চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাংকগুলোকে যুক্ত করার পরামর্শ

সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অঞ্চলের অবকাঠামোসহ নির্মাণাধীন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ব্যাংকগুলোকে সম্পৃক্ত করা দরকার।

পাশাপাশি সবগুলো অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন ইন ইপিজেড/ইজেড বাই ব্যাংকস’ শীর্ষক গবেষণা কর্মশালায় বিশ্লেষকরা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবীব।

প্রবন্ধে তিনি জানান, বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে মাত্র ৩৫ শতাংশ অর্থায়ন করা হয়। বাকি ৬৫ শতাংশ আসে ব্যাংকের এডি শাখা থেকে। নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় অর্থায়নে ভয় পাচ্ছেন ব্যাংকাররা। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, বেজা, হাইটেক অথরিটিগুলোর সমন্বয়ে একটি ফোরাম গঠনের পরামর্শ উঠে আসে সেমিনার থেকে।

বিজ্ঞাপন

আহসান হাবীব বলেন, এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে হলে যে পরিমাণ অর্থায়নের প্রয়োজন তা পূরণ করতে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকগুলো এখানে নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারলে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার। এজন্য ১০০টি সরকারি এবং বেসরকারি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাড়ানো।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকারদের বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। ব্যাংকারদের এলসি এবং আনুষাঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।

বিআইবিএম’র সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে দক্ষ জনবল তৈরি জরুরি। দক্ষ জনবল ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন। তিনি ব্যাংকারসহ সব খাতের কর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন।

সমাপনী বক্তব্যে বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং রপ্তানি ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। ইপিজেড এবং ইজেড এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

Bellow Post-Green View