চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই খুব ভালো: অর্থমন্ত্রী

বর্তমানে দেশের অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই উড়ন্ত এবং খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, গত এক যুগে দেশের অর্থনীতির অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে, যা রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।

সোমবার একাদশ জাতীয় সংসদের ১১তম অধিবেশনে দেয়া রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্নিবার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২১ সাল একটি বিশেষ বছর। এ বছর জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জন করবে।

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবে অভ্যন্তরীণ ও বিশ্ব অর্থনীতি বিরূপ প্রভাবও তুলে ধরেন। এ ছাড়া জিডিপির প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, রেমিট্যান্স রপ্তানিসহ দেশের অর্থনীতির অগ্রতির নানা সূচক নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, করোনার মতো এমন সর্বজনীন মন্দা বিশ্ব আর কখনো দেখেনি। এটা ত্রিশ দশকের মহামন্দার পরে সবচেয়ে বড় সংকট।

অর্থমন্ত্রী জানান, অপ্রত্যাশিত কোভিড-১৯ এর সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকার মোট ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যার বাস্তবায়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, করোনার প্রাথমিক অভিঘাত পার করে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক উত্তরণের পথে এগিয়ে চলছে। দুর্গতির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আশার কথাই শুনিয়েছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ অন্যান্য দাতা সংস্থা।

পুঁজিবাজারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে পুঁজিবাজারে পতন ঘটেছে। কিন্তু আমাদের সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে পুঁজিবাজারের মূল্যসূচক বেড়েছে ২৭ শতাংশ। অর্থনীতির আরেকটি চালিকা শক্তি আমাদের প্রবাসী আয়। করোনা-সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩ শতাংশ।

দেশের অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে মুস্তফা কামাল বলেন, ২০০৮ সালে জিডিপির আকার ছিল ৯১ বিলিয়ন ডলার। স্বাধীনতার পর ৩৮ বছর লেগেছিল বাংলাদেশের ১০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে। আর মাত্র গত ১২ বছরে তা তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিইবিআরের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। বাংলাদেশ বর্তমানে ৪১তম অর্থনীতির দেশ থেকে ২০৩০ সালে ২৮তম এবং ২০৩৫ সালে ২৫তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। তখন জিডিপির আকার হবে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি আয়ের অগ্রগতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, এক যুগে রপ্তানি আয় ছিল ১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলারে। প্রবাসী আয় ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ৭ গুণ বেড়ে ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন