চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অপেক্ষার অবসান, সবার জন্য ‘নবারুণ’

‘যে পিতা সন্তানের লাশ সনাক্ত করতে ভয় পায়, আমি তাকে ঘৃণা করি/ যে ভাই এখনও নির্লজ্জ স্বাভাবিক হয়ে আছে, আমি তাকে ঘৃণা করি/ যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরাণী/ প্রকাশ্য পথে এই হত্যার প্রতিশোধ চায় না,আমি তাকে ঘৃণা করি’। প্রতিবাদ আর ক্ষোভে ফুঁসে উঠে কবিতায় যিনি বজ্রকণ্ঠে বলতে পারতেন, ‘এই মৃত্য উপত্যকা আমার দেশ না’-তিনি নবারুণ।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি ও কথাসাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য। কমিউনিস্ট ধারার এই সাহিত্যিকের লেখা থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে একাধিক। এরমধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘হারবার্ট’ ও ‘কাঙাল মালসাট’। এদিকে তাঁর জীবন যাপন নিয়েও চেনা ছকের বাইরের এক অন্যরূপ ফুটে উঠেছে ডকুমেন্টারি!

বিজ্ঞাপন

নবারুণকে নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন ‘তাসের দেশ’ খ্যাত কলকাতার আলোচিত নির্মাতা কৌশিক মুখার্জী। চলচ্চিত্রাঙ্গনে যিনি কিউ নামেই বেশি পরিচিত।

নবারুণকে নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটির জন্য বহু বছর ধরে অপেক্ষায় ছিলেন বাংলা ভাষাভাষি মানুষেরা। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব কিংবা চলচ্চিত্র ও সাহিত্যি সংগঠনের উদ্যোগে ভারতের বিভিন্ন সময়ে প্রদর্শীত হলেও অন্তর্জালে মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন দর্শক। বহু বছর ধরে অপেক্ষার পর এবার অনলাইনে উন্মুক্ত করা হলো।

গেল জুলাই মাসে নবারুণকে নিয়ে নির্মিত এই ডকুমেন্টারিটি ঢাকায় দেখানো হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন চলচ্চিত্র আন্দোলন ও লিটল ম্যাগ ‘ডানার করাত’-এর যৌথ আয়োজনে চলচ্চিত্রটি নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন সুরজিত। তখনই তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছিলেন যে, শিগগির ডকুমেন্টারিটি সবার জন্য অডজয়েন্ট-এর ইউটিউব চ্যানেলেই উন্মুক্ত হবে।

অবশেষে সোমবার উন্মুক্ত হলো ‘নবারুণ’। যা দেখে বহু দর্শক তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। অনেকে বলছেন, প্রায় এক দশকের অপেক্ষার অবসান! অনেকে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানাচ্ছেন।

২০১২ সালে ‘নবারুণ’ তথ্যচিত্রটির কাজ শুরু করেছিলেন কিউ। তখন কলকাতার গণমাধ্যমে এই তথ্যচিত্রটি নিয়ে নির্মাতা বলেছিলেন, আমি যে নবারুণের ওপর তথ্যচিত্র বানাবো সেটাই তো স্বাভাবিক৷ একদিন মনে হল, ‘আরে! এটাই তো আমার করা উচিত৷ এতদিন করিনি কেন?’ এখন মনে হয়, ভাগ্যিস! আমার জীবনের অন্য সব কিছুর মতো এটা দেরি করিনি, সময়মতো শুরু করেছিলাম। অন্তত এটাতে কিছুটা সেন্স কাজ করেছে! নবারুণ দা আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন কথাটা শুনে। আমার কাজ সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিলো। আমারই খারাপ লাগছে যে উনি শেষ কাজ দেখে যেতে পারলেন না৷

২০১৪ সালের ৩১ জুলাই মৃত্যু বরণ করেন সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী ও বিজন ভট্টাচার্যের পুত্র নবারুণ ভট্টাচার্য।

Bellow Post-Green View