চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অভিনয় না করলে না খেয়ে মরতে হবে: সাইমন

রবিবার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিতে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক…

ঢাকাই ছবিতে পা রেখেই আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। তার ক্যারিয়ারের শুরুর ছবি ‘পোড়ামন’ দেখতে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সর্ব মহলে প্রশংসিত হয় তার অভিনয়। প্রযোজকের প্রত্যাশা ছাপিয়ে সুপার হিট হয় ছবিটি। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। করে গেছেন একের পর এক ছবি। এবার এলো তার অভিনয় জীবনে সর্বোচ্চ প্রাপ্তির খবর! হ্যাঁ, গেল বছর মুক্তি পাওয়া ‘জান্নাত’ ছবির জন্য এই চিত্রনায়ক প্রথমবারের মতো স্পর্শ করতে যাচ্ছেন ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। রবিবার (৮ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবেন তিনি। তার আগে চ্যানেল আই অনলাইনের মুখোমুখি এই নায়ক:   

অল্প সময়ের ক্যারিয়ার। এরইমধ্যেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন। কীভাবে দেখছেন বিষয়টি?
আমার অল্প জীবনে সেরা অর্জন। অনেকটা স্বপ্নের মতো। ভাবিনি বাণিজ্যিক ধারার ছবিতে কাজ করে এতো অল্প সময়ে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাবো। এই অর্জনের পর আরও বেশি দায়িত্ববোধ কাজ করছে। দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কয়েকটি ছবির প্রস্তাব এলেও করিনি। মনে হয়েছে রাষ্ট্র আমাকে যে সম্মান দিচ্ছে আমি ওসব ছবি না করলেও পারি! নিজের ক্যারিয়ারে যত্নশীলতা বেড়েছে, সেইসাথে দায়িত্ববোধ তো আছেই।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন এটা নিশ্চিত হয়েছিলেন কখন, খবরটি কাকে প্রথম জানিয়েছিলেন?
সরকারিভাবে ঘোষণার পর পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত হই। আগে থেকে এর ওর মুখে শুনেছিলাম আমি পেতে যাচ্ছি। কিন্তু উড়ো কথায় কান দেইনি। পুরস্কার পাওয়ার খবর প্রথম জানিয়েছি আমার বাবা-মাকে। এরপর জানাই আমার ওস্তাদকে (জাকির হোসেন রাজু)।

প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র অর্জন করছেন। কাউকে উৎসর্গ করছেন?
পুরস্কার প্রদান রবিবার (৮ ডিসেম্বর)। পুরস্কার হাতে পেলে গেটটুগেদার করবো। সেখানে ঘোষণা দিয়ে আমার পুরস্কারটি উৎসর্গ করবো। তার আগে জানাবো না।

শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার পেল আপনার অভিনীত ‘জান্নাত’। মুক্তির পর ওই ছবির ব্যবসা কেমন ছিলো?
‘জান্নাত’-এর মুক্তি সঠিক সময়ে করতে পারিনি। ঈদে মুক্তি পেয়েছিল। মুক্তির তিনদিন আগে প্রযোজক কনফার্ম করেন তিনি ঈদেই মুক্তি দিবেন। তারমধ্যে ঈদে অন্য ছবি মুক্তির জন্য বুকিং হয়ে যায়। ওই হিসেবে মাত্র ২২ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছিল। এক সপ্তাহের মাথায় সাতক্ষীরার একটি হলে স্থানীয় কিছু দুষ্টু লোক ধর্মীয় অনুভূতির ছুতোয় প্রদর্শন বন্ধ করে দেয়। তবে ছবি ভালো ছিল বিধায় মুক্তির দুই সপ্তাহের মাথায় ৫২ হল পায় ‘জান্নাত’। এভাবেই ধীরেধীরে মোটামুটি ব্যবসা করে ছবিটি।

