চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে

অপ্রতিরোধ্য করোনাভাইরাস এবং সেই ভাইরাস থেকে উদ্ভুত পরিস্থিতি সম্পর্কে এখন আর নতুন করে কিছুই বলার নেই। আগের বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা আর এই বছরে ভাইরাসটির তীব্র আক্রমণ এরই মধ্যে পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকেও শঙ্কিত করে তুলেছে। কেউই বলতে পারছে না; আগামীতে ঠিক কি অপেক্ষা করছে মানব জাতির সামনে। যদি এই পরিসরটি আরও ছোট করে আনা যায়- তাহলে বলা যায়, আমরা কেউই আসলে জানি না সামনের দিনগুলো কতটা কঠিন হয়ে আছড়ে পড়বে আমাদের ওপর।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল মানুষের মাঝে। সেই আতঙ্ক আরও তীব্র হয় ১৮ মার্চ। যখন করোনায় প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর খবরে। তারপর যা হলো তা আমরা সবাই জানি। ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর তা দফায় দফায় তা বেড়ে ৬৬ দিনে গিয়ে ঠেকেছিল। এক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে কিছু কিছু শিল্পকারাখানা ও প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আমরা জানি, সাধারণ ছুটির সেই দিনগুলো অনেকের কাছেই সুখকর ছিল না। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ কাজ হারিয়ে অসহায় অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছে। তখন আমরা লক্ষ্য করেছি, সরকার থেকে শুরু করে বড় বড় সংগঠনও তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছিল। হয়তো পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে ছিল না!

তবে সেই মানুষগুলোর পাশে ছিল সাধারণ মানুষ। যারা সমাজে নিম্ন-মধ্যবিত্ত নামে পরিচিত। তাদের কাছে যা ছিল, তাই নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এটা ঠিক, করোনাভাইরাসের ভয়ে তখন অনেকেই ছিল ভীত-সন্ত্রস্ত। জীবনের ভয়েই তারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেনি।

এটা গত বছরের চিত্র। বলতে গেলে তখন অনেক দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতির তুলনায় করোনাভাইরাস বাংলাদেশে কিছুই না। কিন্তু এবার শুরুতেই আরও শক্তিশালী হয়ে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে ভাইরাসটি। মৃত্যু আর শনাক্তের সংখ্যায় আগের সব রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে একে একে। এমন পরিস্থিতিতে এবার এখন পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা না করা হলেও ৯ দিনের জন্য ‘লকডাউন’ দিয়েছে সরকার।

সেটা আসলে শুধু নামেই ‘লকডাউন’ শুধু দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ আছে। আর সবকিছুই খোলা। এতে পরিস্থিতির উন্নতি না দেখে সরকার ‘কড়া লকডাউন’- এর পথে হাঁটছে। যার শুরু হবে ১৪ এপ্রিল থেকে। বলা হচ্ছে, এক সপ্তাহের জন্য তা হবে। কিন্তু পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। আগের বছরের অভিজ্ঞতায় বলা যায় তা বড়বে।

‘লকডাউন’ বা ‘কড়া লকডাউন’ যাইহোক না কেন; আমরা মনে করি মানুষের জীবন আগে। তবে সেই জীবন রক্ষা করতে গিয়ে জীবিকা হারানো অসহায় মানুষগুলোর পাশেও দাঁড়াতে হবে। আমাদের যার যেমন সামর্থ, তাই নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয় অর্জন সম্ভব। তা না হলে, আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।