চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অনেকের বিবেক নাড়িয়ে দিচ্ছে ট্রল, এটাই আমার সফলতা: সঞ্জয়

সাড়া জাগিয়েছে সিনেমাটিক অ্যাপে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ওয়েব ফিল্ম ‘ট্রল’

সংখ্যায় ২৫টির মতো নাটক নির্মাণ করেছেন সঞ্জয় সমদ্দার। এরমধ্যে ‘যে শহরে টাকা ওড়ে’, ‘গেইম ওভার’, ‘পলিটিক্স’, ‘আপনার ছেলে কী করে?’ ‘শিফট’, ‘ভালো থাকুক ভালোবাসা’, ‘সুখ পাখি’র মতো আলোচিত কাজ দিয়ে নির্মাণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দেশের নামী আইটি প্রতিষ্ঠান লাইভ টেকনোলজিসের সিনেম্যাটিক অ্যাপে মুক্তি পেয়েছে সঞ্জয়ের সমদ্দারের সাড়া জাগানো ওয়েব ফিল্ম ‘ট্রল’।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তামজিদ অতুল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ট্রল’ মুক্তির অল্পদিনে লক্ষাধিক মানুষ দেখে সাফল্য এনে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি আত্মবিশ্বাস রেখে বলেন, ‘জানোয়ার’ এর পরেই ‘ট্রল’ও হিট হয়েছে। তার কথা, বাংলাদেশে তো নয় ভারতের কোনো অ্যাপেও ব্যাক টু ব্যাক কনটেন্ট হিট হয়নি। যেটির শুরু মাত্র বাংলাদেশের সিনেম্যাটিক অ্যাপ করতে পেরেছে। ব্যাপকভাবে উৎসাহ পেয়েছি। আগামী মাসে গোলাম সোহরাব দোদুলের পরিচালনায় চঞ্চল চৌধুরীর ‘ডার্ক রুম’ এবং আশফাক নিপুণের ‘জিরো টলারেন্স’ নামে নতুন দুটি ওয়েব ফিল্ম মুক্তি দিচ্ছি। পাশাপাশি দুটো বাংলাদেশি সিনেমাও থাকবে।

ট্রল এর শুটিংস্পটে অভিনেতা অপূর্বর সঙ্গে নির্মাতা

সোশ্যাল মিডিয়া ঘিরে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে ট্রলের শিকার হচ্ছেন মানুষ। মিডিয়াতে যারা কাজ করেন তারা নানাভাবে সবচেয়ে বেশি হেয় হচ্ছেন। যে বা যারা ট্রলের শিকার হচ্ছেন, তাদের অনেকেই মানসিকভাবে চরম অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে মনোযোগ, আগ্রহ হারাচ্ছেন কাজে। শুধু তারকাই নন, সাধারণ কোনো নারীর জীবনও শেষ প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে এসব ট্রল বা বিভিন্ন ব্ল্যাকমেইলিং এর কারণে। আর এসবের প্রতিবাদ স্বরূপ সচেতনতার বার্তা দিতেই ‘ট্রল’ ওয়েব ফিল্ম বানিয়েছেন সময়ের অন্যতম চাহিদা সম্পন্ন নির্মাতা সঞ্জয় সমদ্দার।

চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে আলাপে নির্মাতা কাজটি নিয়ে কথা বলার সময় বারবার আবেগপ্রবণ হচ্ছিলেন। বলছিলেন, দর্শক এতোটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে ভাবিনি। ইউটিউবের মতো উন্মুক্ত প্লাটফর্মে নয়, টাকা দিয়ে অ্যাপ থেকেও লক্ষাধিক দর্শক কনটেন্ট দেখছেন। কাজটি যেমন প্রশংসা এনে দিচ্ছে, তেমনি যারা এটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন সফল হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অনেকের বিবেক নাড়িয়ে দিচ্ছে ট্রল। তারা সেসব কথা আমাকে জানাচ্ছেন। কাজের দিক থেকে এটাই আমার সফলতা।

শোবিজ অঙ্গনে জড়িত যে কোনো নারীর ফেসবুক পোস্ট এবং বিভিন্ন নিউজ পোর্টালের কমেন্ট বক্সে চোখ দিলেই দেখা যায় বিকৃত সব মন্তব্য। অধিকাংশ মন্তব্যই ফেইক আইডি ব্যবহার করে করা হয়। কিন্তু এ বিষয়টি নৈমিত্তিক ব্যাপার হিসেবে দাঁড়িয়েছে। মজা করারও একটা সীমা থাকা উচিত, এটা অনেকেই ভুলে গেছে। সেলিব্রেটি অভিনেত্রী হিসেবে ট্রল ও ব্ল্যাকমেইলে হয়রানির শিকার হওয়া চরিত্রে অভিনয় করেন তাসনিয়া ফারিন। ট্রলের শিকার ও গোপন ভিডিও ফাঁস হয়ে ট্রলকারীদের হন্যে হয়ে খুঁজে ঠাণ্ডা মাথার খুনী চরিত্রে অভিনয় করছেন অপূর্ব। এছাড়া আরও অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, জামশেদ শামীম, নাজমুস সাকিব, স্বাধীন প্রমুখ।

