চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অভিনব কৌশলে ক্যাসিনো সরঞ্জাম আনে ৫ প্রতিষ্ঠান

জড়িত আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ চলছে

অভিনব কৌশলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে এদেশে ক্যাসিনো নিয়ে আসে। কখনো  জুতার সরঞ্জাম বা কম্পিউটার, আবার কখনো মোবাইলের যন্ত্রাংশ কিংবা আসবাবপত্র আমদানির নামে আনা হয় এসব ক্যাসিনো।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

শুল্ক ও কর পরিশোধের ক্ষেত্রেও দেওয়া হয় মিথ্যা তথ্য। খেলার সামগ্রী ‘এইচএস’ কোড ব্যবহার করে ক্যাসিনোর বিভিন্ন সরঞ্জাম আমদানি করা হয়।

এসব ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানিতে এনবিআর যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সেগুলো হলো; এ এম ইসলাম অ্যান্ড সন্স, নিনাদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ, এথ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও বসুন্ধরা পেপার মিলস।

জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের নথি ঘেঁটে প্রাথমিকভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানির তথ্য পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন

তবে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন, এর বাইরেও আরও অনেক প্রতিষ্ঠানই ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানির সাথে জড়িত রয়েছে। সেগুলোকে খুঁজে বের করা হচ্ছে।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর বলছে, মূলত চীন থেকেই রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেম টেবিল, ওয়ার গেম টেবিল জাতীয় ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানি করা হয়। এছাড়াও ক্যাসিনো চিপস, রেসিং কার্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জামও একইভাবে আনা হয়। এসব মেশিনের দাম ১ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বরে এ এম ইসলাম অ্যান্ড সন্স জুতার সরঞ্জাম ও মোবাইল যন্ত্রপাতির ঘোষণা দিয়ে ক্যাসিনো চিপস ও রেসিং কার্ড আমদানি করে। সাউথ ইস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলে এসব সরঞ্জাম আমদানি করা হয়। এতে এ এম ইসলাম সরকারকে শুল্ক এবং ভ্যাটও দিয়েছে।

২০১৮ সালের মে মাসে নিনাদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার মাদারবোর্ড আমদানির ঘোষণা দিয়ে এবং এথ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ সালের আগস্টে জন্মদিনের সরঞ্জাম আনার নামে রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেম, ক্যাসিনো ওয়ার গেম টেবিল আমদানি করে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতির অধীনে খেলার সামগ্রী আমদানির ‘এইচএস’ কোড ব্যবহার করেই এসব ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানি করা হয়। এই কোড অনুযায়ী খেলনা জাতীয় সরঞ্জাম আমদানি করা যায়। এতে মোট ৬০ দশমিক ৩১ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়: শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর, বেনাপোল স্থল বন্দর, ঢাকা কাস্টমস হাউস, কমলাপুর আইসিডি হয়ে ক্যাসিনো জাতীয় সামগ্রী খালাস করা হয়।

Bellow Post-Green View