমি মাঠে রানিং করতে। এ অলরাউন্ডার বললেন, ‘ধুলাবালির জন্য আগে থেকেই মাস্ক ব্যবহার করতাম। এখন তো এটা ছাড়া নিঃশ্বাস নিতেই ভয় হয়। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, খুব তাড়াতাড়ি যেন এই সংকটের অবসান হয়। আমরা খেলায় ফিরতে চাই।’

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, দেশের ক্রিকেট স্থগিতের ঘোষণা দেয়ার পরপরই ঢাকা ছেড়েছেন রুমানা। খুলনায় গিয়ে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন কিছুদিন। এখন বন্ধ স্টেডিয়ামটির সকল কার্যক্রম। ঘরেই সময় কাটছে তার।

চ্যানেল আই অনলাইনকে লাল-সবুজদের ওয়ানডে অধিনায়ক বললেন, ‘বিশ্বকাপের আগে হাঁটুর চোট থেকে সেরে উঠলেও কিছু কাজ চালিয়ে যেতে বলেছিল ডাক্তার। অনেকদিন বসে থাকলে চোট ফিরে আসতে পারে। যে কারণে আমাকে কিছুদিন জিম করতে হয়েছে। এখন যেহেতু সব বন্ধ, ঘরেই সময় কাটাচ্ছি। আশা করি এই রুদ্ধ অবস্থা থেকে আমরা দ্রুতই মুক্তি পাবো।’