চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীরা কোথায় গেল?

প্রায় সাড়ে ৮ মাস অপেক্ষা আর করোনার মতো প্রবল শক্তিশালী ভাইরাস জয় করে ২২ লাখেরও বেশি এসএসসি পরীক্ষার্থী হলে বসে পরীক্ষা দিয়েছে- এমন স্বস্তির খবরে দেশের মানুষ যখন উচ্ছ্বসিত, তখন আরেক মন খারাপ করা খবরে অভিভাবকদের পাশাপাশি দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলেও। তার কারণ- এসএসসি পরীক্ষায় গত দুই দিনে ২৭ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত।

এমন হতাশার খবর প্রথম এসেছিল পরীক্ষা শুরুর দিনই। সেদিন পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষায় সারাদেশের অনুপস্থিত থাকে ৩ হাজার ৫৪৮ জন পরীক্ষার্থী। পরের পরীক্ষা অনুপস্থিতির হার কয়েকগুণ বেড়ে হয় ২৩ হাজার ৫৫৩ জন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য বলছে, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হওয়া পরীক্ষায় মাত্র দুইদিনেই ২৭ হাজার ১০১ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থেকেছে।

শুরুর দিকেই অনুপস্থিতির এমন চিত্র কি এখানেই থেমে থাকবে? এর উত্তরে নিশ্চিত করেই বলা যায়- না। কারণ শেষ পরীক্ষা পর্যন্ত এই সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা সেটাই বলে। পরীক্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিদিনই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছু না কিছু কমেছে। তবে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও বলা যায়; আগের পরীক্ষাগুলোতে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর হার এত ব্যাপক ছিল না।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এবছরের পরীক্ষায় তা কেন বাড়লো? নিশ্চিত করে বলা যায়; করোনাভাইরাস তার একটা বড় কারণ। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনুপস্থিত মেয়ে শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। আবার সংসারের অভাবে বা আর্থিক সংকটে ছেলে শিক্ষার্থীদের একটা অংশও পরীক্ষায় বসতে ব্যর্থ হয়েছে। এ নিয়ে আরও গবেষণা-জরিপের ফলাফল অবশ্যই আরও নতুন নতুন তথ্য সামনে নিয়ে আসবে।

‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের’ তাদের এক জরিপে বলছে, করোনাকালে দেশে বাল্যবিবাহ বেড়েছে ৫০ শতাংশ। যাদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বিয়ে হয়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ মেয়ের। এর বড় কারণ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়াও পরিবারের আয় কমে যাওয়া এবং মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতাকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমরা মনে করি, নীতিনির্ধারকরা বিষয়টির আরও গভীরে গিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করবেন। তবে তার আগে প্রয়োজন পারিবারিক এবং সামাজিক সচেতনতা। বিশেষ করে বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে। তা না হলে এমন অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বছরের পর বছর বাড়তেই থাকবে।

বিজ্ঞাপন