চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অবশেষে অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের পক্ষে বিবৃতি ঢাবি শিক্ষক সমিতির

দুধ নিয়ে গবেষণার ফলাফল প্রকাশের পর একজন অতিরিক্ত সচিব কর্তৃক হুমকি প্রদান এবং তা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড়ের প্রায় মাস খানেক পরে এসে অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন তারই নিজ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আ. ব. ম. ফারুককে সচিবের হুমকি এবং তার সঙ্গে রূঢ় ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ.এস.এম.মাকসুদ কামাল এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়: সম্প্রতি অধ্যাপক ফারুকের পর পর দু’টি গবেষণায় বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিকসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এর পরই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব গবেষণা-বিশ্লেষণকে ভুল এবং অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ৭১ টেলিভিশনের একটি টক-শোতে অধ্যাপক ফারুকের সঙ্গে ওই সচিব যে রূঢ় ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন, তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও শিষ্টাচার বহির্ভূত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে আরো বলা হয়: কোনো গবেষণার ফলাফল ভুল অথবা শুদ্ধ, তা পাল্টা গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়। মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে গবেষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার যে হুমকি দিয়েছে, তা যে কোনো গবেষকের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন গবেষকদের গবেষণায় নিরুৎসাহিত করবে এবং তাতে জাতির প্রভূত ক্ষতি হবে বলে শিক্ষক সমিতি মনে করে।
এতে বলা হয়, সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ জনস্বার্থ সম্পর্কিত যে কোনো বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা পর্যালোচনা করবে- এটাই স্বাভাবিক। জ্ঞান অন্বেষণ ও বিশ্লেষণের ফলাফল জনস্বার্থে প্রকাশ করা যে কোনো গবেষকের দায়িত্বের অংশ এবং মৌলিক অধিকার। অধ্যাপক আ. ব. ম. ফারুক জনস্বার্থেই তার গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেছেন। আর কোনো জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার আগে কোনো গবেষণার ফলাফল সভা, সেমিনার ও সম্মেলনে প্রকাশ করা যাবে না- এ ধারণাটিও সঠিক নয় বলে মনে করে ঢাবি শিক্ষক সমিতি।

গত ২৫ জুন ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ফারুক তার গবেষণার মাধ্যমে দুধে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতির কথা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তিনি হুমকির মুখোমুখি হলে দ্বিতীয় দফা গবেষণা করেন। আর  ১৩ জুলাই অধ্যাপক ফারুক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপিতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় দুধের নতুন ১০টি নমুনার ১০ টিতেই অ্যান্টোবায়োটিক মিলেছে। ১০ টি নমুনার মধ্যে ৩ টিতে অ্যান্টোবায়োটিক পাওয়া গেছে ৪ টি, ৬ টিতে অ্যান্টোবায়োটিক পাওয়া গেছে ৩ টি এবং ১ টিতে অ্যান্টোবায়োটিক পাওয়া গেছে ২ টি।

এরপরও অধ্যাপক ফারুকের গবেষণা নিয়ে নানা হুমকি আসার প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি সহ নানা মহল থেকে অধ্যাপক ফারুকের পক্ষে বিবৃতি, বক্তব্য ও মানববন্ধন করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কোনো বিবৃতি আসছিলো না। অবশেষে ঘটনার প্রায় মাস খানেক পরে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এই বিবৃতি পাঠানো হয়।

Bellow Post-Green View