চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অহেতুক আলোচনার অংশ হতে চাই না: শবনম ফারিয়া

গত আগস্টেই আলোচিত ই-কমার্স প্লাটফর্ম ইভ্যালির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তার পদ ছেড়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমনটাই দাবি করছেন এই অভিনেত্রী।

গত জুন মাসে দেশের সুপরিচিত এই ই-কমার্স প্লাটফর্মের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ফারিয়া। এর পর থেকে ইভ্যালি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও গ্রাহকের পণ্য সময়মতো পৌঁছে না দিতে পারায় তোপের মুখে পড়তে থাকে। সবদিক বিবেচনা করে আগস্টে এই প্রতিষ্ঠান থেকে স্বেচ্ছায় সরে যান ফারিয়া।

শনিবার সন্ধ্যায় পাঠানো এই বিবৃতিতে ফারিয়া উল্লেখ করেন, ‘কিছু বিষয় এখন পরিস্কার করার সময় এসেছে। আমি জুন-জুলাই এই দুই মাস একটি “ই কমার্স সাইটে” তাদের গণসংযোগ বিভাগে কাজ করেছি। আমি সেখানে যোগদানের ১৫ দিন পর থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি রিপোর্ট চলে আসায় তাদের কার্যক্রম অনেকটাই কমে এসেছিল। জুলাইয়ের পর আমার দাপ্তরিক কোন কাজই ছিল না! তাই আগস্টে আমি চাকরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তে আসি।’

আত্মপক্ষ সমর্থন করে ফারিয়া জানান, ‘আমি কখনও প্রকাশ্যে কোথাও এই কোম্পানি প্রমোট করিনি। কখনো বলিনি আপনারা বিশ্বাস রাখেন কিংবা আস্থা রাখেন। কারণ সেখানে দাপ্তরিক কাজের বাইরে আমার কোনো কিছু প্রচার প্রকাশের কোনো চুক্তি ছিল না। যেহেতু আমি পেশায় অভিনেত্রী সুতরাং আমাকে কোন কোম্পানির প্রচারে কাজে অংশ নিলে আলাদা সম্মানি দিতে হয়। সেখানে সেই সুযোগ নেই।’

চাকরি ছাড়ার বিষয়টি কেন জানাননি, এ বিষয়ে ফারিয়া যুক্তি উপস্থাপন করেন এভাবে, ‘কারণ আমি অহেতুক আলোচনার অংশ হতে চাইনি। আরিফ আর হোসাইন ভাই যখন বললেন, তিনি আর এখানে কাজ করছেন না। তখনও আপনারা তাকে নিয়ে ট্রোল করলেন। চাকরি ছাড়লেও সমস্যা, কাজ করলেও সমস্যা! কোথায় যাবো? অপ্রয়োজনীয় আলোচনার অংশ হতে ভাল লাগে না। কিন্তু আমার ভাগ্য এতো খারাপ কেন যেন আমারই সবসময় আলোচনা/সমালোচনায় পড়তে হয়।’

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে তিনি কিছু প্রকাশিত সংবাদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘কিছু গণমাধ্যম লিখছে আমি নাকি অভিযোগ করেছি বেতন পাইনি! কাকে অভিযোগ করেছি? কখন অভিযোগ করেছি? কীভাবে করেছি? এই প্রমাণ কেউ দিচ্ছে না! আমার অভিযোগ থাকলে সেটা আমি প্রতিষ্ঠানটির এইচআর ডিপার্টমেন্টে করবো। সাংবাদিক ভাইদের কেন করবো? তারা কি আমাকে বেতন দেবে?’

ইভ্যালি নিয়ে আশা প্রকাশ করে শবনম ফারিয়া আরো বলেন, ‘আমি যেই কোম্পানিতে কাজ করেছি তারা এখন একটা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আশা করবো তারা সব দায় পরিশোধ করে করে গ্রাহকদের পাশে থাকবে!’

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আটক করেছে র‍্যাব। বুধবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার গুলশান থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন একজন গ্রাহক।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ি, শুক্রবার দুপুরে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাত মামলায় ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে ৩ দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

এর আগে, গুলশান থানা থেকে সিএমএম কোর্টে হাজির করা হয় তাদের। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

বিজ্ঞাপন