চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অভিযোগকারী নারীকে বিয়ে, ধর্ষণ মামলার আসামির জামিন

অভিযোগকারী নারীকে বিয়ে করার পর ধর্ষণ মামলায় কারাবন্দী আসামিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামি জহিরুল ইসলাম জিয়াকে ১ বছরের জামিন দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরোয়ার হোসেন বাপ্পী। আর আসামি পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আদেশের আগে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেন, ‘এবিষয়ে দু-একটি পত্রিকার লেখা হয়েছে “ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ে।” এভাবে তো রিপোর্ট হওয়া উচিত না। আমরাতো মনে হচ্ছে নানা ভাবে সমালোচিত হচ্ছি। আবার নারীবাদী কিছু সংগঠন বলছেন এধরনের আদেশে ধর্ষকরা উৎসাহিত হবে।’ এসময় আসামি পক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, যে যাই বলুক এই বিয়েতে মানুষ খুশি হয়েছে। এধরনের আদেশ হওয়া দরকার।’ একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আদেশ এমন কিছু একটা দেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে এদের সংসারে সমস্যার সৃষ্টি না হয়। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে আদালত বলেন, ‘আমরা এমনও দেখছি বিয়ের ১৫-২০ বছর পরও সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। আমারা আদেশ দিয়ে কি সংসার ঠিক রাখতে পারব? আন্ডারস্ট্যান্ডিংই হচ্ছে একটা সংসারের আসল বিষয়। আর প্রযুক্তির কারণেই হোক বা ফেসবুকের কারণেই হোক আমাদের সমাজে এমন অবস্থা হয়েছে যে সংসার গড়তেও সময় লাগে না, ভাঙতেও সময় লাগে না। দেশে ডিভোর্সের হারও অনেক বেড়ে গেছে।’

বিজ্ঞাপন

গত ২৭ মে ফেনীর সোনাগাজীর এক তরুণী স্থানীয় জহিরুল ইসলাম জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। এরপর গত ২৯ মে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে সোনাগাজী থানার পুলিশ। পরবর্তীকালে জহিরুল ওই তরুণীকে বিয়ে করবেন বলে তার পক্ষে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।

সে আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট দুই পক্ষের সম্মতি থাকলে জহিরুল ও ভুক্তভোগী তরুণীর বিয়ের ব্যবস্থা করতে ফেনীর জেল সুপারের প্রতি নির্দেশ দেন। এরপর গত ১৯ নভেম্বর সকালে মিষ্টি নিয়ে দুই পক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ আইনজীবীরা ফেনী কারাগারের ফটকে হাজির হন। ওইদিন দুপুরে ৬ লাখ টাকা দেনমোহর ১ লাখ উশুল ধার্য করে বর ও কনেসহ দুই পক্ষের উপস্থিতিতে কারাফটকে আলোচিত বিয়েটি সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর মিষ্টিমুখ করে দুই পরিবারের সদস্যরা কোলাকুলি করেন।

পরবর্তী সময়ে এই বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদন দিয়ে হাইকোর্টকে অবহিত করা হয়। এরপর আদালত আজ আসামি জহিরুল ইসলাম জিয়াকে ১ বছরের জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। এসময় আদালত বলেন, ‘আমরা আশা করব যে, তাদের সংসারটা ভালই হবে।’