চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অস্কারে এবার ডকুমেন্টারি পাঠাচ্ছে ইরান

অস্কারের এই ক্যাটাগরিতে ইরান এর আগেও দুইবার পুরস্কার জিতেছে। ২০১১ সালে ‘অ্যা সেপারেশন’ এবং ২০১৬ সালে ‘দ্য সেলসম্যান’ ছবি দুটি জিতে নিয়েছিল অস্কার…

অস্কারের ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগটির প্রতি একটু বেশিই আগ্রহ থাকে সিনেমাপ্রেমিদের। এই বিভাগটি আগে ‘সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র’ নামে পরিচিত ছিল। এবার এই বিভাগের জন্য ছবি পাঠানোর ক্ষেত্রে ইরান একটু ভিন্নতা দেখিয়েছে। এই বিভাগের জন্য তারা নির্বাচন করেছে একটি ডকুমেন্টারি!

অস্কারের জন্য নির্বাচিত ডকুমেন্টারিটির নাম ‘ফাইন্ডিং ফরিদেহ।’ ডকুমেন্টারিটি পরিচালনা করেছেন আজাদেহ মওসাভি এবং কৌরশ আতাই। এক নারীর শেকড়ের সন্ধান করার কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে ডকুফিল্মে।

বিজ্ঞাপন

এলিন ফরিদেহ নামের সেই নারী এলিন কনিং নামে পরিচিত হলেও তার আসল পরিবার ইরানের। ৪০ বছর আগে যেই পরিবার তাকে চিলড্রেনস হোমে ফেলে চলে গিয়েছিল, সেই পরিবারের সন্ধানে তিনি ইরানে যান।

ডকুফিল্মের কাহিনী শুরু হয় ১৯৭৬ এর এক রাত থেকে। ছয় মাসের এক মেয়ে শিশুকে ইরানের মাসহাদে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর তাকে একটি এতিমখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ডেনমার্কের এক দম্পতি তাকে দত্তক নেয় এবং হল্যান্ডে নিয়ে যায়। ছোট্ট ফরিদাহ বেড়ে উঠতে থাকে একদম ভিন্ন এক পরিবেশে যেখানে নিজের দেশের কোনো বন্ধু নেই তার।

কিছুদিন পরে ডেনমার্কের সেই দম্পতির বাড়ির কাছের আরেক দম্পতি ফরিদেহকে দত্তকের কথা শুনে অনুপ্রাণিত হয়। তারাও ইরানে গিয়ে একই এতিমখানা থেকে আরাই বছর বয়সের ফারানাককে দত্তক নিয়ে আসে।

দুই শিশুর মধ্যে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। পাঁচ বছর পরে এলিনের বাবার কাজের সুবাদে আরেক গ্রামে চলে যেতে হয়। তাই বন্ধুর থেকে দূরে চলে যেতে হয় এলিনকে।

বিষয়টি মানতে পারেনা এলিন। বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। নয় বছর বয়সের আরও কঠিন যন্ত্রণায় পড়তে হয় এলিনকে। স্কুলের শিশুরা এলিনকে কটু কথা শোনায়। তখন থেকেই তার আসল পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ইচ্ছা হয়।

২৯ বছর বয়সে বাবা মায়ের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও একজন আইনজীবী নিয়োগ করে আসল পরিবারের খোঁজ করতে থাকে ফরিদাহ। এরপর নিজের ব্লগ চালু করে সেখানেও লেখালেখি করতে থাকে। তার জীবনের গল্প ইরানের মাশহাদের একটি পত্রিকাতেও পাঠায় এবং তা ছাপা হয়।

ইরান থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনটি পরিবার সাড়া দেয়। এজন্য কয়েকবার ইরান যেতে হয় ফরিদেহকে। কিন্তু ডিএনএ টেস্ট করার পরে ফরিদেহর সঙ্গে তা মিলে না। কিন্তু এত সাড়া এবং ভালোবাসা পেয়ে ফরিদেহর মনে হতে থাকে ৮০ মিলিয়ন মানুষই তার পরিবার।

দশটি সিনেমার শর্ট লিস্ট থেকে অস্কারের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে ‘ফাইন্ডিং ফরিদেহ’ ছবিটি। ‘ফাইন্ডিং ফরিদেহ’ ছবিটি ইরানের সিনেমা সেলিব্রেশন অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা ডকুমেন্টারির পুরস্কার পেয়েছে। অনেকগুলো বড় চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি আমন্ত্রিত হয়েছে।

অস্কারের এই ক্যাটাগরিতে ইরান এর আগেও দুইবার পুরস্কার জিতেছে। ২০১১ সালে ‘অ্যা সেপারেশন’ এবং ২০১৬ সালে ‘দ্য সেলসম্যান’ ছবি দুটি জিতে নিয়েছিল অস্কার।

Bellow Post-Green View