কাজের মধ্য দিয়েই হোক প্রতিবাদ, সেটাই করে দেখালেন নির্মাতা সঞ্জয়।তিনি বলেন, ট্রলের ক্ষেত্রে সহানুভূতির চেয়েও সমানুভূতি প্রয়োজন। একই কাজ যদি কেউ আমার ক্ষেত্রে করে তাহলে আমার কেমন লাগবে এই বোধটা তৈরি হওয়া দরকার। বিধায় কনটেন্টের মধ্যে এই জিনিসটাও দেখিয়েছি যে শাস্তি দেয়ার আগে অপূর্ব প্রজেক্টরে দেখায় ‘ইফ ইটস ইন কেইস অব ইউ’। তোমার সঙ্গে বা তোমার পরিবারের কারো সঙ্গে এমন ঘটলে কেমন লাগবে? তখন অপরাধী নিজের ভুল বুঝতে পারে। এভাবেই আমি যারা ট্রল বা সোশ্যাল মিডিয়াতে সাইবার ক্রাইম করে তাদের বিবেক নাড়া দিতে চেয়েছি। এটাই আমার উদ্দেশ্য ছিল।

তবে ব্যক্তিগত জীবনে ট্রল নিয়ে নির্মাতা সঞ্জয়ের কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা নেই বলেও জানালেন। বললেন, আমার নিজের অভিজ্ঞতা নেই কিন্তু আমাদের সেলিব্রেটিরা প্রতিনিয়ত ট্রলের মাধ্যমে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। সোশ্যাল ইস্যু সামনে এনে এ কাজটি করেছি বলে মানুষ খুব প্রশংসা করছে। যারা এখানে কাজ করেছেন প্রত্যেকেই খুব হ্যাপী।

তিনি আরো বলেন, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেও জানিয়েছেন এই কনটেন্ট ম্যাসিভ হিট। আমি নিজেও একটু বেশি খুশী কারণ দর্শক পাইরেসি বন্ধ করে বৈধভাবে কনটেন্ট দেখছেন। আমাকে বিষয়টি স্পর্শ করেছে। কনটেন্ট ভালো হলে দর্শক নিজেই  সাপোর্ট দেয় তা আমি অনুভব করছি।

দর্শক কাজ দেখে বিচার করুক, এমন অনুরোধ জানিয়ে সঞ্জয় সমাদ্দার বলেন, আমি খুব বেশি কাজ না করলেও সবসময় কাজের মধ্যে থাকি। সংখ্যায় অনেক কাজের চেয়ে সবসময় ঠিকঠাক ভাবে কাজ করা জরুরী। আরেকটা জিনিস সবসময় খেয়াল রাখি, আমার কাজগুলো মানুষ সবসময় দেখুক। ভালো হলে ভালো বলুক, খারাপ হলে সেটাও বলুক। গঠনমূলক সমালোচনা করলে আমার ত্রুটিগুলো পরের কাজের জন্য শুধরে নেয়ার সুযোগ থাকবে। স্ট্যান্ডবাজি, ফলস মার্কেটিং এসবের মধ্যে কোনো সময়ই আমি ছিলাম না, আগামীতেও থাকবো না। কাজ দেখে মানুষ আমাকে বিচার করুক।

সঞ্জয় সমাদ্দারের বেশিরভাগ কাজই থ্রিলার ধর্মী। এ ধরনের কনটেন্ট তিনি বেশি বানান কেন জানতে চাইলে বলেন, আমি টানটান গল্প বলতে পছন্দ করি। তাছাড়া থ্রিলার গল্পের চাহিদা সবসময়ই। ব্যক্তিগতভাবে এই ধরনের কাজের প্রতি দুর্বলতা কাজ করে। সেজন্য আমি সবসময় বলি, আই লাভ টু মেক থ্রিলার। যোগ করে বলেন, ভালো কনটেন্ট টাকা দিয়ে দেখার যে চর্চাটা তৈরি হয়েছে এটা অব্যাহত থাকুক। আগামীতে ইন্ডাস্ট্রি এর সুফল অবশ্যই পাবে। ফলে আরও ভালো ভালো কনটেন্ট তৈরি হবে।