চলতি বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন ছাড়া আপনার সাফল্যের পাল্লায় সিনেমা মুক্তির সংখ্যা এখনো শুন্য, কেন?
এবছর আমার কোনো ছবি মুক্তি পায়নি, এটা খুবই দুঃখজনক। গত ফেব্রুয়ারিতে ‘নদীর বুকে চাঁদ’ ছবির ডাবিং শেষ করি। এপ্রিলে ‘বাহাদুরি’র পুরো কাজ শেষ করি। এ দুটো ছবি মুক্তির কথা ছিল। হয়তো পরিচালকের সমস্যার কারণে মুক্তি পাইনি। ‘আনন্দ অশ্রু’ নামে আরও এক ছবি শিডিউল জটিলতায় পড়ে আটকে ছিল। মার্চেই বেশিরভাগ কাজ শেষ করেছিলাম। সামান্য কাজ বাকি ছিল, গতসপ্তাহে শেষ করেছি। কিন্তু ছবি মুক্তি না পাওয়ার দুঃখবোধ ছাপিয়ে গেছে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি। নইলে নিজের মধ্যে ভীষণ কষ্ট কাজ করতো।

ক্যারিয়ারের এমন রাইজিং পিরিয়ডে কাজ নিয়ে তো আপনার আরও ব্যস্ত থাকার কথা…!
আমি চাইলেই ব্যস্ত থাকতে পারবো এমন না। অনেকেই প্রযোজক আনার কথা বলে। কিন্তু আমি প্রযোজক এনে কাজ করা নায়ক না। আমাকে পরিচালকরা সিলেক্ট করেন। তারা যেভাবে চান আমি সেভাবেই কাজ করি। আগের তিনটি ছবি ছাড়া ‘গোপন সংকেত’ এবং ‘আমার মা আমার বেহেশত’ নামে আরও দুটো ছবি হাতে আছে। ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা ভালো হলে হয়তো আরও বেশি ব্যস্ত থাকতাম।

নতুন সিনেমা হাতে নেওয়ার আগে কোন বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখছেন?
পরিচালক ও চিত্রনাট্য। কিন্তু শেষ কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি ছবির প্রস্তাব ‘না’ করে দিয়েছি। আরও চুজি হয়েছি। তবে আমি সোজাসুজি বলছি অভিনয় আমার একমাত্র পেশা। গর্ব করে সবখানেই এটা বলি। অভিনয় না করলে না খেয়ে মরতে হবে। তাই বেশি বাছাবাছি করলে আবার সমস্যা!

বললেন অভিনয়ই আপনার একমাত্র পেশা। কিন্তু অনেকদিন তো আপনার ছবি পাচ্ছে না দর্শক। তাহলে মেইনটেন করছেন কীভাবে?
একভাবে সৃষ্টিকর্তা চালিয়ে নিচ্ছেন। আমি বেশ ভালো আছি। কোনো সমস্যা নেই।

শোনা যায়, সিনেমার ময়দান থেকে আপনার মনোযোগ দিনদিন রাজনীতির ময়দানে যাচ্ছে?
নাতো! শেষ কয়েকমাস আমি পলিটিক্যাল কোনো ইস্যুতে কথা বলিনি। এমনকি নিজের ফেসবুকে কোনো পলিটিক্যাল পোস্টও দেইনা। পলিটিক্সে মন দিলে শিল্পী সমিতির নির্বাচন করতাম, করিনি। নির্বাচনের আগে আমার মনে হয়েছে বেঁচে থাকলে এগুলো আগামীতে অনেকবার করা যাবে। বর্তমানে যে সময় যাচ্ছে তাতে আগামী অন্তত পাঁচ বছর আমাকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে।

এফডিসিতে সিনেমার কাজ কমেছে। কিন্তু বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রম বেড়েছে। কীভাবে দেখেন?
সবার কাজ তো সিনেমা করা না। আর এতো বড় জায়গা এখানে অন্যান্য কার্যক্রম হবে না কেন? সংগঠনের কাজ সংগঠন করবে। পরিচালক, প্রযোজকদের কাজ তারা করবে। ভালো ছবি বানাতে গেলে ভালো প্রযোজক লাগবে। কিন্তু সংগঠন বর্জন করে কাজ নয়। সংগঠন না থাকলে আবার ঝিঁমিয়ে পড়ার মতো ব্যাপার হবে।